Annapurna Yojna

১০ হাজার মাসিক আয়ে অন্নপূর্ণায় ‘অযোগ্য’

রাজ্য

 মাসে ১০ হাজার টাকা আয়ের মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। 
বুধবার সরকারের তরফে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের জন্য নয়া গাইডলাইনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যেসব মহিলা মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করেন তাঁরা অন্নপূর্না যোজনা বাবদ মাসে ৩ হাজার টাকা পাবেন না। একইসঙ্গে একাধিক নয়া শর্তের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। 
রাজ্য বিধানসভা ভোটের আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপক সব মহিলাদের অন্নপূর্না যোজনায় ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল বিজেপি’র। এমনকি রাজ্যে ক্ষমতায় এসে গত ১৯ মে রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর থেকে অন্নপূর্না যোজনার উপভোক্তা চিহ্নিত করতে একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। তাতে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে স্থায়ী সরকারি চাকরি, সরকারি কোষাগার থেকে বেতন প্রাপকদের বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। 
সেইসঙ্গে এসআইআর পর্বে মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট ও নিখোঁজ ভোটারদের তথ্য যাচাই করে ভাতা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু সরকার নয়া গাইডলাইনকে সামনে আনা হলো। রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, ‘‘মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি করার প্রলোভন দেখিয়ে ছোটো হরফে ঝুঁকির কথা লেখা থাকে। কিংবা শর্তাবলী প্রযোজ্য লেখা থাকে। ভোটের আগে ও পরে অন্নপূর্না নিয়ে রাজ্যের মহিলাদের সঙ্গে সেই প্রতারণাই করছে রাজ্য সরকার।’’
এখন নয়া শর্তে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ভাতা প্রাপকদের মধ্যেই বাছাই করবে সরকার। তবে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে বিধবা ভাতা প্রাপকদের মধ্যে অন্নপূর্না যোজনার আবেদনকারী থাকলে তাঁরা মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। এক্ষেত্রে তাঁরা আর বিধবা ভাতার দেড় হাজার টাকা পাবেন না। 
রাজ্য সরকার দুটি সরকারি অনুদান প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল করেছে। একটি প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি প্রাপক মহিলারা অন্নপূর্না যোজনায় যোগ্য বলে বিবেচিত হলে দুটি ভাতাই পাবেন। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‘গত জুন মাসে রাজ্য বাজেটে অন্নপূর্নার জন্য আগামী নয় মাসের বাজেটে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আগামী নয় মাসে রাজ্যের কোষাগার থেকে অন্নপূর্না যোজনার জন্য ৪৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। রাজ্য সরকার নিজস্ব আয় থেকে এই বিপুল টাকা খরচ করতে প্রস্তুত। 
গত ২৮্জু ন রাজ্য সরকার প্রথম পর্যায়ে অন্নপূর্না যোজনার জন্য ২৮ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পাঠানোর দাবি করেছিল। পরবর্তী পর্যায়ে জুলাই মাসে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১ কোটি ১৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্না যোজনার প্রথম মাসের ৩ হাজার করে টাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছিল। সরকারের দাবি মতো, এখন এরাজ্যে ১ কোটি ৪৭ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্না যোজনার একমাসের টাকা পেয়েছেন। কিন্তু ঘটনা হলো, সরকারের এই দাবির সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একসময় লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়া মহিলারা অন্নপূর্না যোজনার আবেদন করেও টাকা না পেয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। বিশেষ করে রাজ্যজুড়ে গ্রামাঞ্চলে বিডিও অফিসে বিক্ষোভে শামিল হন শয়ে, শয়ে মহিলা। রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সংখ্যায় মহিলাদের অন্নপূর্না যোজনার টাকা না পাওয়ার ক্ষোভ সামলাতে এদিন শর্তের কিছু সংশোধন করার সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
গ্রামাঞ্চলে তিন কক্ষ বিশিষ্ট ঘর থাকলে অন্নপূর্না যোজনার আবেদনকারীদের বাদ দিয়েছিল রাজ্য সরকার। এখন সেই নিয়ম গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে শিথিল করা হচ্ছে। আবার কলকাতা কর্পোরেশন সহ রাজ্যের সাতটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমির মালিকানা থাকলে অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বাদ যাবেন মহিলারা। তবে রাজ্যের পৌরসভা ও গ্রামীণ এলাকায় জমির মালিকানা সংক্রান্ত এই নিয়মকে শিথিল করার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। 
গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত অন্নপূর্না যোজনার জন্য আবেদনের পোর্টাল খোলা ছিল। ফলে ওই সময় পর্যন্ত আবেদনকারী মহিলাদেরই এখন অন্নপূর্না যোজনার জন্য যোগ্যতার যাচাই পরীক্ষায় বসতে হবে। রাজ্যে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১ কোটি ৭০ লক্ষ মহিলা আবেদন সরকারের কাছে পড়ে আছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘‘ তিন কক্ষ বিশিষ্ট ঘর ও জমির ক্ষেত্রে শিথিলতার ফলে গ্রামীণ এলাকায় আবেদনকারী মহিলাদের বড় অংশই এবার অন্নপূর্না যোজনার উপভোক্তা হিসাবে বিবেচিত হবেন।’’ ফলে নয়া শর্তে মহিলাদের আবেদন যাচাই করে যোগ্যদের আগামী ১৭ আগস্ট রাজ্য সরকার তৃতীয় পর্যায়ের যোগ্য বিবেচিত মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্টে টাকা তুলে দেবে।

Comments :0

Login to leave a comment