assembly 2026 purba medinipur

পূর্ব মেদিনীপুর: প্রতিশ্রুতি নয় হোক বাস্তবায়ন, বামপ্রার্থীর কাছে কর্মসংস্থানের আর্জি যুবদের

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

দেউলিয়াতে প্রচার করছেন পাঁশকুড়া পূর্ব কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী ইব্রাহিম আলি।

চাই একটা কাজ। কর্মসংস্থানের আকালে এমনটাই দাবি মানুষের। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রতিটি বিধানসভার বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে প্রধান সমস্যা হল  বেকারত্ব। আসলে শেষ দশ বছরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিযায়ীদের জেলায় পরিনত হয়েছে একপ্রকার। সংসার চালাতে বিভিন্ন ধরনের কাজে এরাজ্য ছেড়েছে যুবকরা। আর একটি চমকে দেওয়া ঘটনা হল এই জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে পাশের হারে এগিয়ে থাকলেও উচ্চশিক্ষায় কেমন অবস্থায়? একটু তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেল উচ্চমাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ কম ছেলেদের। কেন এমনটা? 
কেরালাতে কনস্ট্রাকশনের কাজ করে সুমিত দে। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে সে। কিন্তু তার পরেই এলাকার এক ঠিকাদারের মাধ্যমে পাড়ি দেয় কেরালা। তখন যোগাড়ির কাজ করত। এখন সে মিস্ত্রি। রোজ ৯০০-১০০০ টাকা। ওভারটাইম কাজ করলে আরও ৭০০টাকা। ওখানে মাসে ২০ থেকে ২২দিন মতো কাজ করে। বাকি দিন ফুলের কাজ করে। ফুলের কাজে রোজ হিসাবে পায় ৭০০টাকা। মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা রোজগার করে সে। "দেখুন বেশীদুর পড়ে কি হবে? তার থেকে বাইরে গিয়ে কাজ করছি রোজগার হচ্ছে সেটাই তো ভালো। এখানে কি কাজ আছে? কে পরিবার থেকে দুরে থাকতে চায় বলুন তো। এ জেলায় কিচ্ছু নেই।" সুমিত দে-র এই কথা আসলে সমস্ত পরিযায়ীর। উদাহরণ আছে আরও। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কারিগরি বিভাগে পড়ার পর ইলেকট্রিক্যালে ডিপ্লোমা করেছে সুবর্ণ চক্রবর্ত্তী। এখানে কাজ পায়নি সে। ঝাড়খন্ডে একটি কোম্পানিতে মাসে ১৫ হাজার বেতনে কাজ করে। 
মহিষাদলের প্রলয় কুন্ডু উচ্চমাধ্যমিকে ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়েও কলেজে ভর্তি হয়নি। তিনি বলেন, "কি হবে বেশীদুর পড়ে। সরকারি চাকরির পরীক্ষা হচ্ছে কি? হলেও তো দুর্নীতি। তার থেকে বাইরের রাজ্যে আছি ভালো আছি।" অভিজ্ঞতার কথা জানালেন কোলাঘাটের সইফুল। কলেজ পাশ করার পর সে চলে গিয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে রেস্টুরেন্টে কাজ করে। রোজগার বেশী হচ্ছে। তবে পরিযায়ীদের মনে কিন্তু শান্তি নেই। বাড়ির ছেলে স্বামীরা বাড়ি ছেড়ে বাইরে আছে এটা কষ্টের সেই পরিবারগুলিরও।
এবারের নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তাই প্রধান দাবি কাজের। হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের পুনরুজ্জীবন, হরিপুরে বিদ্যুৎ শিল্প চালু করা সহ এরাজ্যে কাজের ব্যবস্থা হোক সেই দাবি জানাচ্ছেন মানুষজন। সাধারণের দাবি সমর্থনে প্রচার করছে কারা? অবশ্যই বামপন্থীরা। একথা বলছেন মানুষই। বিকল্প কর্মসংস্থান, সকলের জন্য শিক্ষা ও কাজ, স্বনির্ভরতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এসবের পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যার বিষয় থাকছে সিপিআই(এম) সহ বামফ্রন্টের প্রার্থীদের প্রচারে। গ্রহন করছে মানুষ। শুক্রবার দেউলিয়া বাজারে প্রচার করছিলেন পাঁশকুড়া পূর্ব কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী ইব্রাহিম আলি। এক ফুল ব্যবসায়ী প্রার্থীকে বললেন "আপনি বলছেন এখানে ফুল সংরক্ষণ কেন্দ্র করবেন। আপনি অবশ্যই জিতবেন। আর সত্যিই আমাদের ফুল সংরক্ষণ কেন্দ্র খুবই দরকার।" দেউলিয়া মোড়ে প্রচার চলাকালীন এক যুবক নিজে থেকেই এসে সিপিআই(এম) প্রার্থীর সঙ্গে হাত মেলালেন। সেই যুবক পরিযায়ী শ্রমিক। একই দৃশ্য হলদিয়া, মহিষাদলেও। নন্দকুমার, চন্ডিপুরে স্থানীয় সমস্যার সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

Comments :0

Login to leave a comment