West Bengal Election North Bengal

পরিকাঠামো নেই ক্যান্সার চিকিৎসার, দুই ফুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উত্তরবঙ্গের মানুষের

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

প্রচারে কোচবিহার উত্তর কেন্দ্রের সিপিআই(এম)।

জয়ন্ত সাহা
প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উত্তরবঙ্গে পালন করে রাজ্য সরকার। অথচ উত্তরবঙ্গের ক্যান্সার রোগীদের পরিবারকে ছুটতে হয় কলকাতা কিংবা মুম্বাই। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গের জেলা গুলিতে নতুন করে অন্তত ৪০০ রোগী আসেন সরকারি হাসপাতালে। যাদের শরীরে ক্যান্সারের উপসর্গ আছে। অথচ উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই রেডিওথেরাপির আধুনিক যন্ত্র ‘লিনিয়র এক্সেলেটর’র অভাব আছে। নেই ব্রেক থেরাপি এছাড়াও হেমাটো-অঙ্কোলজি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ নেই। রক্তে ক্যান্সার থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসার অভাব রয়েছে। 
আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর স্বামী অপূর্ব সরকার বললেন, ‘‘উত্তরবঙ্গে মালদহ, শিলিগুড়ি এবং কোচবিহারে বেসরকারিভাবে চিকিৎসার কিছুটা সুযোগ আছে। এছাড়া ছুটতে হয় দিল্লী, মুম্বাই, চেন্নাইতে যেখানে প্রয়োজন লক্ষ লক্ষ টাকা।’’ ক্যান্সার আক্রান্ত কোচবিহারের সুজিত চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমি নিজে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর কোচবিহারে বেসরকারিভাবে দেখিয়েছিলাম। এখানে সেরকম ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারের সদস্যরা আমাকে মুম্বাই নিয়ে যায়। প্রথম দফায় ১৫ দিন ছিলাম। পরেও তিনবার গেছি। যাতায়াত, থাকা, খাওয়া চিকিৎসার খরচ প্রচুর। এখন আর যাই না। এভাবেই হয়তো মরে যেতে হবে।’’ 
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে টাটা মেমোরিয়ালের সহায়তায় ক্যান্সার হাসপাতালের কাজ শুরু হয়েছে। সে কাজ কবে শেষ হবে। আর কবে চিকিৎসক নিয়োগের পর পরিষেবা মিলবে তা কেউ জানেন না। উত্তরবঙ্গের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে ক্যান্সার চিকিৎসার কোন পরিকাঠামো নেই, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অবস্থাও তথৈবচ। এবারের ভোটের মুখে সব বিধানসভা এলাকাতেই মানুষ ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন প্রকাশ্যেই।
তথ্য বলছে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায় মোট বিধায়কের সংখ্যা ৫৪ জন। গত বিধানসভা ভোটে বিজেপির ঝুলিতে ছিল ৩০ বিধায়ক, তৃণমূলের ২৩ বিধায়ক। প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার ১ বিধায়ক। যদিও পরে বিজেপির ৬ বিধায়ক দলবদলু হয়ে তৃণমূলে চলে গেছেন। উত্তরবঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ছবি বারবার উঠে এলেও উত্তরবঙ্গের তৃণমূল আর বিজেপির বিধায়কেরা গত ৫ বছরে স্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে উদ্যোগ নেয় নি এমন অভিযোগ কোচবিহার থেকে মালদা সর্বত্র। হয় নি এইমস ধাঁচের হাসপাতাল। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল আসলে রেফার হাসপাতাল ছাড়া আর কিছুই নয়। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে ভোট প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন, ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গে ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করা হবে। যদিও যদিও বিজেপির প্রতিশ্রুতিতে ভুলতে নারাজ উত্তরবঙ্গের মানুষ। মোদী শাহর প্রতিশ্রুতিকে নিছকই নির্বাচনী গিমিক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন,‘‘গত ১৫ বছরে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায় ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার কোন ব্যবস্থাই হয় নি। বরং আগের চাইতে আরও বেহাল হয়েছে ক্যান্সার চিকিৎসার দশা। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি আসলে এক বড়সড় 'জুমলা' ছাড়া আর কিছুই নয়।’’
এই মুহুর্তে উত্তরবঙ্গের মেডিকেল কলেজগুলিতে এবং মহকুমা হাসপাতালে সপ্তাহে দুদিন ক্যান্সার আক্রান্তদের জন্য বহির্বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগী দেখেন আর পরামর্শ দেন। ব্যাস, ওটুকুই হয়। আর কেমোথেরাপির ব্যবস্থা আছে জেলা হাসপাতালে। এই মুহুর্তে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রেডিও থেরাপি এবং মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে লিনিয়র এক্সেলেটরের ব্যবস্থা আছে। এই দুই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শুধু উত্তরবঙ্গের মানুষই নয় নিম্ন আসাম ও নেপালের রোগীরাও নাম লেখান ফলে সেখানেই হয়রানির শিকার হতে হয় রোগীদের। তবুও স্বাস্থ্য ভবন এতটাই উদাসীন যে মেডিকেল কলেজগুলিতে ক্যান্সার আক্রান্তদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডের ব্যবস্থাটুকুও নেই। প্রয়োজনে তাদের জেনারেল বেডেই থাকতে হয়। যেখানে রোগীর সংক্রমণের আশংকা যথেষ্টই।
কোচবিহার উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী তথা এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্যী শুক্রবার বাণেশ্বর এলাকায় প্রচারে বেড়িয়ে বলেন, ‘‘বামফ্রন্ট আমলে এই বিধানসভা কেন্দ্রেই গড়া হয়েছিল কোচবিহার ক্যান্সার সেন্টার। যা নিয়ন্ত্রণ করে একটি ট্রাস্টি বোর্ড। সেটির মাথায় এখন বসে আছেন উদয়ন গুহ। মানুষ যদি ভোটে বামফ্রন্টের প্রতি আস্থা রাখে তবে কোচবিহার ক্যান্সার সেন্টারকে উন্নতমানের আধুনিক প্রযুক্তি আনা হবে। এবং উত্তরবঙ্গের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ক্যান্সারের চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়া হবে।

Comments :0

Login to leave a comment