Amit Shah

লাদাখ-মণিপুর অশান্ত করে ‘গোর্খা সমস্যা’ সমাধানের প্রতিশ্রুতি শাহের

রাজ্য জেলা

পশ্চিমবঙ্গ প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরবঙ্গে শেষ নির্বাচনী প্রচারে কার্শিয়াঙ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সুকনার সভা থেকে অমিত শাহ ঘোষণা করলেন বিজেপি জয়ী হলে গোর্খাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের হবে। 
এদিন রাজ্যের একাধিক জায়গায় নির্বাচনী সভা করেন শাহ। সেই ‘অনুপ্রবেশকারী’ তাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গকে ‘অনুপ্রবেশ মুক্ত’ করার ভাষণ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারির প্রধান দায়িত্ব যদিও তাঁর মন্ত্রকেরই।   
বামপন্থীরা বলছেন, মোদী-অমিত শাহ সরকারের শাখা হিসেবে নির্বাচন কমিশন অনু্প্রবেশ প্রসঙ্গ তুলে এসআইআর চালু করেছে। কোথায় ‘রোহিঙ্গা’ বা ‘বাংলাদেশী’ মিলেছে তার তালিকা কমিশন দিতে পারেনি। কিন্তু ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় হেনস্তার শিকার কোটি কোটি মানুষ। বিজেপি সুশাসনের জন্য নয়, মেরুকরণের রাজনীতিকে উসকে দিতে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে ভাষণ দিচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার শিলিগুড়ি সংলগ্ন সুকনা হাইস্কুল ময়দানে জনসভায় পাহাড়ের গোর্খা জনজাতির প্রতি বঞ্চনা, রাজনৈতিক দাবি ও পাহাড়ের ভবিষ্যৎ ও পাহাড় সমস্যার সমাধানের প্রশ্নে ভোট প্রচারের একেবারে শেষ পর্বে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে থেমে থাকেন নি। শাহ বলেছেন, মমতা দিদিকে টাটা বাইবাই করার সময় চলে এসেছে। তাঁর দাবি এবার বিজেপিই সরকার গঠন করবে। আর বিজেপি সরকার গঠিত হলেই আগামী ৬ মের মধ্যে দীর্ঘদিনের গোর্খা সমস্যার সমাধান করব। 
মণিপুর থেকে লাদাখ, কোথাও সমস্যার সমাধান বিজেপি করেনি। বরং বেড়েছে বহুগুণ। লাদাখে স্বশাসনের দাবিতে আন্দোলনকে দমন করা হয়েছে। পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াঙচুককে জেলে ভরা হয়েছে। মণিপুরে ‘ডবল ইঞ্জিন‘ জাতিহিংসাকে তীব্র করেছে। 
যদিও ওই এলাকার মানুষ বলেছেন, ‘‘বিজেপি’র প্রতিশ্রুতিতে তাঁরা বিশ্বাসী নন। কারণ ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার গড়েছিল বছরে দুইকোটি বেকার যুবক যুবতীদের চাকরি, কালো টাকা উদ্ধার করে প্রতিটি নাগরিকের ব্যাঙ্কে ১৫ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেবে। মুল্যবৃদ্ধি , গ্যাস, প্রেট্রোল, ডিজেলের দাম কমানোর বদলে উলটে ২০১৪ সালের তুলনায় বহুগুন বৃদ্ধি হয়েছে। কোনো প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করেনি।’’  
এদিন সুকনার সভা থেকে শাহ বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে গোর্খাদের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করা হবে। মমতা দিদির নির্দেশেই জেলাশাসকরা চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে বহু গোর্খা মানুষের নাম কেটে দিয়েছে। বিজেপি সরকারে আসলে প্রত্যেক গোর্খার নাম সম্মানের সাথে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। 
প্রসঙ্গত; বিজেপি-আরএসএস’র রাজনৈতিক প্রকল্প এসআইআর নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কার্যকর করা হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বহু উদ্বাস্তু, প্রান্তিক পরিবার, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘ কয়েক পুরুষ ধরে এখানে বসবাস করছেন। তবুও তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিজেপি’র নেতার বারবার দাবি করেছে ‘রোহিঙ্গা’, ‘ঘুষপেটিয়া’ ‘অনুপ্রবেশকারী’ এই রাজ্যে ভরে গেছে। ভোটের অধিকারকে সাধারণ মানুষের থেকে কেড়ে নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে বিজেপি। তাদের যোগ্য সঙ্গত করছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যখন বিজেপি’র সঙ্গী ছিলেন তখন লোকসভায় ভোটার লিস্ট ছুঁড়ে সবাইকে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বলেছিলেন। আরএসএস-বিজেপি এখন সারা দেশে বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বলে পুলিশকে দিয়ে হেনস্থা করাচ্ছে।
এদিন অমিত শাহের মুখে ছিল না কাজের কথা। ছিল না বন্ধ চা বাগান খোলার কথা। শিল্প, কারখানার কথাও তিনি বলেন নি। শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসলে বাগিচা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি করে ৫০০ টাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। শ্রমিক পরিবারগুলির জন্য ঘর, জমির পাট্টা নিশ্চিত করা হবে। 
ঘটনা হলো, চা-বাগান নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতিই পূরণ কেনি বিজেপি। উত্তরবঙ্গে ভোটে সাফল্য পেলেও পরিকাঠামো নিয়ে প্রচুর ক্ষোভ এলাকায়। রুগ্ন চা বাগান অধিগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি’র কেন্দ্রীয় সরকার। সে কাজও হয়নি। ফলন সংরক্ষণের পরিকাঠামো তৈরিতে কেন্দ্র এবং রাজ্য দুই সরকারের ব্যর্থতাতেই সরব স্থানীয়রা। রাজ্যের তৃণমূলের পাশাপাশি কেনন্দ্রের িজেপি সরকারের ভূমিকাতেও ক্ষোভ যথেষ্ট।

Comments :0

Login to leave a comment