উৎপল মজুমদার
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মালদহ জেলার কৃষক, খেতমজুর, প্রান্তিক দরিদ্র জনগণের দৈনন্দিন জীবনের জরুরী সমস্যা সমাধানের দাবিকে সামনে রেখে সারা ভারত খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবী ইউনিয়নের মালদহ জেলা কমিটির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার মালদহ টাউন হলে অনুষ্ঠিত হল এক জেলা কনভেনশন। কনভেনশনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সুমিত দে, নিরাপদ সর্দার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা কৌশিক মিশ্র সহ রাজ্যের সীমান্তবর্তী ৯টি জেলার প্রতিনিধি ছাড়াও সংগঠনের জেলা নেতৃত্ব।
শুরুতে পতাকা উত্তোলন করেন জেলা সভাপতি অনিমেষ সিনহা। এরপর শহীদ বেদীতে মাল্যদান করেন নেতৃবৃন্দ। এদিনের কনভেনশন উদ্বোধন করেন সারা ভারত খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবী ইউনিয়নের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক নিরাপদ সর্দার।
উদ্বোধনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিরাপদ সর্দার সীমান্তে বসবাসকারী প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, খেতমজুর সবার সমস্যা সমাধানের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার উপর জোর দেন। তিনি বলেছেন, "স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘসময়ে কেন্দ্রে যে সরকারই আসুক না কেন, তারা সীমান্ত বরাবর বসবাসকারী মানুষের সমস্যাগুলির সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবং এই গরিব প্রান্তিক মানুষজনকে নানা রকম অপরাধে অভিযুক্ত করেছে।" বর্তমানে যে দুই হাজার কিলোমিটার বরাবর কাঁটাতার আছে, তার ওপারে থাকা জমিগুলিকে চাষ করার ক্ষেত্রে প্রতিদিন যে হয়রানি হতে হয়, দ্রুততার সঙ্গে তার সমাধান করবার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে বিভিন্ন জমির চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলির কথা তার বক্তৃতায় উঠে এসেছে। তাছাড়াও সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের জন্য যে সকল জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, দীর্ঘদিন থেকে অধিকৃত জমির মালিকরা তার জন্য নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না, সে ব্যাপারে প্রশাসনিক উদ্যোগের দাবি জানান।
তিনি উল্লেখ করেন বিভিন্ন জেলার প্রশাসন দীর্ঘদিন থেকে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও সমস্যাগুলি সমাধান করতে চাইছে না।
নিরাপদ সর্দার এসআইআর এর নামে বিপুল মানুষের, যাদের মধ্যে একটা বড় অংশ এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর বাসিন্দা, তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জোটবদ্ধ হওয়ার কথা বলেন। কী ভাবে কেন্দ্রের ও রাজ্যের বর্তমান শাসকের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনের মত সংস্থাকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে বর্তমান শাসকের সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়ে তিনি সোচ্চার হন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের বিভিন্ন দাবি দাওয়া বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দাবি পূরণ করবার কথা বলেন। বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে আন্দোলন করবার আহ্বান জানান। কনভেনশনে নয়টি জেলার সীমান্তবর্তী ব্লকগুলি থেকে আগত প্রতিনিধিদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের পথ নির্ধারিত হবে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এরপর সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সুমিত দে, জেলা সম্পাদক জমিল ফিরদৌস, বিশ্বনাথ ঘোষ, কৌশিক মিশ্র, উত্তর ২৪ পরগণার জাকির হোসেন, নদীয়া জেলার উদয় বিশ্বাস। কনভেনশনে ওল্ড মালদহ ব্লকের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার এক বছর পঁচিশ এর তরুণী আনসারি খাতুন তাঁর নিত্যদিনের করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে কনভেনশনে উপস্থিত সকলে স্তব্ধ হয়ে যান।
কনভেনশনের পর মিছিল করে জেলা শাসকের দপ্তরে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন জমিল ফিরদৌস , অনিমেষ সিনহা, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাধু টুডু, গোপীনাথ বর্মন সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ৫জন প্রতিনিধি।
Comments :0