Md Salim at East Bardhaman

প্রতিবাদী মানুষদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদের লেলিয়ে দিচ্ছে বিজেপি, পূর্ব বর্ধমানে সাংবাদিক সম্মলনে সেলিম

রাজ্য জেলা

শঙ্কর ঘোষাল: বর্ধমান 
গুন্ডা দমন আইন বলে ঘোষণা করার পর এখন মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবাদী মানুষদের বিরুদ্ধে  গুন্ডাদের লেলিয়ে দিচ্ছেন? বাঁকুড়ার ইন্দাসে স্কুলের হাল ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনে দমানোর জন্য বিজেপি’র আক্রমণে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা’র মৃত্যুর তীব্র নিন্দা করেছেন মহম্মদ সেলিম। সোমবার পূর্ব বর্ধমানে সিপিআই(এম)’র জেলা কমিটির সভায় যোগ দিতে এসে তিনি বলেছেন, এই গুন্ডামি রাজ্যের মানুষ বরদাস্তত করবেন না। যেমন স্কুলগুলোকে বাঁচাতে হবে তেমন ইন্দাসের ঘটনায় সব অপরাধীদের ধরতে হবে। এই পরিবারের মেয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে পাশাপাশি পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।  
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেছেন, ১৩ আগস্ট ঘটনা ঘটেছে পুলিশ গুন্ডাদের পক্ষ নিয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি, পরে আন্দোলনের চাপে ১৬ তারিখ অভিযোগ নিতে বাধ্য হয়েছে ইন্দাস থানার পুলিশ। কিন্তু এখনও অনেক অপরাধী গ্রেপ্তার হয়নি। তদন্তে আনতে হবে ওই গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের হেড মাস্টার কেন শিক্ষা শিক্ষা বাঁচাতে তরুন প্রজন্মের শেখ আব্দুল হাপিজের বিরুদ্ধে গুন্ডা লেলিয়ে দিলেন? ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি বলেছিল ভয় আউট, ভরসা ইন। এখন ভয় বেড়েছে, যতদিন সরকার চলেছে মহিলাদের উপর অত্যাচার, ধর্ষণ বেড়েই চলেছে।  তিনি বলেছেন, রাজ্যে ১৫ বছরে ও উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খন্ড সহ দেশের একাধিক রাজ্যে একই অবস্থা স্কুলে। মিড-ডে মিলে দুর্নীতি, স্কুল পরিচালনায় অনিয়ম চলছে। এখানে বিজেপি’র নামে ভারতীয় গুন্ডা পার্টি তৈরি হয়েছে। মমতার সময়ে অভিযুক্তকে না ধরে অভিযোগকারীকেই আটক করা হতো। বর্তমানে সরকার, দল অপরাধীদের হয়ে গেছে। 
তিনি এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথাও বলেছেন, রাজ্যে কয়েকটি পার্টি তৃণমূলের দালাল তকমা পায়। কেউ কেউ আবার মমতার মধ্যে লেনিন খুঁজে পেয়ে ছিলেন এখন তারা সব বিজেপি’র কোলে গিয়ে বসেছে। কোন দল আবার তৃণমূলের দালাল অপবাদ মুছতে নিজেদের পার্টির পরে কমিউনিস্ট যোগ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, লাল ঝান্ডা সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এখনও আমরা রুজি-রুটির লড়াই আন্দোলনে আছি, থাকবো। তিনি বলেছেন, মানুষের টাকা যারা চুরি করে দুর্নীতি করে প্রাসাদ, অনৈতিক সম্পদ তৈরি করেছে সেই চুরির টাকা, সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষকে ফেরত দিতে হবে। তিনি একথাও স্মরণ করিয়ে দেন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আগে দুই ফুল নিরবে খেলেছে। ওদের মধ্যে কোন বিরোধ বা যুদ্ধ ছিল না। এখন ডিম খেলা চলছে। তিনি বলেছেন, তৃণমূলের ১৫ বছরে ৮০ হাজার মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় আমাদের বিরুদ্ধে, ঘরছাড়া করা হয়, চাষের জমি কেড়ে নেওয়া হয়, বিধানসভায় আমাদের বিধায়ক’রা আক্রান্ত হন মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। মানুষ এখন বলছেন, আপদ গেছে কিন্তু বিপদ বেড়েছে। আগে তৃণমূলের ১৫ বছরে এম এল এ, এম পি কিনেছে  এখন বিরোধী শূন্য করতে শুধু বিধায়ক, সাংসদ কিনছে বিজেপি শুধু তাই নয় ওরা পাড়া থেকে বিরোধী শূন্য করতে চায়য়ছে। কিন্তু এত সহজে তা হবে না। গোটা দেশে মানুষের মধ্যে বিজেপি বিরোধী মনোভাব গড়ে উঠেছে। সবাইকে ধর্মীয় বড়ি দিয়ে ভুল বুজিয়ে দমিয়ে রাখতে পারবে না। 


সেলিম  বলেন, তৃণমূলের জুলুম, অতত্যাচার, দুর্নীতি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ রাজ্যের মানুষ মুক্তি চেয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি, নারী নির্যাতন, তোলাবাজি আরও বেড়েই চলেছে। এখন তৃণমূল-২ সরকার চলছে। ওরা ভালো তৃণমূল খুঁজছে। বিজেপির সরকার লোক দেখানো গ্রেপ্তার করছে, ওদের দলের তোলাবাজদের পুলিশ ধরছে না। আগে তোলার টাকা কালীঘাটে জমা হতো এখন সরাসরি টাকা গেরুয়া দলের নেতাদের পকেটে ঢুকছে। তৃণমূলের সময় যেমনটা চলছিল তেমনই চলবে। শুধু শুধু লেনিন, বামপন্থী, সিপিআই(এম) ওদের মূল নিশানায়। লাল কেল্লার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশকে টার্গেট করে নয় ‘দিমাগী নকশাল’ নাম করে প্রতিবাদী কমিউনিস্টদের আক্রমণ করা হচ্ছে। দেশ জুড়ে হার্মাদ, জেহাদি, আরবান নকশাল নাম করে বিদ্বেষ, মিথ্যাচার করে চলেছে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। বিজেপি’র স্লোগান ছিল মাওবাদী নিকেশ করে উন্নয়ন গড়বো, যেখানে প্রশ্ন করা, প্রতিবাদী, সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরোধীতা করা নিষেধ আছে।  তাই লালগড়ে গ্রাম্য সভায় আলোচনা করা যাবে না, লোকসভা, বিধানসভায় আলোচনা চলবে না। একেই বলে ফ্যাসিবাদ। মিটিং’এ পুলিশ নিয়ে প্রতিবাদী মানুষের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। শিক্ষা বাঁচানোর জন্য ইন্দাসের ছাত্র আব্দুল হাপিজ যন্তর মন্তরে কেন গিয়েছিল? নিজে যে স্কুলে পড়েছে সেই  ইন্দাসে স্কুলের হাল ফেরানোর দাবিতে কেন প্রধান শিক্ষকের সাথে আলোচনা করবে? তার বিরুদ্ধে গুন্ডা লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, মারধর করা হয়য় লাঠি, রড নিয়ে ছেলেকে বাঁচাতে বাবার জীবন চলে গেলো। আক্রান্তদের চিকিৎসা পর্যন্ত করতে বাধা দেওয়া হয়। পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। এটা কি আইনের শাসন চলছে? রাজ্যের মানুষ যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। সিজেপি বলে গ্রামে ঢুকতে দেবে না, প্রতিবাদ করতে দেবে না, এখনও সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাই আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, মহিলা সমিতি। 
সেলিম এদিন বলেছেন রাজ্যে আইনের শাসন চাই,  মুখ্যমন্ত্রী হুঙ্কার দিচ্ছেন সিপিআই(এম)’র ৩৪ বছর দেখে নেবেন কিন্তু মাঝখানে তৃণমূলের ১৫ বছর ভুলিয়ে দিতে চায়ছেন মানুষকে। যার মধ্যে তৃণমূলের সাথে সমস্ত কুকর্মের ১০ বছর তিনি ছিলেন ওদের সাথে। সেই খাতা খুলবেন একদিন মানুষই। এদিন সাংবাদিকসভায়  ছিলেন পার্টির পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন। 

Comments :0

Login to leave a comment