বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে লাল ঝান্ডার পুনরুত্থান স্পষ্ট হচ্ছে। ময়নাগুড়ি ও ধূপগুড়ি উভয় কেন্দ্রেই বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থনে মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। আর তা, তৃণমূল ও বিজেপি দুই শিবিরের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন আর থমকে যাওয়া উন্নয়নকে সচল করার ডাক দিয়ে রাজপথে এখন বামপন্থীরাই প্রধান বিকল্প।
ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত আরএসপি প্রার্থী সুদেব রায়ের সমর্থনে এদিন এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর পরিক্রমা করে। এলাকার ভূমিপুত্র হিসেবে সুদেব রায়ের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে বড় প্রাপ্তি। মিছিল শেষে আরএসপি প্রার্থী সুদেব রায় বলেন, "বিগত ১৫ বছরে ময়নাগুড়ির জনজীবন বিপর্যস্ত। বাম আমলে যে গ্রামীণ হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসক পরিষেবা দিতেন, আজ তা কার্যত ‘রেফার হাসপাতালে’ পরিণত হয়েছে। মাত্র ৪-৫ জন চিকিৎসকের ভরসায় ধুঁকছে স্বাস্থ্য পরিষেবা।"
শুধু স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষার হালও করুণ। বাম আমলে নির্মিত ময়নাগুড়ি কলেজ ও হাইস্কুলগুলো আজ শিক্ষক সংকটে জর্জরিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূলের অন্দরে প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে যে ভাঙন শুরু হয়েছে, তার সুবিধা নিয়ে বিজেপি মেরুকরণের রাজনীতি করতে চাইছে। কিন্তু মানুষ এবার রুটি-রুজি আর হকের লড়াইয়ে লাল ঝান্ডাকেই বেছে নিচ্ছেন। এদিনের মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পীযুষ মিশ্র, সলিল আচার্য, সন্তোষ সরকার, ভাস্কর দত্ত সহ জেলা বামফ্রন্টের একঝাঁক নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রেও বামফ্রন্টের লড়াই এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত এক দশকে এই কেন্দ্রে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় দলের বিধায়কই ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু পানীয় জল থেকে কর্মসংস্থান, সব ক্ষেত্রেই বঞ্চনা বেড়েছে। শুক্রবার ধূপগুড়ি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ঝাড়আলতা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তোলেন সিপিআই(এম) প্রার্থী নিরঞ্জন রায়।
প্রচারের ফাঁকে ঝাড়আলতা এলাকায় উন্নয়নের এক কঙ্কালসার চিত্র ফুটে ওঠে। সেখানে দেখা যায়, কর্মসংস্থান না থাকায় পেটের দায়ে বালির ট্রাক্টর চালাচ্ছেন সুমন বর্মন নামে এক এমএ পাস যুবক। উচ্চশিক্ষিত যুবকদের এই পরিযায়ী শ্রমিক হওয়া বা দিনমজুরি করার মর্মান্তিক দৃশ্য সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। প্রচার চলাকালীন মহিলারা প্রার্থীর কাছে পানীয় জলের তীব্র সংকট ও নিকাশি ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়ে সরব হন।
বিকেলে এক ‘রোড শো’-তে অংশ নিয়ে নিরঞ্জন রায় বলেন, "মানুষ বুঝে গেছেন তৃণমূল ও বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একদল লুট করছে, অন্যদল বিভাজন করছে।" এই রোড শো-তে জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র, সলিল আচার্য, তুষার বসু, পুলক সরকারের উপস্থিতি কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধূপগুড়ি ও ময়নাগুড়ির রাজপথে সাধারণ মানুষের এই ভিড় প্রমাণ করছে যে, বিভাজনের রাজনীতির বদলে রুটি-রুজির লড়াইয়ে মানুষ আবার লাল পতাকার ওপরই ভরসা রাখছেন।
assembly 2026 moinaguri & dhupguri
দুর্নীতির বিরুদ্ধে,রুটি-রুজি'র লড়াইয়ে লাল ঝান্ডাকেই বেছে নিচ্ছেন ময়নাগুড়ি ও ধূপগুড়ি'র মানুষ
ময়নাগুড়িতে লাল ঝান্ডার মিছিলে জনজোয়ার
×
Comments :0