Congress

উপসাগরীয় সংকটে প্রধানমন্ত্রীর 'কৃচ্ছ্রসাধন' বার্তা: 'সরকারের ব্যর্থতা' ঢাকতেই ত্যাগের ডাক, তোপ রাহুল ও কংগ্রেসের

জাতীয়

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'কৃচ্ছ্রসাধন' বার্তার তীব্র সমালোচনা করলো কংগ্রেস। দেশবাসীকে সোনা কেনা কমানো, বিদেশ ভ্রমণ বর্জন এবং পেট্রোল-ডিজেলের সাশ্রয় করার যে আরজি প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। আর এই ঘোষনাকেই মোদী সরকারের "চরম ব্যর্থতা" বলে চিহ্নিত করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
হায়দরাবাদে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে "দেশ আগে, স্বাচ্ছন্দ্য পরে" এই কথায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি জোগান ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বজায় রাখা জরুরি। এর মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, আগামী এক বছর সোনা কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখা। পেট্রোল ও ডিজেল বাঁচাতে গণপরিবহন বা মেট্রো রেলের ব্যবহার বাড়ানো এবং 'কার-পুলিং' করা। ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা ভার্চুয়াল মিটিংয়ের কথা শোনা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর মুখে। 
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার ঠিক পরেই পাল্টা সরব হন রাহুল গান্ধী। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘গতকাল মোদীজি দেশবাসীকে ত্যাগ স্বীকার করতে বলেছেন। সোনা কিনবেন না, বিদেশে যাবেন না, মেট্রো ব্যবহার করুন এবং বাড়ি থেকে কাজ করুন। এগুলি কোন পরামর্শ নয়, এগুলি সরকারের ব্যর্থতার অকাট্য প্রমাণ।’ রাহুল আরও অভিযোগ করেন যে, সরকারের ভুল নীতির মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে.সি. বেণুগোপাল কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের তিন মাস পার হয়ে গেলেও মোদী সরকার ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। প্রধানমন্ত্রী নিজে কোন বিকল্প ব্যবস্থা না করে সাধারণ মানুষকে সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এটা শুধু লজ্জাজনক নয়, অনৈতিকও বটে।’
অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদাম্বরম প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘পিএমওথেকে আসা এই নির্দেশিকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই আবেদন করা হচ্ছে, তা দেশের জানা প্রয়োজন।’ তিনি অবিলম্বে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছেন, যাতে দেশবাসীকে প্রকৃত পরিস্থিতি জানানো যায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল এবং সারের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেই ধাক্কা সামাল দিতেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে বলেছেন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার আগাম কোন পরিকল্পনা না করে এখন জনগণের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, বিদেশের মাটিতে যুদ্ধের উত্তাপ এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধনের পরামর্শকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই বাদানুবাদ আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment