INDIA Meet

গণতন্ত্র না ফেরানো পর্যন্ত একজোটে চলবে লড়াই, বৈঠকে পর ঘোষণা ‘ইন্ডিয়া’-র

জাতীয়

লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত চলবে আন্দোলন। এসআইআর বাতিল করতে হবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। ভারতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।
মঙ্গলবার রাতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে বৈঠকে মিলিত হওয়ার পর এ কথা জানিয়েছেন ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের নেতানেত্রীরা। 
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে টানা চার দিন আন্দোলনের পর এই বৈঠক হয়। 
বৈঠকে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা সঞ্জয় রাউত, এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, সিপিআই‘র সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি-সহ মঞ্চের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে নেতারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেন।
এমএ বেবি বলেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমার শাসক দলের লোক হয়ে কাজ করছেন। তিনি ভোট চুরি করছেন, তিনি প্রতিবাদের জায়গা চুরি করছেন, তিনি গণতন্ত্রকে চুরি করছেন।’’
দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ দেখানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই প্রসঙ্গে বেবি বলেছেন, ‘‘মোদী-শাহ বা মোহন ভাগবত যদি ভেবে থাকেন প্রতিবাদের জায়গা কেড়ে নিয়ে প্রতিবাদ দমিয়ে দিতে পারবেন, তাঁরা ভুল ভাবছেন। বরং তাঁদের এই পদক্ষেপ সরকারের অসহিষ্ণুতাকে আরও স্পষ্ট করছে। অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈরাচারী এই পদক্ষেপে আরও তীব্র হবে ক্ষোভ।‘‘
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে লড়াই করছেন। তাঁর কথায়, “আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই- ভারতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা।” তাঁর অভিযোগ, দেশে গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। আন্দোলনে সমর্থন জানানোর জন্য দেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত তাঁদের লড়াই চলবে। এই আন্দোলন থামবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলনকে বিরাট সাফল্য বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভোট চুরির অভিযোগ এবং মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার স্বার্থে সমস্ত বিরোধী দল একজোট হয়ে আন্দোলন চালাবে বলেও জানান তিনি।
শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। বৈঠকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের বক্তব্য, ভোট চুরির অভিযোগ সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ। শেষ পর্যন্ত জয়ী হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের স্বীকৃতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।
সিপিআই’র সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা করে তিনি বলেন, মানুষের প্রতিবাদ জানানোর অধিকার বজায় রাখতে হবে।
ছাত্র সংগঠন এসএফআই’র সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষ এবং এআইএসএ-র সভাপতি নেহা বোরাও যোগ দেন বৈঠকে। নেহা বলেন, ভোটাধিকার হরণ করা মানে দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানের উপর আঘাত। জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানোর দাবিও জানান তিনি।

Comments :0

Login to leave a comment