দিল্লিতে আন্দোলনকারিদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যসভার সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তিনি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য ব্রিটাস নিজেও আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে পুলিশ গাড়িতে তুলে মারধর করেছে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত দিল্লি। সিজেপি এবং ইন্ডিয়া মঞ্চের এই আন্দোলনকে দমন করতে সক্রিয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে যেই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয় তা থামাতে আগে থেকেই শুরু হয় ধর-পাকড়। রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সিপিআই(এম) এর হরকিষেণ সিং সুরজিৎ ভবন। ট্রেন থেকে আটক করা হয় বহু আন্দোলনকারিকে। বিমান থেকে আটক করা হয় সিজেপি নেতৃত্বকে। এছাড়া আগে থেকেই পড়ুয়াদের ওপর, যুবদের ওপর চলছিল পুলিশি অত্যাচার। মহিলা আন্দোলনকারিদের মাটিতে ফেলে মারতে দেখা গিয়েছে দিল্লি পুলিশকে। ঐশী ঘোষ সহ একাধিক এসএফআই, ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বকে আটক করা হয় একাধিকবার।
সোমবার, ১২ অক্টোবর, দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেছেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত। সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। দিল্লিতে আক্রান্ত এসএফআই সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি, যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষ। ছিলেন আক্রান্ত প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের একাংশ।
এসএফআই কর্মী শালিনী জানান তাঁর অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ছাত্রী এবং মহিলা প্রতিবাদীদের জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের মহিলা আধিকারিকরা ছাত্রীদের জামা ধরে টানাটানি করেছে পুরুষ পুলিশের সামনে। জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। প্রতিবাদ বন্ধ করার জন্য এই কৌশল ব্যবহার করছে দিল্লি পুলিশ। চেষ্টা করছে এমনভাবে হেনস্তা করতে যাতে মনোবল ভেঙে যায়।
গতকাল সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি বলেন, সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসকে মারধর করা হয়েছে পুলিশের গাড়িতে তুলে, পুলিশ হেপাজতে। তিনি কেবল ছাত্রদের ওপর আক্রমণ সম্পর্কে জানতে গিয়েছিলেন, তাঁকে আহত হতে হয়েছে। কেবল উর্দি পরিহিত আরএসএস কর্মী নয়, তার বাইরেও আরএসএস কর্মীদের আক্রমণ করতে নামানো হয়েছে।
আদর্শ সাজি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছিল। পুলিশের পাশাপাশি আরএসএস-র দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছে। পুলিশ সব রকমের নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে। একেকটা ভ্যানে ঠাসাঠাসি করে তোলা হয়েছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি ভ্যানের বাইরে ছাত্রদের আর্তনাদ। তাঁদের ভ্যানের ভেতর মারা হয়েছে। পুরুষ পুলিশ মহিলা প্রতিবাদীদের আক্রমণ করেছে। এসএফআই কর্মী, ছাত্রীদের ওপর আক্রমণ হয়েছে।
ঐশী ঘোষ বলেন, নাবালক-নাবালিকা ছাত্রছাত্রীদের আরএসএস’র দুষ্কৃতীরা মারধর করেছে পুলিশের সামনে। পুলিশ নিশ্চুপ থেকেছে। ভিডিও সবাই দেখেছে। যে ছাত্র বা ছাত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলছে তার ওপরই হামলা চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সাংবাদিকদের জবরদস্তি আটক করা হচ্ছে। মারধরের হুমকি দিচ্ছে। সাংবাদিকরা পরিচিতি পত্র নিয়ে কাজ করলেও তাদের ধরে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর দিল্লি পুলিশের কর্মীরা নিজেদের নামের ব্যাচ ছাড়াই কাজ করছে।
ঐশী বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেন দিল্লি পুলিশ যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। ছাত্র-যুবরা এই অত্যাচার সহ্য করবে না। আমাদের অনেকে আহত হয়ে রয়েছে। গুজরাট থেকে এক ছাত্রী এসেছিলেন। একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় বসেছিলেন। তাকে বাসে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে।
ঐশী বলেন, দিল্লিকে ‘ব্যারিকেড জোন’ করা হয়েছে। যেখানে কোনও প্রতিবাদ করা যাবে না, শান্তিপূর্ণ মিছিল করা যাবে না। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের অধিকার ফিরে চাইছি কেবল জায়গার জন্য নয়, আমরা বার্তা দিতে চাইছি যে গণতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।
এসএফআই নেতৃবৃন্দ বলেন, এমনভাবে মারছে যাতে আর প্রতিবাদে শামিল হতে না পারি। তবে সাহস হারাচ্ছি না।
John Brittas
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ব্রিটাস
×
Comments :0