Annapurna Yojana Protests

প্রশ্নের মুখে মন্ত্রী-বিধায়ক, রাজ্যজুড়ে অব্যাহত মহিলাদের বিক্ষোভ-অবরোধ

রাজ্য জেলা

বিরাটি স্টেশনের রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ

বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও রাজ্যজুড়ে মহিলাদের বিক্ষোভ-অবরোধের ঘটনা অব্যাহত। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ সর্বত্র ধরা পড়েছে একই চিত্র। এদিন মহিলাদের রোষে পড়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এদিন মেদিনীপুরের জেলাশাসক দপ্তরে তাঁকে সামনে পেয়ে প্রশ্ন করলেন মহিলারা। কেন তাঁরা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা পেলেন না। 
এদিন মহিলাদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে আলিপুরদুয়ার। কালচিনি, আলিপুরদুয়ার-২ ও ফালাকাটা ব্লক অফিসে বিক্ষোভের পাশাপাশি শামুকতলা ও ফালাকাটায় জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়ক অবরোধে সামিল হন হাজার হাজার মহিলা। প্রশাসনের কাছে তাঁদের একটাই প্রশ্ন- অন্নপূর্ণার টাকা কবে ঢুকবে?
আলিপুরদুয়ার-২ ব্লক অফিসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বক্তব্য রাখার সময় ক্ষুব্ধ মহিলারা প্রশাসনিক কর্তাদের ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তাদের দরজা বন্ধ করে দিতে হয়। পরে মহিলারা দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। বিক্ষোভের সময় কিছু কাগজপত্র ছুড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে।
এদিন সকালে অফিস খোলার পরেই মহিলারা দলে দলে ধূপগুড়ি পৌরসভার দিকে যান। অনেকেই এতটা উত্তেজিত ছিলেন যে শেকল তালা নিয়ে আসেন অফিস বন্ধ করে দেবার জন্য। পৌরসভা অফিসে বিক্ষোভ দেখে আধিকারিক সহ কর্মীরা পালিয়ে যান। এখান থেকে  মহিলারা বিডিও অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ভিডিও অফিস  চত্বরে। ক্ষিপ্ত হয়ে মহিলারা ফালাকাটা রোড এবং থানা রোডের মুখে বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বেলা বাড়তেই গ্রামগঞ্জ থেকে আরও মহিলা এসে সামিল হন। সহস্রাধিক মহিলা ৫১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের এবং এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ অবরোধ করেন। অবরোধে আসাম ভুটান বাংলাদেশ চলাচলের এবং সমগ্র উত্তর পূর্ব ভারতের যানবাহন সহ উত্তরবঙ্গের সব শহরের যাতায়াতের রাস্তা  বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ এসে অবরোধ তোলার চেষ্টা করে কিন্তু বিক্ষোভকারীরা পুলিশের কথায় আমল দেননি। তাদের দাবি করেন মহুকুমা শাসককে এসে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তাদের অভিযোগ এই মহুকুমা শাসক কোনোদিন সাধারণ মানুষের  সাথে দেখা করেন না কথা বলতে চাননা। বিক্ষোভের কথা জানতে পেরেও বিডিও এসডিও বিধায়ক সকলেই পলায়ন করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে বিক্ষোভকারীদের তাড়া করে রাস্তা খুলে দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুভেন্দু অধিকারী,বিজেপির নেতারা   ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সব মহিলা ভাতা পাবে। কিন্তু বাস্তবে ঝারাই বাছাইয়ের  নামে বেশির ভাগ মহিলাকে বাদ দেওয়া  হচ্ছে। এই সরকার এনে আমরা চরম ভুল করেছি। চোর তাড়াতে গিয়ে ধাপ্পাবাজ সরকার এনেছি। 
বিক্ষোভকারী টুলটুলি রায় , কোহিনূর বেগম বলেন ওষুধ কেনার টাকা নেই মানুষের বাড়িতে জমিতে দিনমজুরি করি আমাদের নাম বাদ। চার চাকার গাড়ি, ছাদ দেওয়া বাড়ি, চাকরি আছে এমন পরিবার টাকা পেয়েছে। ভাতা দেবার নামে মাসের পর মাস হয়রানি করা হচ্ছে। বিক্ষোকারীদের বক্তব্য বামফ্রন্ট সরকার ভাতা না দিলেও এমন মিথ্যাচার করেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধ্যের মধ্যে ছিল চুরি ছিল না। এখন বুঝতে পারছি বাম আসলে শান্তি আসবে। 
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে শুক্রবারও উত্তপ্ত রইল ধূপগুড়ি। বকেয়া টাকা দ্রুত মেটানোর দাবিতে প্রথমে ধূপগুড়ি পৌরসভায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলারা। সেখানে কোনও আধিকারিকের দেখা না মেলায় ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এরপর পৌরসভা থেকে পায়ে হেঁটে থানা মোড় হয়ে চৌপতিতে পৌঁছে এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ অবরোধ করেন তাঁরা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলায় যান চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
একই দাবিতে শুক্রবার ময়নাগুড়িতেও বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করেন মহিলারা। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে প্রথমে ময়নাগুড়ি বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পরে অফিসের সামনের জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জে বিক্ষোভ হয়েছে। সেরপুরে এমনকি রায়গঞ্জ পৌরসভায় এক্সিকিউটিভ অফিসারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মহিলারা। হেমতাবাদ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ হয়। মহিলাদের বক্তব্য পুলিশের স্ত্রীর একাউন্টে টাকা ঢুকেছে, স্বাস্থ্য কর্মীর পরিবারে ৪ জনের একাউন্টে টাকা ঢুকেছে অথচ প্রকৃত গরীব মানুষ যাদের হাটের ব্যবসা করে সংসার চলে তাদের কারও যোজনার টাকা ঢোকেনি। মহিলাদের বক্তব্য প্রতিশ্রুতি দিলেও কেন সবার ঘরে টাকা আসবে না! ইসলামপুর পৌরসভা এবং চোপড়া বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখালেন একাধিক মহিলা। ইসলামপুর পৌরসভার সামনে বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, তাঁরা একাধিকবার পৌরসভায় এসে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরিবর্তে ইনকোয়ারির নামে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে প্রাপ্য টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে পৌরসভার চেয়ারম্যান কানাইয়ালাল আগরওয়াল মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, অনেকের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা ঢোকেনি। সরকার যেভাবে নির্দেশ দেবে, সেই অনুযায়ী পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে  দফায় দফায় রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ চলছে। কোথাও অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে তালা ঝোলাচ্ছে মহিলারা। বালুরঘাট ব্লকের চকভৃগু এলাকার ময়ামারি গ্রামের অঙ্গন ওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা ঝোলালে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না পাওয়ায় গ্রামের অঙ্গন ওয়াড়ি সেন্টারের কর্মীকে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রামের মহিলারা। খবর পেয়ে ছুটে আসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। মহিলারা অভিযোগ করেন অন্নপূর্ণা ভান্ডারের বিভিন্ন বিষয়ের সরজমিন তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ওই সেন্টারে কর্মী। কিন্তু তিনি সঠিক দ্বায়িত্ব পালন করেন নি বলেই তারা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাচ্ছে না। এদিকে সাংবাদিকদের সামনে ওই সেন্টারের কর্মী বলেন, আমি এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ি চিনি। আমার ভূল হয়নি যা সত্যি তাই পাঠিয়েছি। এদের বেশিরভাগই পাওয়ার যোগ্য। তিনি বলেন সরকারি নির্দেশ মতো  আমার যে টুকু কাজ ছিলো আমি করে দিয়েছি। কিন্তু কেনো পাচ্ছে না আমিও জানিনা।  তিনি বলেন আমি ওদের বলেছি আপনারা বিডিও অফিসে চলুন প্রয়োজনে আমিও সঙ্গে যাবো।

এদিন ক্রান্তি ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ও দ্রুত তাদের প্রকল্পের টাকা দেবার দাবী করেন। লাটাগুড়ি মৌলানী ও ক্রান্তি গ্রাম পঞ্চায়েতে মহিলারা জড়ো হয়ে জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। এর মধ্যে ক্রান্তি ও মৌলানী গ্রাম পঞ্চায়েতে তালা দিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। 
শুক্রবার দুপুরে বিরাটি স্টেশনের রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়। প্রায় আধ ঘণ্টা ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে রেল পুলিশ এবং আরপিএফ পৌঁছায়। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 
পটাশপুর ২ বিডিও অফিসের গেটে তালা লাগিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এলাকার মহিলারা। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় পটাশপুর ২ বিডিও অফিসে। খবর পেয়ে পটাশপুর থানার পুলিশ দৌড়ে আসে। তারপরও পুলিশের সামনেই মহিলারা চিৎকার করে টাকা দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। মহিলারা জানান, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এর আগে একবার টাকা পেয়েছেন কিন্তু তারপরও আগস্ট মাসের সতের তারিখ থেকে কুড়ি তারিখের মধ্যে টাকা পাননি। আবার অনেক মহিলা রয়েছেন, যাঁরা আবেদন করার পর এপর্যন্ত একবারও টাকা পাননি। দিনের পর দিন ঘুরেও কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই এদিন তাঁরা পটাশপুর ২ বিডিও অফিসে এসে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁরা বলেন,  সরকার থেকে যা যা নথি চাওয়া হয়েছিল তা দেওয়ার পরও কেন তাঁদের তাঁদের টাকা ঢোকেনি প্রশাসনকে তার জবাব দিতে হবে। নিজেদের যোগ্য দাবি করে তাঁরা আরও বলেন, একজনের টাকা ঢুকছে তো আরেকজনের ঢুকছে না। এটা মোটেও ঠিক নয়। সরকার দিলে সবাইকে দিক নাহলে সবার বন্ধ হোক। ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, যে সমস্ত উপভোক্তারা এখনও পর্যন্ত টাকা পাননি, তাঁদের নতুন করে সবকিছু জানিয়ে লিখিত আবেদন দিতে হবে।
সড়ক অবরোধ করে কালনা ১ নম্বর ব্লকের মহিলারা। লিচুতলাস্থিত কালনা এক নম্বর ব্লক দপ্তরের সামনে এস টি কে কে সড়ক অবরোধ করেন তারা। আধঘন্টা অবরোধ চলার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনে। 
পুরুলিয়ায়  দিকে দিকে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হলেন মহিলারা। কোথাও দু'ঘণ্টা, কোথাও আবার ৫ ঘন্টা ধরে চলল অবরোধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাকাল হয় পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। পুরুলিয়া-বাঁকুড়া ৬০(এ) জাতীয় সড়কের পুরুলিয়া রেনিরোডে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। টাকা না মেলায় পুরুলিয়া - জামশেদপুর ১৮ নম্বর জাতীয় সড়কের পুরুলিয়া দুলমি এলাকায় টানা ৫ ঘণ্টা ধরে আবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন মহিলারা। অভিযোগ কেউ দুমাস কেউ তিন মাস আগে অফলাইন বা অনলাইনে আবেদন করেছেন। 
পান্না কুন্ডু নামে এক আন্দোলনকারীর বক্তব্য সবকিছু জমা দেওয়ার পর কেন দীর্ঘদিন ধরে আন্ডার প্রসেস বলে রেখে দেওয়া হয়েছে। মুখ চেয়ে চেয়ে টাকা দেওয়া হচ্ছে। ভোটের আগে বলা হয়েছিল সবাইকে অন্নপূর্ণার ভান্ডার দেওয়া হবে। অথচ এখন  নতুন নতুন নিয়ম করে ঝাড়াই বাছাই করা হচ্ছে। ভোটের সময় এইসব মনে ছিল না। পুরুলিয়া বিধানসভার যে বিধায়ক ভোটের আগে সকলকে অন্নপূর্ণা ভান্ডারে টাকা দেবেন বলে জানিয়েছিলেন তাকেই এখন পাওয়া যাচ্ছে না। মহিলাদের বক্তব্য পৌরসভায় যাওয়ার পরে তারা জানিয়ে দিচ্ছে তাদের কিছু করার নাই। সরকার বাধ্য করছে তাদেরকে পথে নামতে। অবিলম্বে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পেলে ফের তারা আন্দোলনে নামবেন বলে জানিয়েছেন। 
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১০ টি স্থানে এবং ঝাড়গ্রাম জেলা শহর ও গোপীবল্লভপুরে মহিলাদের তুমুল বিক্ষোভ অন্নপূর্ণা যোজনায় বঞ্চিত রাখার প্রতিবাদে।  গত মে মাসে বা জুন মাসে যারা  এক বার অন্নপূর্ণা ভাতা পেয়েছেন, তারা আর পান নি। মানে এক ৩০০০ টাকা দিয়ে তিন মাস পর আবার ভাতা মানে মাসে এক হাজার করেই এই সরকার ভাতা দিচ্ছে বলে এমনো অভিযোগ উঠে আসে। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি তিন হাজার আর ভোটের পর বুলডোাজার এমন ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়ে ভাঁওতাবাজ সরকার উল্লেখ করে মহিলারা ক্ষোভ উগরে দেন বিক্ষোভ অবরোধ করে।
এদিন সকালে মেদিনীপুর শহরে ধর্মামোড়ে বিজেপি বিধায়ক শংকর গুছাইতের বিধায়ক সেবা কেন্দ্র ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ৯টি বিডিও দপ্তর, ২টি পৌরসভা সহ একাধিক গ্রামপঞ্চায়েত দপ্তরে মহিলাদের বিক্ষোভ সহ সড়ক অবরোধে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। অন্নপূর্ণা যোজনায় কেন বঞ্চিত করা হলো জবাব চেয়ে মহিলারা ক্ষোভ উগরে দেন। ঝাড়গ্রাম জেলা শহর ও গোপীবল্লভপুর বিডিও দপ্তরে বিক্ষোভ সহ পথ অবরোধ করেন মহিলারা। মেদিনীপুর শহরে বিজেপি বিধায়ক শংকর গুছাইতকে তার বিধায়ক সেবা কেন্দ্রে আটক রেখে কৈফিয়ত চান মহিলারা। মহিলারা বলেন, লক্ষী ভান্ডারে তারা প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা পেতেন। এখন এক বার ৩০০০ টাকা দিয়ে টানা তিন মাস বন্ধ  মানে মাসে এক হাজার টাকা পাওয়া। তাহলে ভোটের আগে কেনো সবার ৩০০০ টাকা ভাতা দেবেন বলে ছিলেন এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন নি বিজেপি বিধায়ক।
শুক্রবার কল্যাণী পৌরসভায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। 

ক্ষুব্ধ মহিলারা শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, পথ অবরোধ করেন। এদিন রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার হরিনাভি দপ্তরে বিক্ষোভ হয়। পথ অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। বিষ্ণুপুর ১ ব্লক দপ্তর, জুলপিয়া পঞ্চায়েত, রায়দিঘিতে মথুরাপুর ২ ব্লক দপ্তর, সাগর, নামখানা, কাকদ্বীপ, বাসন্তী ব্লক দপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় মহিলারা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করে বলেন, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পেতে মহিলাদের হয়রানি করা হচ্ছে। 

Comments :0

Login to leave a comment