‘এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নীবিড় সমীক্ষা আসলে তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এক প্রক্রিয়ায়।’ কলকাতায় সিপিআই(এম) রাজ্য সদর দপ্তর মুজফফ্র আহমেদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। এদিন বেবির সাথে সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী। বেবি বলেন, ‘বাংলা এবং বাংলার মানুষের উন্নতির জন্য তৃণমূল এবং বিজেপি এই দুই শক্তিকেই আমাদের পরাস্ত করতে হবে। দুই দলই গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে।’
সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন। স্বাধীনতার পর প্রথম এরাজ্যে এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে যেখানে লক্ষাধিক মানুষ জানেন না তারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না।’ জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সাংবিধানিক পদে থেকে জ্ঞানেশ কুমার বিজেপির হয়ে কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গে বহু মানুষের নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অমিত শাহ ক্রনোলজির কথা বলেছিল। সিএএ, এনআরসি, এসআইআর এক একটি ধাপ ফ্যাসিস্ট হিন্দু রাষ্ট্র তৈরি করার জন্য। মহিলা সংরক্ষণের বিলের নাম করে ডিলিমিটেশন করে নির্দিষ্ট জায়গায় আসন বাড়িয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে।’
বিজেপিকে নিশানা করে বেবি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আসামের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রচারে এসে সংখ্যালঘুদের নিশানা করে বক্তব্য রাখছে। কমিশন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বাংলার মানুষের মন ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করার চেষ্টা করছে তৃণমূল এবং বিজেপি।’ অতীতের প্রসঙ্গ টেনে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক বলেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা এবং দেশ ভাগ করেছিল। সেই সময় বাংলার মানুষ তার প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন। পরিচালক ঋতিক ঘটক তাঁর একাধিক সিনেমায় সেই যন্ত্রনার কথা তুলে ধরেছে।’
এবারের নির্বাচনে প্রথম সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন সহ একাধিক বামপন্থী দলকে সাথে নিয়ে লড়াই করছে বামফ্রন্ট। সেই প্রসঙ্গে বেবি বলেন, ‘সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন সহ একাধিক বামপন্থী দলকে সাথে নিয়ে বামফ্রন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছে। এবারের নির্বাচনে ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপি। কিন্তু বাস্তব অন্য কথা বলছে। এবারের নির্বাচনে এরাজ্যে বামপন্থীরা উল্লেখযোগ্য ফলাফল করবে।’
তিনি বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বলেছিল ৪০০ আসন পার করবে তারা। কিন্তু তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ২০১৪ সালে যেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার একটাও পালন করেনি। বেকারত্ব বেড়েছে, জিনিসের দাম বেড়েছে। মমতাও একই ভাবে তার কোন প্রতিশ্রুতি রাখেনি। মানুষ এই দুই দলের চরিত্র বুঝে গিয়েছে।’ তার কথায় বামপন্থীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের কথা বলছে। মানুষের তাদের কথাকে সমর্থন করছেন।
পরিসংখ্যা দিয়ে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বামফ্রন্ট সরকারের সময় এরাজ্যে ৩৬ হাজার বেশি স্কুল কলেজ তৈরি হয়েছিল সরকারি উদ্যোগে। এখন আট হাজারের বেশি সরকারি স্কুল বন্ধ হচ্ছে। কৃষিতে রাজ্য উল্লেখ যোগ্য ভাবে উন্নতি করেছিল। এখন কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছে না। তারা আত্মহত্যা করছে।’
তিনি বলেন, রাজ্যে কাজ নেই এরাজ্য থেকে লোক কেরালা সহ অন্য রাজ্যে যাচ্ছেন কাজের জন্য। কেরালায় এই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য একাধিক সরকারি সুযোগ সুবিধা রয়েছে এরাজ্যে সেই সুযোগ সুবিধা নেই। পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের ওপর অত্যাচার বাড়ছে আর সরকার অপরাধীদের আড়াল করছে।
বিজেপি তৃণমূলকে একযোগে রেখে এমএ বেবি বলেন, ‘এরাজ্যে বিজেপিকে জায়গা করে দিয়েছে মমতা ব্যানার্জি, আবার মমতাকে জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে দিয়েছিল বিজেপি বাজপেয়ী মন্ত্রিসভায় সদস্য করে। এখন তারা একে অপরের বিরোধীতার নাটক করছে। বাংলার মানুষ অতীত ইতিহাস জানেন। তারা এই ফাঁদে পা দেবেন না।’
কেরালা প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, তৃতীয় বার ফের সেই রাজ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবেন বামপন্থীরা।
MA Baby
রাজ্য এবং রাজ্যের মানুষের উন্নতির জন্য হারাতে হবে তৃণমূল-বিজেপিকে : বেবি
×
Comments :0