দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না হলেও রাজধানীর বুকে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর যেভাবে হিংস্রতা ও বর্বরতা নামিয়ে আনা হয়েছে, বিশেষ করে পড়ুয়া বিক্ষোভকারী ও মহিলাদের উপর পুলিশ নির্লজ্জ ও চরম অসম্মানজনক আচরণ করছে সেটা জরুরি অবস্থার থেকেও কম কিছু নয়। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন প্রজন্মের ছাত্র-যুব সহ বিরোধীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে এতটাই ভীত সন্ত্রস্ত যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবিলার ঝুঁকি নিতে পারছে না। প্রতিবাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার যদি দেওয়া হয় তাহলে ক্ষোভের প্রতিফলন যে উচ্চতায় ও ব্যাপ্তিতে পৌঁছাবে সেটা আর নিতান্তই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগে আটকে থাকবে না। মোদী সরকারের অস্তিত্বই বিপদে পড়বে। তাই ক্ষমতা রক্ষার তাগিদে পুলিশ-আধা সেনাদের রাস্তায় নামিয়ে অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে যথেচ্ছ দমনপীড়নের। গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদের-বিক্ষোভের-আন্দোলনের সাংবিধানিক কেড়ে নিয়ে স্বৈরাচারী হিংস্রতার জোরে মানুষকে নির্বাক গৃহ বন্দি করে রাখতে চাইছে।
জনগণের ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসা শাসক যখন জনগণের উপর ভরসা হারায় তখন তারা জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হয়ে ওঠে দমনমূলক স্বৈরাচারী চেহারা নিয়ে। মোদী সরকার সেই স্বৈরাচারী পথে ফ্যাসিবাদের দিকে পা বাড়িয়েছে। তা না হলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে ছাত্র-যুব সমাজের প্রতিবাদ দমনে এতটা বেপরোয়া, এতটা হিংস্র হয়ে উঠত না। ফ্যাসিবাদী প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে যখন সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধ ও অন্যায়ভাবে প্রতিবাদীদের ধরপকড় করা হচ্ছে, তাদের উপর দৈহিক আক্রমণ করা হচ্ছে তা থেকে যেকোনও সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে মহিলাদের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করা হয় তা মোদী জমানায় অপসৃত। মহিলাদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ অসভ্যতা ও অশ্লীলতার শেষ সীমা অতিক্রম করে গেছে। এহেন আচরণ সরকার থেকে অনুমোদন না থাকলে সম্ভব নয়। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোনোরকম সরকার বিরোধী আন্দোলন, সরকারের সমালোচনা-বিরোধিতা সহ্য করবে না। কঠোরভাবে দমন করা হবে।
আসলে নিট প্রশ্ন ফাঁসকে ঘিরে আন্দোলনের জেরে শিক্ষা মন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য হয়েছে। তাই প্রতিবাদ আন্দোলন, বিশেষ করে ছাত্র-যুব সমাজের সরকার বিরোধী আন্দোলন দেখলেই মোদী-শাহদের আত্মারাম খাঁচা হয়ে যাচ্ছে। দেশের যুব সমাজের যে মানসিক অবস্থা তাতে দেশজুড়ে শাসকের জনসমর্থনের ভিত নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। সরকারের কাজে মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। মানুষের চোখে এই সরকার সন্দেহজনক ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বিপদের আঁচ এখানেই। মোদীরা বুঝে গেছেন আগামী লোকসভা নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই যতদিন ক্ষমতায় আছে ততদিন যেকোনও মূল্যে আন্দোলন দমন করতে হবে। সংবিধান, আইন-আদালতকে প্রত্যাখ্যান করতেও তাদের অসুবিধা নেই। ফ্যাসিবাদী শাসকরা এমনই হয়ে থাকে। গণতন্ত্রের নাম করে এরা মানুষকে বোকা বানিয়ে ক্ষমতায় আসে। তারপর ফ্যাসিবাদী স্ব-মূর্তি ধারণ করে মানুষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করে। মানুষের ভোটাধিকার, বাক্-স্বাধীনতা, প্রতিবাদের স্বাধীনতা কাড়তে উদ্ধত হয়।
Goverment Fascisim
ভীত সরকার ফ্যাসিবাদের পথে
×
Comments :0