ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যুক্ত থাকায় বিজেপি’র কর্মীরা মারধর চালিয়েছিল। ছেলে শেখ মহম্মদ আবদুল হাফিজকে বাঁচাতে যান বাবা। তিনিও গুরুতর আহত হন। তাঁর চিকিৎসায় পর্যন্ত বাধা দেওয়া হয়। গতকাল, ১৫ আগস্ট রাতে, বর্ধমানের হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে, হাফিজের বাবা, বছর ছেচল্লিশের শেখ মহম্মদ মাফিকের।
বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার কোরিশুন্ডা দ্বারকাপাড়ার এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন সাতাশ বছরের যুবক শেখ মহম্মদ আবদুল হাফিজ। সোশাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, দিল্লির যন্তর-মন্তরের আন্দোলন এবং শিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে একটি রিলও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন তিনি। ইন্দাসের স্থানীয় বিজেপি নেতারা তখন থেকেই খেপে ছিল।
দিল্লি থেকে ফিরে স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে খোঁজখবর নিতে পৌঁছান হাফিজ। কোরিশুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান গত ১৩ আগস্ট। প্রধান শিক্ষক হাফিকজে খানিক পরে আসতে বলে বিজেপি নেতাদের খবর দেন। বিজেপি’র কর্মী এবং নেতারা সরাসরি বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়। চলতে থাকে মারধর।
ছেলেকে বাঁচাতে বেরিয়ে আসেন শেখ মহম্মদ মাফিক। তখন তাঁর ওপর চড়াও হয় এই দুষ্কৃতী বাহিনী। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা এবং ছেলে, দু’জনকেই ইন্দাস প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিজেপি’র দুষ্কৃতীবাহিনী চারদিক ঘিরে রেখেছিল।
গতকাল, ১৫ আগস্ট রাতে অবস্থা খারাপ হয় দু’জনেরই। কোনও রকমে দু’জনকে নিয়ে যাওয়া হয় ইন্দাস হাসপাতালে। ইন্দাস হাসপাতাল থেকে দু’জনকে পাঠানো হয় বর্ধমানের হাসপাতালে। সেখানেই রাতে মৃত্যু হয় মাফিকের। হাফিজ আহত অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন।
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ঘটনা ঘিরে ক্ষোভ ছড়ায়। পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু মারধর এবং তারপর চিকিৎসা করাতে বাধার সময় পুলিশ কী করছিল, সে প্রশ্নে তোলপাড় গোটা এলাকা।
BJP Attacked CJP Activist at Indus killing Father
বাঁকুড়ায় ককরোচ আন্দোলনের কর্মীর বাড়িতে হামলা বিজেপি’র, মৃত্যু বাবার
ছবি প্রতীকী।
×
Comments :0