Tamil Nadu

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা: ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ বিজয়, বাতিল শপথগ্রহণ

জাতীয়

সরকার গড়ার দাবি জানাতে শুক্রবার টানা তৃতীয় দিন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়। মনে করা হচ্ছিল তার দল তামিলগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে) অবশেষে ম্যাজিক ফিগার ১১৮-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। কিন্তু তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক নাটকে ফের নতুন মোড়। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিজয়কে ফের খালি হাতে ফেরালেন রাজ্যপাল।
সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে এখনও পিছিয়ে রয়েছেন বিজয়, এমনটাই দাবি লোকভবনের। লোকভবন জানিয়েছে, শুক্রবার ১১৭ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দিয়েছিলেন বিজয়।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে টিভিকে। তবে বিজয় তার জেতা দুটি আসনের একটি ছেড়ে দেবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, ফলে দলের কার্যকর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১০৭।
'জননায়গন' তারকা বিজয় এর পাশাপাশি ৫ জন কংগ্রেস, ৪ জন বামপন্থী এবং একজন এএমএমকে (AMMK) বিধায়কের স্বাক্ষরও জমা দেন।
শনিবার সকাল ১১টায় শপথগ্রহণের আর্জি জানিয়েছিলেন বিজয়। কিন্তু আধা ঘণ্টার মধ্যেই এএমএমকে সাধারণ সম্পাদক টিটিভি দীনাকরণের একটি ফোন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দেয়। তিনি রাজ্যপালকে জানান, বিজয়ের সমর্থনে জমা দেওয়া একমাত্র এএমএমকে বিধায়কের স্বাক্ষরটি আসলে জাল।
এর মাঝে টিভিকে নেতৃত্ব ওই বিধায়ক কামরাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। এক ঘণ্টার মধ্যেই চেন্নাইয়ে প্রকাশ্যে আসেন ওই বিধায়ক। দীনাকরণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন এবং বিজয়ের দলের বিরুদ্ধে 'ঘোড়া কেনাবেচা'-র অভিযোগ তোলেন। বিধায়ক দাবি করেন, ওই স্বাক্ষর তার নয়। দীনাকরণও রাজ্যপালকে স্পষ্ট জানান যে, এএমএমকে এনডিএ-র (NDA) অংশ।
সূত্রের খবর, এর ফলে বিজয়ের সমর্থন কমে দাঁড়ায় ১১৬-তে, যা ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে দুই কম। যদিও টিভিকে পাল্টা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে কামরাজ নিজেই বিজয়কে সমর্থনের চিঠি লিখছেন।
নাটক এখানেই শেষ হয়নি। লোক ভবন সূত্র জানিয়েছে, ডিএমকে জোটের শরিক ভিসিকে (VCK) রাজ্যপালকে কোনও সমর্থনপত্র জমা দেয়নি। ইমেলের মাধ্যমে তারা সমর্থন পাঠিয়েছে বলে জল্পনা ছড়ালেও, রাজ্যপাল তা পাননি। উল্টে শুক্রবার ভিসিকে নেতৃত্ব বিজয়কে অহংকারী বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্বের কাছে না গিয়ে কেবল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সমর্থন চেয়েছেন বিজয়।
অন্যদিকে, গভীর রাতে আইইউএমএল (IUML) নেতৃত্বও জানিয়ে দেয়, তাদের দুই বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন করছেন না এবং তারা ডিএমকে-র সঙ্গেই দৃঢ়ভাবে রয়েছেন।
এই সমস্ত টানাপোড়েনের জেরে বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি পুরোপুরি ধাক্কা খায় এবং শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায়। লোক ভবন সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যপাল বিজয়কে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আগে ১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হবে, তবেই তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ডাকা হবে।

Comments :0

Login to leave a comment