চা শ্রমিক সদস্যদের ইপিএফও সংক্রান্ত সমগ্র ব্যবস্থাপনা, নিবন্ধন থেকে শুরু করে পিএফ, পেনশন, ডিএলআই ও অন্যান্য দাবি নিষ্পত্তি পর্যন্ত শ্রমিক বান্ধব, হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ, সময়বদ্ধ এবং দুর্নীতি ও দালাল চক্রমুক্ত করার দাবিতে চা শ্রমিক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ জয়েন্ট ফোরামের পক্ষ থেকে ইপিএফও রিজিওনাল অফিসের রিজিওনাল পিএফ কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আট দফা দাবিকে সামনে বৃহস্পতিবার এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে চা শিল্পের প্রতিটি ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ ইপিএফ নথিভুক্তিকরন, বড় চা বাগান, মাঝারি ও ছোট চা উৎপাদক সহ চা শিল্পের সাথে যুক্ত প্রতিটি ইউনিট ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারিকে ২০২৬ সালের মধ্যেই ১০০ শতাংশ ইপিএফও’র আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান, পরিদর্শন ও বাস্তবভিত্তিক প্রয়োগের ব্যবস্থা কার্যকর করা, সমস্ত বকেয়া পিএফ, ডিএলআই, পেনশন, লোন ও অন্যান্য দাবির দ্রুত নিষ্পত্তি, অবসর, মৃত্যু বা চাকরি ছাড়ার একমাসের মধ্যেই দাবি নিষ্পত্তি, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকের উভয় অংশের বকেয়া পিএফ জমা নিশ্চিত করা, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আইন সম্মত অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী নিশ্চিত করা, বন্ধ পরিত্যক্ত ও দীর্ঘদিন ধরে অচল চা বাগানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, ন্যূনতম ইপিএফ পেনশন অবিলম্বে ৯ হাজার টাকা করা, চা শ্রমিকদের অবসরের বয়স সর্বত্র ষাট বছর নির্ধারন করা ইত্যাদি। এদিন স্মারকলিপি দেবার আগে জংশনে ইপিএফও রিজিওনাল অফিসের গেটের সামনে এক ঘন্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। স্মারকলিপি দেবার সময় ছিলেন চা শ্রমিক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ জয়েন্ট ফোরামের পক্ষে সমন পাঠক, গৌতম ঘোষ, স্বপন গুহ নিয়োগী, অলোক চক্রবর্তী, তপস গোস্বামী, দেবাশীষ শর্মা প্রমুখ। স্মারকলিপির প্রতিলিপি রাজ্যের মন্ত্রী-ইন-চার্জ, শ্রম ও কর্মসংস্থান দপ্তর, শ্রম কমিশনার, চেয়ারপার্সন, CCPAউদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ ইপিএফও সদস্যের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমাদের দেশের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন। যা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় শ্রমিকদের কষ্টার্জিত অর্থের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। সেই প্রতিষ্ঠানের পরিষেবা ও কার্যপ্রণালী নিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে প্রশ্নে উঠেছে। ইপিএফও’র মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি শ্রমিকদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়া দেশের বৃহত্তম সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাংবিধানিক সুরক্ষা ও শ্রমিকের অধিকারকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করছে। তাই অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইপিএফও’র প্রতি শ্রমিকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত দাবিদাওয়াগুলির পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্পের সাথে যুক্ত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই শ্রমিকবান্ধব, স্বচ্ছ, হয়রানিমুক্ত, সময়বদ্ধ এবং দুর্নীতি-দালালচক্রমুক্ত ইপিএফও পরিষেবা নিশ্চিত করতে দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
Tea workers
আট দফা দাবিতে চা শ্রমিকদের স্মারকলিপি, বিক্ষোভ প্রদর্শন
×
Comments :0