গোয়ালপোখরের গ্রামগঞ্জে দেওয়াল জুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতীকের রঙিন দখলদারি যতই চোখে পড়ুক, বাস্তবের ছবিটা কিন্তু একেবারেই ভিন্ন। ভোটের আবহে যত প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, ততটাই ফাঁকা মানুষের প্রাপ্য মৌলিক অধিকার—শিক্ষার পরিকাঠামো। বছরের পর বছর ধরে কলেজের দাবিতে সরব স্থানীয় মানুষ, অথচ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কার্যত সম্পূর্ণ ব্যর্থ,এমনটাই অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের।
গাছতলায় বসে থাকা এক প্রৌঢ়ের ক্ষোভ যেন গোটা এলাকার প্রতিচ্ছবি। “আগে কলেজ, তারপর ভোটের কথা”- এই সরল অথচ তীক্ষ্ণ বার্তাই এখন ছড়িয়ে পড়ছে গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়ার প্রতিটি গ্রামে। অথচ বাস্তব বলছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থেকেও শাসকদল এই মৌলিক চাহিদা পূরণে কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি। বরং প্রতি নির্বাচনের আগে একই প্রতিশ্রুতি “এবার কলেজ হবেই” শুনতে শুনতে ক্লান্ত সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, সরাসরি এই অবহেলার শিকার হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর পড়াশোনার জন্য ইসলামপুর বা ডালখোলায় যেতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত ভিড়, পরিকাঠামোর ঘাটতি, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল। ফলে আর্থিক অসুবিধা ও যাতায়াতের সমস্যায় বহু ছাত্রছাত্রী মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এটা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নকে ধ্বংস করার সামিল এই ঘটনা, এমনটাই মত শিক্ষাবিদদের একাংশের।
প্রশ্ন উঠছে, যখন এলাকায় থানা, ব্লক অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস গড়ে উঠতে পারে, তখন একটি কলেজ কেন নয়? স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে শুধু কাগুজে ঘোষণা হয়েছে, বাস্তবে কিছুই হয়নি। বিদায়ী বিধায়ক গোলাম রব্বানির কাছে এই প্রশ্ন এখন বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।
চাকুলিয়ার বাসিন্দা আনোয়ারুল আলমের কথায়, “ভোট এলেই কলেজের কথা মনে পড়ে, তারপর সব চুপ।” এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, মানুষ আর প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা দিতে নারাজ। তারা চাইছে বাস্তব কাজ, শুধু কথার ফুলঝুরি নয়।
গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়ার মানুষ আজ বুঝে গেছে রাজনৈতিক রঙ বদলালেও যদি মানসিকতা না বদলায়, তাহলে উন্নয়ন শুধু দেওয়ালের পোস্টারেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর সেই কারণেই এবারের ভোটে শিক্ষার প্রশ্নটাই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় ইস্যু, যেখানে শাসকদলের জবাবদিহি এড়ানোর আর কোনও পথ খোলা নেই। চাকুলিয়ার বামফ্রন্ট মনোনীত ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী মাফিজুল ইসলাম এবং গোয়ালপোখরের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী জামাল উদ্দিনের বক্তব্য, গোয়ালপোখরের বিদায়ী বিধায়ক গোলাম রব্বানী দীর্ঘদিন মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু এলাকায় একটি কলেজ করতে পারেন না। তাদের মুখে শিক্ষা নিয়ে বড় বড় কথা মানায় না। আমরা জনগণের কাছে এই তৃণমূল নেতাদের শিক্ষানীতি তুলে ধরছি। জনগণ যোগ্য জবাব দেবে ভোট বাক্সে।
assembly 2026 Goalpokhar & Chakulia
প্রতিশ্রুতিই সার, হয়নি কলেজ, গোয়ালপোখর-চাকুলিয়ায় কলেজ গড়ার আর্জি বামপ্রার্থীকে
চাকুলিয়া বামফ্রন্ট প্রার্থী মফিজুল ইসলাম-র কাছে পেয়ে কলেজের দাবী জানাচ্ছেন এলাকাবাসী |
×
Comments :0