Birbhum

সম্প্রীতির অনন্য নজির বীরভূমের সাদীনগর গ্রামে

রাজ্য জেলা

রুহুল আমিন: কীর্ণাহার
বীরভূমে সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়লেন গ্রামের মুসলিম প্রতিবেশীরা। হিন্দু পরিবারের পরিযায়ী শ্রমিক প্রদীপ দলুই’র ভিন মরদেহ রাজ্য থেকে আনা থেকে বাঁশের মাচা বাঁধা, শেষযাত্রা ও শ্মশানে শেষকৃত্য সবটাই করলেন।
জেলার কীর্নাহার থানার দাসকলগ্রাম কড়েয়া-২ অঞ্চলের সাদীনগর গ্রাম। সেই গ্রামের ছেলে প্রদীপ দুলই(৩০)। বাড়িতে এক ভাই এক বোনকে রেখে এলাকায় কোন কাজ না থাকায় ছত্রিশগড়ের রায়পুরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান সম্প্রতি। এই খবর গ্রামে চাউর হতেই সেই ছত্রিশগড় থেকে দেহ আনার ব্যবস্থা করেন গ্রামের মুসলিম সম্প্রাদায়ের মানুষরা। 
মৃত প্রদীপ দলুই’র জেঠ তুতো দাদা মঙ্গলবার বলেন, আমরা খুব গরিব। এই সাদীনগর গ্রামে ৩০০ পরিবারের বাস। তার মধ্যে মাত্র চার ঘর দলুই পরিবার। আর বাকি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। বিপদে পড়লে এমনকি গ্রামে ঈদে, পূজো, পার্বনে আমরা একসঙ্গে উৎসব পালন করে থাকি। এমনি সম্প্রীতির কথা জানালেন তার জেঠতুতু দাদা স্বপন দলুইও। ভাইয়ের মরদেহ ছত্রিশগড় থেকে গ্রামে আনা হয় গত শনিবার বিকেলে। যখন শবদেহের গাড়ি গ্রামে ঢোকে তখন সারা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। দেখতে এসে জামিরা বিবি, মেরিনা বিবি, সাহিনা বিবিরা সহ সমস্ত মহিলারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
এদিকে শবদেহ শ্মশানে নিয়ে যাবার জন্য বাঁশের মাচা বাঁধা থেকে শেষযত্রায় অংশগ্রহণ করেন গ্রামের যুবক মহিরুল ইসলাম, আশরাফুল শেখ সহ অনেক মুসলিম যুবক। সেখানে তারই শবদেহ কাঁধে করে শ্মশানে নিয়ে যান। সেখানে ওই গ্রামের বাসিন্দা আফসার হোসেন জানান, এই গ্রামে মাত্র চার ঘর হিন্দু পরিবারের বাস। এরা খুব গরিব, কোন রকম দিনমজুরি করে সংসার চালান। বাড়িতে বিবাহ যোগ্য বোন ভাই আছে তাঁর। তাদের বাড়িতে রেখে দুটি টাকা রোজগারের আশায় গিয়েছিল ভিন রাজ্যে কাজ করতে। সেখানেই সে দুদিনের জ্বরে মারা যায়। ভাই বোন অনাথ হয়ে গেল। আমরা সারা গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে তার দেহ আনা থেকে সবটাই করেছি। শুধু এই বিষয়ে নয় সমস্ত আপদে বিপদে উৎসবে আমার সবাই এক সঙ্গে পালন করি। কোন বিরোধ নেই এই গ্রামে আমদের।
কীর্ণাহার এলাকার বাসিন্দা সিপিআই(এম) নেতা মনোতোষ মজুমদার মঙ্গলবার জানান, আমরা সেখানে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি। দেশ জুড়ে যখন বিভেদের রাজনীতিতে গরিব মানুষ আক্রান্ত তখন সম্প্রীতির নজির গড়লো সাদীনগর গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের অভিনন্দন জানাবার ভাষা নেই।

Comments :0

Login to leave a comment