Maynaguri Tea Gardens

চা বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহারের অভিযোগ ময়নাগুড়িতে, জারি নিষেধাজ্ঞা

জেলা

চা বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহারের অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ময়নাগুড়িতে। অভিযোগ দোমহনি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পাইটকাখোঁচা এলাকায় একটি চা বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশক ‘মনোসিল’ বা মনোক্রোটোফস প্রয়োগ করা হচ্ছিল। স্থানীয় ক্ষুদ্র চা চাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে ওই বাগানের মালিককে হাতেনাতে ধরার পর প্রায় ছয় বিঘা চা বাগান এক বছরের জন্য সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাইটকাখোঁচা ও শালবাড়ি এলাকায় সুশীল সরকারের চা বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশক প্রয়োগের খবর পেয়ে চাষী ও ব্যবসায়ীরা সেখানে যান। তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থলে ওই কীটনাশক ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। কীভাবে এবং কোথা থেকে ওই কীটনাশক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব না মেলায় যৌথ ভাবে বাগানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জলপাইগুড়ি জেলা চা চাষী উন্নয়ন সমিতি, স্থানীয় চা ব্যবসায়ী সমিতি এবং ক্ষুদ্র চা চাষীদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী এক বছর ওই বাগান থেকে কোনও চা পাতা কেনা হবে না। পাশাপাশি বাগান কর্তৃপক্ষকে অবশিষ্ট চায়ের নমুনার এম আর এল পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরীক্ষায় নিরাপদ রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত চা পাতা কেনাবেচার উপর নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে।
চা চাষীদের বক্তব্য, নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত কীটনাশকের ব্যবহার শুধু শ্রমিক ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় না, চায়ের গুণমান এবং বাজারের গ্রহণ যোগ্যতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত রপ্তানির ক্ষেত্রে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ নির্ধারিত মাত্রার বেশি থাকলে চা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
জলপাইগুড়ি জেলা চা চাষী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ রায়-সহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, চা শিল্পের মান বজায় রাখতে নিষিদ্ধ কীটনাশকের ব্যবহার রুখতে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে। ক্ষুদ্র চা চাষীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণ ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিষয়টি জানিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment