Post editorial

সঙ্কটে যখন রাজ্যের ভবিষ্যৎ

উত্তর সম্পাদকীয়​

গার্গী চ্যাটার্জি

আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস কোনও আনুষ্ঠানিক উৎসবের দিন নয়; বরং, এটি শ্রমিক শ্রেণির মধ্যেকার নারী অংশের ঐতিহাসিক আত্মপ্রকাশের দিন। আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস সেই দিনটিকে স্মরণ করে শপথ নেওয়ার দিন, যেদিন নিঃশব্দে কাজ করে যাওয়া, অদৃশ্য হয়ে থাকা, ঘরে-বাইরে দ্বিগুণ পরিশ্রম করা নারীরা প্রথমবার সংগঠিতভাবে বলেছিলেন—‘‘আমরাও মানুষ, আমাদেরও অধিকার আছে।’’
১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে জার্মান বিপ্লবী নেত্রী ক্লারা জেটকিন প্রস্তাব রাখেন— প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট দিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে পালিত হোক। তাঁর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট ও সাহসী। তিনি বলেন, নারী মুক্তি কেবল আইনের সামান্য সংস্কার বা দান-খয়রাতির মাধ্যমে সম্ভব নয়; প্রকৃত মুক্তি আসবে তখনই, যখন শ্রমিক শ্রেণি শোষণের শৃঙ্খল ভাঙবে। নারীর প্রশ্নকে তিনি শ্রেণির প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
তাঁর সহযোদ্ধা রোজা লুক্সেমবার্গ পুঁজিবাদী যুদ্ধনীতি ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেন। তিনি দেখিয়েছিলেন, যুদ্ধের বোঝা শেষ পর্যন্ত শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কাঁধেই চাপানো হয়— বিশেষ করে নারীদের উপর। তাই নারী-পুরুষ শ্রমিকের ঐক্য ছাড়া সমাজে প্রকৃত সমতা আসতে পারে না।
১৯৭৫ সালে ইউনাইটেড নেশন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু তার বহু আগেই ৮ মার্চ শ্রমজীবী নারীর সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এটি ছিল শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দিন, সমতার দাবির দিন, সাংগঠনিক ক্ষমতায়নের দিন।
২০২৬ সালের ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। আজকের শ্রমজীবী নারীর জীবন কি সত্যিই বদলেছে? অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আশা কর্মী, মিড ডে মিল রাঁধুনি, গৃহ সহায়িকা, কারখানার শ্রমিক—তাঁদের জীবনে কি স্থায়ী নিরাপত্তা এসেছে?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— এই পরিবর্তন আনার রাজনৈতিক শক্তি কে? কোন নীতি শ্রমজীবী নারীর পক্ষে? কে তাঁদের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেয়, আর কে কেবল প্রতিশ্রুতির কথা বলে?
বিশ্বব্যাপী নব্য উদার অর্থনীতি গত তিন দশকে একটি বিশেষ ভাষা ব্যবহার করেছে—‘সংস্কার’, ‘উদারীকরণ’, ‘ফ্লেক্সিবিলিটি’, ‘সহজ ব্যবস’ ইত্যাদি। শুনতে এই শব্দগুলো খুব আধুনিক ও উন্নয়নমুখী মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে ‘‘ফ্লেক্সিবল শ্রমবাজার’’ বলতে বোঝানো হয়েছে— স্থায়ী চাকরি কমিয়ে অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, আউট সোর্সিং ও গিগ-ভিত্তিক কাজ বাড়ানো। অর্থাৎ মালিকের সুবিধা বাড়ানো, শ্রমিকের নিরাপত্তা কমানো।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে নারীদের উপর। কারণ শ্রমবাজারে নারীরা এমনিতেই দুর্বল অবস্থানে থাকেন। তাঁদের অনেকেই প্রথম প্রজন্মের মজুরিভোগী শ্রমিক। বাড়ির কাজ, সন্তানের যত্ন, বৃদ্ধদের দেখাশোনা— এই সব অবৈতনিক দায়িত্বের ভারও তাঁদের উপর। ফলে তাঁরা বাধ্য হন কম মজুরির, অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন কাজ নিতে। এই সুযোগকেই পুঁজিবাদী বাজার কাজে লাগায়।
‘ফ্লেক্সিবল’ শ্রমের অর্থ হলো—আজ কাজ আছে, কাল নেই। মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই, পেনশন নেই, চিকিৎসা সুবিধা নেই। কাজের সময় বাড়লে আপত্তি করার সুযোগ নেই। এই অনিশ্চয়তার ভিতরেই কোটি কোটি নারী শ্রমিক জীবনযাপন করছেন।
এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বামপন্থী ও প্রগতিশীল নারীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। স্পেনে কয়েক বছর আগে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে লক্ষ লক্ষ নারী কাজ বন্ধ রেখে ধর্মঘটে শামিল হন। তাঁরা দেখিয়ে দেন— নারীরা একদিন কাজ বন্ধ করলে অর্থনীতি থমকে যায়। গৃহশ্রম, যত্নশ্রম ও উৎপাদন— সব ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতেও আমরা একই চিত্র দেখি। চা বাগানের নারী শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরি ও আবাসনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীরা শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতি, ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। তাঁরা প্রমাণ করেছেন—যেখানে নারী শ্রমিক সংগঠিত হন, সেখানে প্রশাসনকে আলোচনা টেবিলে আসতেই হয়।
এই সব অভিজ্ঞতা আমাদের একটি বড় সত্য শেখায়। বাজার নিজে থেকে সমতা আনে না। বরং নিয়ন্ত্রণহীন বাজার দুর্বলদের আরও দুর্বল করে। নারীর মুক্তি কেবল কর্পোরেট বৃদ্ধির উপর নির্ভর করতে পারে না। দরকার গণতান্ত্রিক, জনমুখী রাষ্ট্রনীতি—যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশুসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় রাষ্ট্র দায়িত্ব নেবে; যেখানে শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ হবে; যেখানে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার রক্ষা পাবে; যেখানে সমান মজুরি বাস্তবায়িত হবে।
অতএব আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে বলছে—নারীর মুক্তি বাজারনির্ভর নীতিতে নয়; তা সম্ভব সংগঠিত সংগ্রাম, সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে। যখন নারী শ্রমিকরা নিজেদের শক্তি চিনতে শেখেন এবং ঐক্যবদ্ধ হন, তখনই পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়।
কেন্দ্রের বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২০ সালে দীর্ঘদিনের ২৯টি শ্রম আইনকে একত্রিত করে চারটি শ্রম কোড পাশ করে। সরকার বলেছিল— এতে আইন সহজ হবে, ব্যবসা করা সহজ হবে, একই সঙ্গে শ্রমিকদের সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে। ‘‘এক দেশ, এক শ্রম আইন’’—এই স্লোগান তুলে বলা হয়েছিল, এতে বিভ্রান্তি কমবে এবং শ্রমিকরা উপকৃত হবেন। কিন্তু, বাস্তব অভিজ্ঞতা কি বলছে ?
শ্রমকোডে কারখানার সংজ্ঞা বদল করে সুরক্ষার পরিধি সঙ্কুচিত করা হয়েছে। আগে যেখানে ১০ বা ২০ জন শ্রমিক থাকলেই কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা থাকত, এখন সেখানে ২০ বা ৪০ জনের নিচে হলে অনেক ক্ষেত্রেই সেই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
শ্রম পরিদর্শন দুর্বল করে নজরদারি থেকে “ফ্যাসিলিটেশন” করা হয়েছে-আগে শ্রম পরিদর্শকরা কারখানায় হঠাৎ গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারতেন। এখন সেই ভূমিকা অনেকটাই বদলে ‘ইনস্পেক্টর’ থেকে ‘ফ্যাসিলিটেটর’ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই পরিদর্শন আগাম নোটিসের ভিত্তিতে বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ। এতে মালিকপক্ষ আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পায়, বাস্তব পরিস্থিতি গোপন থাকে।
চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কাজের প্রসার ঘটানো হয়েছে। নতুন শ্রম কোড চুক্তিভিত্তিক কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে। স্থায়ী চাকরির বদলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ, আউটসোর্সিং, গিগ-ভিত্তিক কাজ— এই সবকিছুর পথ আরও সহজ হয়েছে।
ধর্মঘটের অধিকার সীমিত করা হয়েছে। ধর্মঘট শ্রমিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় ধর্মঘটের আগে দীর্ঘ নোটিস দেওয়া, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মানা ইত্যাদি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে হঠাৎ পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ জানানো কঠিন হয়ে পড়ে। কার্যত ধর্মঘটকে আইনি জটিলতায় বেঁধে ফেলা হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনের শক্তি কমলে দরকষাকষির ক্ষমতাও কমে যায়। এর ফল ভোগ করেন সাধারণ শ্রমিকরা—বিশেষত নারীরা, যারা অনেক ক্ষেত্রেই ইউনিয়নে কম প্রতিনিধিত্ব পান।
নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে প্রভাব কেন বেশি? ভারতের বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিক অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আশা কর্মী, মিড ডে মিল রাঁধুনি— তাঁরা সমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। শিশু পুষ্টি, প্রাথমিক স্বাস্থ্য, শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত এই কর্মীরা বাস্তবে পূর্ণকালীন শ্রম দেন। তবুও তাঁদের ‘স্বেচ্ছাসেবী’ বলা হয়, শ্রমিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। ফলে ন্যূনতম মজুরি, পেনশন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা—কিছুই নিশ্চিত নয়।
সমান মজুরি ও মাতৃত্বকালীন সুবিধার কথা আইনে থাকলেও বাস্তবে তা প্রায়শই কার্যকর হয় না। অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত অধিকাংশ নারী কোনও লিখিত নিয়োগপত্রই পান না। ফলে অধিকার দাবি করার ভিত্তিও দুর্বল।
রাতের শিফট ও বিপজ্জনক কাজে সম্মতি প্রদান: নতুন নিয়মে রাতের শিফট বা কিছু বিপজ্জনক ক্ষেত্রে নারীর কাজের উপর আগের সীমাবদ্ধতা শিথিল করা হয়েছে, শর্ত হিসাবে বলা হয়েছে ‘সম্মতি’ থাকতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— যখন চাকরি অনিশ্চিত, চুক্তি নবায়নের ভয় আছে, তখন সেই সম্মতি কতটা স্বাধীন?
একজন নারী শ্রমিক যদি জানেন যে রাতের শিফটে না বললে তাঁর চাকরি যাবে, তাহলে তাঁর ‘হ্যাঁ’ কি সত্যিকারের সম্মতি? কর্মস্থলে নিরাপত্তা, যাতায়াতের সুরক্ষা, বিশ্রামের সুযোগ— এই সবকিছু নিশ্চিত না করে শুধু ‘সম্মতি’র কথা বলা বাস্তব পরিস্থিতিকে অস্বীকার করা।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, শ্রম কোডের এই পরিবর্তনগুলি ব্যবসায়িক সুবিধা বাড়ালেও শ্রমিকদের—বিশেষত নারী শ্রমিকদের—অধিকারকে দুর্বল করেছে। তাই প্রশ্ন তোলা জরুরি: উন্নয়নের নাম করে যদি শ্রমিকের সুরক্ষা কমে যায়, তবে সেই উন্নয়ন কার জন্য?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শ্রমজীবী নারীদের সংগঠিত হওয়া এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া আজ সময়ের দাবি।
পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রের নতুন শ্রম কোডের বিরোধিতা রাজনৈতিক ভাষণে শোনা গেলেও বাস্তবে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর বিকল্প শ্রমনীতি গৃহীত হয়েছে কি না— এই প্রশ্ন আজ প্রাসঙ্গিক শুধু নয়, বরং রাজ্যের বেশ কিছু পদক্ষেপে একথা প্রমাণিত হচ্ছে যে, মুখে শ্রমকোডের বিরোধিতা করলেও ঘুরিয়ে রাজ্যে তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া জারি আছে ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন তাই রাজ্যের শ্রমজীবী মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে— রাজ্যে শ্রমিক অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গ ঐতিহাসিকভাবে শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনের রাজ্য। তেভাগা আন্দোলন থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক শ্রেণির লড়াই-সংগ্রাম—এই ঐতিহ্য শ্রমজীবী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইকে শক্তিশালী করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ঐতিহ্য নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
বামপন্থী রাজনীতির মূল দর্শন হলো— উৎপাদনের উপরে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, কল্যাণমূলক ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রমিক অধিকারের সুরক্ষা এবং নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা। ইতিহাসে দেখা গেছে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহে রাষ্ট্রের উদ্যোগে মাতৃত্বকালীন ছুটি, ক্রেশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার প্রসার নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভারতে বামপন্থী শাসনকালে ভূমি সংস্কার, পঞ্চায়েত শক্তিশালীকরণ এবং গণবণ্টন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে নিম্নলিখিত দাবিগুলি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক—১. রাজ্যের সকল প্রকল্প কর্মীকে শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান ও তাঁদের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। ২. সকল ক্ষেত্রেই কার্যকরভাবে ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করতে হবে এবং তা আইনি গ্যারান্টির আওতায় আনতে হবে। ৩. সর্বজনীন রেশন ব্যবস্থা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ৪. কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে Sexual Harassment of Women at Workplace (Prevention, Prohibition and Redressal) Act, 2013কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে এবং প্রতিটি কর্মস্থলে Internal Complaints Committee (ICC) গঠন নিশ্চিত করতে হবে। ৫. কর্মস্থলে ক্রেশ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ৬. অবৈতনিক গার্হস্থ্য শ্রমের সামাজিক স্বীকৃতি এবং গৃহিণীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প চালু করতে হবে। ৭. দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, যাতে ছাত্র-অভিভাবকদের কাছে তা পুনরায় বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। ৮. একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
বেকারত্ব আজকের সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা। স্বচ্ছ প্রশাসন, শিল্প ও কৃষির উন্নয়ন, এবং জনমুখী অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এতে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।
শ্রমজীবী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, মহিলাদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে কর্পোরেট-বান্ধব নীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ এমন নীতির ফলে অনেক সময় শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নগুলি পিছিয়ে পড়ে যায়। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে উপরোক্ত দাবিগুলিকে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
অতএব, শ্রমজীবী নারী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে আগামী দিনের রাজনৈতিক ও গণআন্দোলনে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্যে একটি প্রগতিশীল, বাম ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে শক্তিশালী করা আজ সময়ের দাবি। কারণ সংগঠিত গণশক্তিই পারে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করতে।

Highlights

শ্রমজীবী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, মহিলাদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা  গড়ে তুলতে একটা সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন তাই রাজ্যের শ্রমজীবী মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে রাজ্যে শ্রমজীবীদের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা হবে।

Comments :0

Login to leave a comment