West Bengal Elections Chopra

জবাব দিতে প্রস্তুত চোপড়া

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

তপন বিশ্বাস: চোপড়া
শহীদের রক্তে ভেজা চোপড়ার মাটি আজ আর নীরব নয়—এবার সে জবাব দিতে প্রস্তুত। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি আজও তাজা। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় ১৯ বছরের তরুণ মনসুর আলীকে নির্মমভাবে গুলিতে ঝাঁঝরা করা হয়। সেই রক্তাক্ত ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা চোপড়ার বিবেককে নাড়া দিয়েছে।
আজ সেই স্মৃতিকে বুকে নিয়ে মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর শপথ নিয়েছে। চোপড়ার গোয়ালবাড়ী বাজারে অনুষ্ঠিত বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী মোকলেশ্বর রহমানের সমর্থনে জনসভায় সাধারণ মানুষের ঢলই তার প্রমাণ। সভায় উপস্থিত নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন—ভয় দেখিয়ে আর মানুষের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা দবিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা মনসুরের আত্মবলিদান ভুলিনি। এতদিন আমাদের চুপ করিয়ে রাখা হয়েছিল, কিন্তু এবার আর নয়। মানুষ নিজের অধিকার ফিরে পেতে মাঠে নেমেছে।’’ তাঁর কথায় যেন প্রতিফলিত হচ্ছে চোপড়ার জনমনের ক্ষোভ ও বঞ্চনার ইতিহাস।
সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে সিপিআই(এম) নেতা আনোয়ারুল হক শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, ‘‘চোপড়ার মাটিতে বারবার রক্ত ঝরেছে। কখনও আকবর আলী, কখনো মনসুর আলী—এই হত্যার রাজনীতি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কেড়ে নিয়েছে। শাসকদল উন্নয়নের নামে শুধু ভয় আর সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূলের নেতৃত্বে এলাকায় একপ্রকার ‘গুন্ডারাজ’ কায়েম হয়েছে, যেখানে বিরোধী মতকে দমন করাই প্রধান লক্ষ্য। বিদায়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের বদলে তাদের চুপ করিয়ে রাখাই যেন প্রশাসনের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও একই সুরে শাসক দলের সমালোচনা করেন। তাঁদের দাবি, উন্নয়নের নামে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বেকারত্ব, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বামফ্রন্ট প্রার্থী মোকলেশ্বর রহমানকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে নেতৃত্ব বলেন, ‘‘এবারের নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, এটি গণতন্ত্র বনাম সন্ত্রাসের লড়াই। মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে কোনো ভয়ই তাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।’’
চোপড়ার মানুষ আজ বুঝে গেছে—ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকলে পরিবর্তন আসবে না। তাই তারা রাস্তায় নেমেছে, সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছে এবং নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে শামিল হচ্ছে। শহীদের রক্ত যেন এবার একটাই বার্তা দিচ্ছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই একমাত্র পথ।

Comments :0

Login to leave a comment