মধুসূদন চ্যাটার্জি
কোথায় লেখা আছে যে মিটিং, মিছিল করতে গেলে পুলিশের অনুমতি লাগবে? পুলিশ আমাদের মিটিং এর মাইক খুলে নিতে বলল। এবার যদি কোনও দিন পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ’র বলে মিটিং, মিছিল করা চলবেনা, তাহলে প্রশাসনের যেই হোক তাঁকে বলবেন মুখের কথা নয়, লিখিত দিন। আমরা বুঝে নেব আদালতে। যারা মিটিং মিছিল বন্ধ করতে চাইছে তাদের জেলের ভাত খাওয়াবো আদালতে গিয়ে। সোমবার ওন্দা বাজারে সিপিআই(এম)'র ডাকা সংবিধান ও গনতন্ত্রের উপর ফ্যাসিবাদী হামলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দামের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। সিপিআই(এম)'র পক্ষ থেকে এ ধরনের হুঁশিয়ারি দেওয়ার একটা প্রেক্ষাপটই তৈরী করে দিয়েছিল বিজেপি’র ধাবাবাহিক হামলার ঘটনায়। মাসখানেক আগেই ওন্দা ব্লকের রতনপুর সিপিআই(এম) কার্যালয়ে বিজেপি বাহিনী ব্যাপক হামলা চালায়। পার্টি অফিস ভাঙচুর করে। ঘটনার আগের দিন এখানে সিপিআই(এম)'র পক্ষ থেকে সভা করা হয়েছিল পার্টি অফিসে। বিজেপি’র পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে জানানো হয় কেন সিপিআই(এম) সভা করবে? এখনও রতনপুর এলাকায় সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। বিজেপি’র এই সন্ত্রাস ও হামলার ঘটনায় পুলিশ একেবারেই নিরব। লিখিত অভিযোগ জানানো সত্বেও কোনও ব্যবস্থা পুলিশ আজ পর্যন্ত নিলনা। এর পরের ঘটনা রামসাগরে। গত ১০ আগষ্ট বাঁকুড়া জেলাশাসকের কাছে আইন অমান্য আন্দোলনের প্রচার করতে করতে গিয়ে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে সিপিআই(এম) কর্মী প্রান্তিক দত্তকে মারধর করে বিজেপি মস্তান বাহিনী। কয়েকদিন পরই এই রামসাগর এলাকাতেই সিপিআই(এম) কর্মী সহদেব বাগদির মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। মারধর করা হয় সোমনাথ ব্যানার্জিকে। লাগাতার এই হামলার ঘটনা সব কিছুই পুলিশের কাছে জানানো হলেও তারা নির্বাক ছিলেন, এখনও আছেন।
এই ঘটনা গুলির প্রতিবাদে সিপিআই(এম)'র পক্ষ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রামসাগরে প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল প্রায় ১০দিন আগেই। প্রশাসন অনুমতিও দিয়েছিল। কিন্তু সভার ৪৮ ঘন্টা আগে শনিবার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় কোনও মতেই রামসাগরে সভা করতে পারবেনা সিপিআই(এম)। কারন পুলিশ নাকি নিরাপত্তা দিতে পারবেনা। ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমর শাখার বাড়ি রামসাগর। তাই কোনও মতেই সেখানে লালঝান্ডার মিছিল, সভা চলবেনা। এটাই ছিল পুলিশ প্রশাসনের মনভাব। এই অবস্থায় সিপিআই(এম) কোনও মতেই সভা বন্ধ করতে চায়নি। পার্টি কর্মীদের জেদ ছিল সভা বন্ধ হবেনা। সভা হবে ওন্দা বাজারেই। সেই মতো ওন্দা বাজার জুড়ে সর্বত্র মাইক দেওয়া হয়েছিল লালঝান্ডার পক্ষ থেকে। রবিবার ফের ওন্দা থানার পুলিশ জানায়, সব মাইক খুলতে হবে। খালি সভাস্থলে একটি বক্স থাকবে। এই ঘটনায় ওন্দার বুকের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়লেও পার্টি নেতৃত্ব সেটা নিয়ন্ত্রন করেন। একটি বক্স নিয়েই সোমবার ওন্দা বাজারে সভা হয়। অসংখ্যা মানুষ সভায় এদিন হাজির হয়েছিলেন। এই সভাকে আটকাতে বিজেপি গ্রামে গ্রামে হুমকি দেয়। বলা হয় সভায় গেলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা মহিলারা পাবেননা।
এদিন সভার শুরুতেই মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, এবার ওন্দা বুকে যে সভা, মিছিল হবে তা হবে রামসাগরেই। তাঁর এই কথায় উপস্থিত মানুষজন করতালি দিয়ে সম্মতি দেন। মীনাক্ষী মুখার্জি জানান, গত ১৫বছর ধরে তৃণমূলের অত্যাচারে আমরা সিজিন্ড হয়ে গেছি। এসব আর লালঝান্ডা ভয় খায়না। তখন তো পুলিশ তৃণমূলের ছিল। এখনও ভয় খাইনা। তিনি জানান, আমরা মার খেতেও পারি, মার দিতেও পারি। এটা যেন বিজেপি’র গুন্ডারা মনে রাখে।
তিনি বলেন, "জিনিসের দাম বাড়ছে, মানুষের হাতে কাজ নেই, মাথায় ছাদ নেই, আমরা সে কথা মানুষকে মিটিং করে বলতে পারবনা? একশবার বলব। তিনি জানান, লালঝান্ডার কর্মীরা পাড়া, গ্রামে মাদুর পেতে মিটিং করবেন। তিনি জানান, গুন্ডা রাজ চলবেনা। পার্টি কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, মিটিং মিছিল যখন করবেন তখন ঝান্ডার ডান্ডাটা শক্ত করে ধরে রাখবেন। তিনি জানান, এই লালঝান্ডা হল মানুষের বাঁচার প্রতীক। মানুষ চাইছেন লালঝান্ডা নিয়ে লড়তে।
এদিন সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক দেবলীনা হেমব্রম, সিপিআই(এম) নেতা তরুন সরকার। সভা পরিচালনা করেন বিশ্বনাথ দে। এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য রামচন্দ্র ডোম, অজিত পতি, অভয়ানন্দ মুখার্জি প্রমুখ।
Comments :0