assembly 2026 PURULIA

হয়নি উন্নয়ন, নেই কর্মসংস্থান থেকে পানীয়জল, ক্ষোভ উগরে পরিবর্তনে লালঝাণ্ডাকেই হাতিয়ার পুরুলিয়াবাসীর

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের পানিপাথর অঞ্চলে প্রচারে সিপিআই(এম) প্রার্থী শান্তিমণি মুর্মু।

প্রচারে বেরোলেই ঘর থেকে মহিলারা বেরিয়ে এসে, পুরুষেরা জড়ো হয়ে ভুরিভুরি অভিযোগ জানাচ্ছেন। গত ১৫ বছরে মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু এলাকার উন্নয়ন বলতে কিছুই করেননি। মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী শান্তিমণি মুর্মু প্রচারে গিয়েছিলেন পায়রাচালী অঞ্চলের সাঁওতাল অধ্যুষিত দাঁতারডি গ্রামে। শতাধিক মানুষ সেখানে বসবাস করেন। বাড়ির মহিলারা বেরিয়ে এসে জানিয়ে দিলেন পানীয় জলের জন্য তাদেরকে নিদারুণ কষ্ট ভোগ করতে হয়। বাম আমলে একটি নলকূপ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই নলকূপের ভরসাতেই গোটা এলাকা বেঁচে আছে। সেই নলকূপ মাঝেমধ্যে খারাপ হয়ে যায়। 
প্রচারে গিয়েছিলেন প্রার্থী চাটুমাদার অঞ্চলে। সেখানেই নদী থেকে বালি তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন এম এ পাস করা এক যুবক। এলাকায় কাজ নেই। সরকারি চাকরি নেই। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মাকে ছেড়ে দিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করতেও যেতে পারেননি। তাই এমএ পাস যুবক এখন বালি শ্রমিক।
পুরুলিয়ার মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে সিপিআই(এম) প্রার্থী আইসিডিএস সহায়িকা শান্তিমণি মুর্মু। সিপিআই(এম) জেলা কমিটির সদস্য এবং কৃষক সভার রাজ্য কমিটির সদস্য। দুবার পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে এলাকার উন্নয়নে নিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। গোটা অঞ্চলকে হাতের তালুর মতো চেনেন। তাই প্রচারে বেরিয়ে মানুষের অভূতপূর্ব সাড়াও পাচ্ছেন। চোখের সামনে মানুষ দেখেছে ১৫ বছর ধরে মানবাজারে কোন উন্নয়ন হয়নি। বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মানবাজারকে মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।  সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী ফের একবার ঘোষণা করেছিলেন মহকুমা হবে। কিন্তু আজ অব্দি কোন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। কৃষি দপ্তরের একটি কৃষি ফার্ম ছিল মানবাজারে। যেখানে চারা গাছ তৈরি করা হতো। সেটাকেই তুলে দিয়ে এখন মহকুমা শাসকের দপ্তর এবং কিষাণ মান্ডি করা হয়েছে। মহকুমা আদালতের নেই কোন পরিকাঠামো নেই মহকুমা হাসপাতাল। বামফ্রন্ট সরকারের সময় মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালে আট থেকে দশ জন চিকিৎসক থাকতেন। মানুষ সমস্ত ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতেন। কিন্তু এই আমলে এখন দু-তিনজন ডাক্তারকে দিয়ে কোনো রকমে হাসপাতাল চালু রয়েছে। বাম সরকারের আমলের বিধায়িকা সাম্য প্যারি মাহাতো বিধায়ক তহবিল থেকে হাসপাতালে রক্ত সঞ্চয়ের জন্য কিছু অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন। কিন্তু আজ অব্দি সেটা আর বাস্তবায়িত হয়নি। মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালকে এলাকার মানুষ বলেন রেফার হাসপাতাল। মানবাজারের দোলাডাঙ্গা কে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছিল বামফ্রন্ট সরকার। সেখানে বোটিং-এর ব্যবস্থা ছিল। সেখানে রিসোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। এই আমলে দোলাডাঙ্গা চরম উপেক্ষিত। দোলাডাঙ্গা যাবার রাস্তাটাই একেবারে ভগ্নদশা। সবকিছু ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। মানবাজারে মানভূম মহাবিদ্যালয়, একাধিক  হাই স্কুল, হোস্টেল চালু করা হয়েছিল। এখন সেই স্কুলগুলো শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে। হোস্টেল বন্ধ হয়ে গেছে। মানবাজার শহরে টাউন লাইব্রেরী বন্ধ হয়ে আছে কর্মীর অভাবে। ২০০৭-০৮ সালে এলাকার চাষীদের কথা চিন্তা করে মানবাজারে হিমঘর তৈরি করা হয়েছিল। সেই হিমঘর বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। 
সিপিআই(এম) প্রার্থী বামনি এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন। সেখানকার মানুষজন জানালেন প্রায় দেড় বছর আগে চাকা নদীর উপর থাকা সেতুর সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। সেই সেতু দেড় বছরের মধ্যেও তৈরি করার উদ্যোগ নেয়নি সরকার। বাম আমলে তুড়াং বিজয়ডি কেশরগড়িয়া ঘাটে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। চারটা পিলার তৈরি হয়ে পড়ে আছে। আজ অব্দি সেই সেতুর কাজ আর হয়নি। মানুষজনকে বর্ষাকালে ঘোরাপথে যাতায়াত করতে হয়। জুলাইয়ের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলিতে আলাদা হাজিরা খাতা রাখা হয়। কারণ সেই সময় ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের ভীষণ অসুবিধা হয়। বহু জুনিয়র হাই স্কুল শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে পানীয় জল সরবরাহের জন্য রাস্তায় খুঁড়ে পাইপ বসানো হয়েছে কিন্তু মানুষজন পানীয় জল পাননি।
কাজের অভাবে বহু এলাকার বহু যুবক ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে প্রচারে গিয়ে সিপিআই(এম) প্রার্থী শুনছেন অসংখ্য অভিযোগ। শাসক দলের কর্মীরাই এবার নিজেদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। শাসকদলের কর্মীদের কাছ থেকেও চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মন্ত্রী এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এইসবের বিরুদ্ধে এবার মানবাজের মানুষ জোটবদ্ধ হয়েছেন। তারা চাইছেন পরিবর্তন। এবং সেই পরিবর্তনের হাতিয়ার হচ্ছে লাল ঝান্ডা।

 

Comments :0

Login to leave a comment