West Bengal Elections

দিন বদলের স্বপ্ন নিয়ে ভোটের লাইনে পরিযায়ী শ্রমিকরা

রাজ্য জেলা

ভোটের লাইনে পরিযায়ী শ্রমিকরা।

জয়ন্ত সাহা: শিতলখুচি

দিন বদলের স্বপ্ন নিয়ে শিতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্রের ৫/১২৬ বুথের নগর গোপালগঞ্জ এপি স্কুলের ভোটের লাইনে দাঁড়াতে ওরা কেউ এসেছেন কেরলা থেকে,  কেউবা সুরাট, গান্ধীনগর থেকে আবার কেউ বিহার, ব্যাঙ্গালুরু থেকে। আসলে ওঁরা সবাই পরিযায়ী শ্রমিক। ইচ্ছে করে কেউ গ্রাম ছেড়ে যায় নি। গ্রামে কাজ নেই তাই বাধ্য হয়ে গ্রাম ছেড়েছে। পেটের টানে ওঁরা এখন ভিন রাজ্যেই দিন-রাত কাটায়।
কেরালার কান্নুরে কাজ করা অখিল বিশ্বাস ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে চমকে ওঠার মত তথ্য দিলেন, ‘‘আমাদের বুথে ১২৬৭ ভোটার। আপনি লিখে নিন, এর মধ্যে অন্তত ৭০০ জন পরিযায়ী শ্রমিক। শুধু মাত্র কেরালায় বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন আড়াই'শ-র বেশি যুবক।’’ গ্রামের যুবক গনেশ বিশ্বাস নিজেও পরিযায়ী শ্রমিক। আবার কাজ খুঁজতে থাকা যুবকদের নিয়ে গিয়ে কেরালায় কোম্পানীতে কাজ দেয়। সবাই ওনাকে ‘ঠিকাদার’ বলেই ডাকেন। তিনি বলেন,‘‘ বছর কুড়ি আগেও কেউ গ্রাম ছেড়ে কেউ বাইরে কাজে যেত বলে শুনি নি। কিন্তু গ্রামে কোন কাজ নেই তাই গত দশ বছরে ভিন রাজ্যে যাওয়ার প্রবনতা বেড়েছে। অনেক কলেজ পাশ করা শিক্ষিত যুবকেরাও এখন কনস্ট্রাকশনে কাজ করে। কেউ লেবার, কেউ বা মিস্ত্রী।’’ লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে ওঁরা। ভোট চলছে খুব ধীর গতিতে। তবুও ওঁরা অপেক্ষমান। ভোট দিয়ে তবে বাড়ি ফিরবে সবাই।
ভোটের লাইনে দাঁড়ানো কেরালার পালাঘাটে রাজমিস্ত্রীর কাজ করা হারাধন বিশ্বাস, অধীর সরকার বললেন, ‘‘কেরালার হাওয়া গায়ে লাগিয়ে এসেছি। এবারে বদলে দেব।’’ ওদের ইঙ্গিতটা স্পষ্ট। অন্যরা লাইনে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছেন। পাশে দাঁড়ানো মুম্বাইয়ে কাজ করা লক্ষন দাসের মন্তব্য, ‘‘আমি মুম্বাইতে কাজ করলেও আমি কেরালের দলেই আছি। সেটা ভুলবেন না।’’ কান্নুরে কাজ করা বিশ্বজিৎ সরকার বলছেন, ‘‘বিশ্বাস করুন, আর বাইরে কাজ করতে মন চায় না। তবুও ভোট হয়ে গেলেই ফিরতে হবে। আমাদের তো ভোট দেবার জন্য ছুটি নেই। কাজে না গেলে হাজিরা নেই। এটা বুঝেছি রাজ্যে সরকার না বদলালে আমাদের ঘরে ফেরা হবে না। তাই চাই কেরালার মত এরাজ্যেও আবার ফিরুক লাল।
ভোটের লাইনটা একটু একটু করে বুথের দিকে এগোচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকেরা বুথে ঢুকে ইভিএমে বোতাম টিপবে ‘‘ঘরে ফিরে কাজ পাবার আশায়। বন্ধু চিনেছে ওরা।’’

Comments :0

Login to leave a comment