Alternative Urbanization

খেটে খাওয়া মানুষের শহর কেমন হবে , মতবিনিময় কাকাবাবুর জন্মদিনে

রাজ্য কলকাতা

শহর ব্যবসায়িক লেনদেনের কেন্দ্র। শহরেই আবার থাকেন বহু শ্রমজীবী মানুষ। বিকল্প নগর পরিকল্পনায় বামপন্থীরা প্রাধান্য দেয় এই অংশকে। 
বিকল্প নগরায়ন সংক্রান্ত আলোচনায় উঠে এলো এই মতামত। মুজফ্‌ফর আহমদ্‌ জন্মদিবসে আলোচনার বিষয় ছিল ‘স্বাধীনতা পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের নগরায়ন: সঙ্কট ও বিকল্প ভাবনা’। অংশ নেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য এবং কল্যাণীর প্রাক্তন চেয়ারপার্সন শান্তনু ঝা অংশ নেন আলোচনায়। সঞ্চালনা করেন নির্মাণ প্রযুক্তিবিদ পার্থপ্রতিম বিশ্বাস। নগর পরিকল্পক বিমান ব্যানার্জিও অংশ নেন আলোচনায়।
বিমান বসু বলেন, 
গরিব মানুষকে বাদ দিয়ে বিকাশের পরিকল্পনা হয় বিকাশের চরিত্র পুঁজিবাদী বলে। বিকল্পের প্রয়োজন ব্যাখ্যা করেন তিনি। 
বসু বলেন, কলকাতা পরিকল্পিত শহর নয়। কর্পোরেশনটি যখন গড়ে ওঠে তখন ৪৪টি ওয়ার্ড ছিল। এখন ১৪৪টি ওয়ার্ড। তিনি বলেন, জধানী থাকার কারণে বিভিন্ন জাত, ধর্মের মানুষ থেকেছেন।  
তিনি বলেন, মূলত নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল শিল্প বিপ্লবের পর।  যন্ত্র সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ কৃষি ক্ষেত্রে মানুষ বেকার হতে শুরু করে। তখন কাজের খোঁজে তারা অনেকে শহরমুখী হয়। ফলে শহরে বসবাসের জন্য মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। 
তিনি বলেন, শহরে এল কেন মানুষ? এর পেছনে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথম, সহজে শিক্ষার সুযোগ মেলে। দ্বিতীয়,  চিকিৎসার সুযোগ অনেক বেশি। তৃতীয় জীবিকার সুযোগ বেশি। মফস্বল শহরগুলিতে ন্যূনতম এই তিন পরিষেবা দিতে পারলে নগরায়নের চাপ অনেক কমবে। তিনি বলেন, আরও একটি কারণ রয়েছে শহরের কাছাকাছি আসার। কারণ শহরকে কেন্দ্র করেই শাসনের ভরকেন্দ্র থাকে। শাসনের কেন্দ্র থেকেই শাসককে চাপ দিতে চায় মানুষ। তাই সমস্ত আন্দোলন-লড়াই গ্রাম থেকে শহরে এসেই হয়। 
বসু বলেন, কলকাতায় কলকাতা কর্পোরেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত করে বামফ্রন্ট সরকার। ১৯৮০ সালে আইন করে কলকাতা কর্পোরেশনকে স্বায়ত্ত শাসনের অধিকার দেওয়া হয়। ফলে যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হবেন তাদের মানুষের কাছে দায় থাকবে। আর ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ফলে মানুষের পরিষেবা উন্নত হয়েছিল।  তৎকালীন বোর্ড চেষ্টা করেছিল পরিষেবা কে একদম শহরের প্রান্তসীমায় সমানভাবে পৌঁছে দিতে। 
মহম্মদ সেলিম বলেন, কলকাতায় দেশভাগের পরিপ্রেক্ষিত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ছিল কলকাতা কেন্দ্রিক। 
বামফ্রন্ট সরকারের অবদান হলো ছোট মাঝারি শহরের বিকাশ করা। পরিকল্পনা করে নগরায়ন করা হলো। কলকাতা কেন্দ্রিক নগরায়নকে ছড়িয়ে দেওয়া হলো।
তিনি বলেন, শহর চালায় খেটে খাওয়া মানুষ। তাঁদের জন্য ব্যবস্থা না থাকলে বস্তিই হবে মাথা গোঁজার ঠাঁই। তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক পরিকল্পনায় নগরায়ন হলে নগরের সাধারণ বাসিন্দাদের কথা ভাবা হবে না। ‘হাউজিং‘ গড়ে উঠছে কিন্তু ‘হ্যাবিটেশন’ হচ্ছে না। 
শ্রীদীপ ভট্টাচার্য বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে নগরায়ন। সঙ্কট ও বিকল্প ভাবনা। 
তিনি বলেন, নগর মানে শ্রেণি শোষণের কেন্দ্রও। একদিকে পুঁজিপতি আরেকদিকে শ্রমিক শ্রেণি। তাই শ্রেণি সংগ্রাম তীব্রতর শহরে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে উচ্ছেদও শোষণ।  
শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রামের পাশাপাশি অন্যান্য অংশের লড়াই চলছে। সেদিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। ফলে বিকল্প নগরায়নের লড়াই আসলে বিকল্পের পক্ষে শ্রেণির লড়াই।

Comments :0

Login to leave a comment