শান্তনু ঝা
শহর মানে কি শুধু ইট-পাথর-কাচের কাঠামো? নাকি তা হলো মানুষের হাসি, গলির মোড়ে চায়ের আড্ডা, আর বারান্দায় বিকেলের অবসর সময় ও? আজ কলকাতা শহরের বেলাগাম উচ্ছেদ থেকে শুরু করে দেশের প্রায় প্রতিটি মহানগরীতে যে বুলডোজার চলছে, তা কেড়ে নিচ্ছে শুধু বাড়ি নয়; কেড়ে নিচ্ছে শহরের ‘আত্মা’ও। কিন্তু এই উচ্ছেদ কি সর্বত্র উন্নয়নের লক্ষ্যে যৌক্তিক চাহিদা? নাকি এটি নয়া উদারবাদের এক ভয়ঙ্কর হাতিয়ার, যার নামে বিশ্বব্যাপী রিয়েল এস্টেট জায়ান্টরা মানুষের স্মৃতি, অধিকার ও সংস্কৃতিকে বাজারে বিকিয়ে দিচ্ছে? এই নিবন্ধে আমরা উচ্ছেদের মাধ্যমে ‘সৌন্দর্যায়ন’-এর বিপক্ষে যৌক্তিক প্রতিযুক্তিগুলোর ওপর একবার চোখ বোলাবো, দেখবো কীভাবে এটি মধ্যবিত্ত থেকে প্রান্তিক, সবার জীবনের ওপর অমানবিক বুলডোজার চালাচ্ছে এবং শেষে খোঁজ করবো বিকল্প পথের।
শহর পরিকল্পনাবিদরা যুক্তি দেন, মেট্রো, ফ্লাইওভার বা স্মার্ট সিটির জন্য উচ্ছেদ অনিবার্য। দিল্লির যমুনাপাড় বা মুম্বইয়ের মিঠি নদীর তীর উচ্ছেদকে তাঁরা ‘প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা’ বলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় আবাসন মন্ত্রকের ২০২৩ সালের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, এজাতীয় উচ্ছেদ অভিযানের ফলে বাস্তুচ্যুতদের ৭০% ক্ষেত্রেই পুনর্বাসন কর্মস্থল থেকে ৪০-৫০ কিলোমিটার দূরে ঘটছে। যেমন কলকাতার রাজারহাট থেকে মানুষকে সোনারপুরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতে সময় যায় ৪-৫ ঘণ্টা, বাড়ে পরিবহণ খরচ।
অর্থনৈতিক যুক্তি বলে—জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার (এফএআর) বাড়াতে হবে। কিন্তু আইআইটি-র সমীক্ষায় দেখা গেছে, উচ্ছেদের ফলে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক আয়ের ৪০% পর্যন্ত চলে যায় নতুন বাড়ির ভাড়া বা রক্ষণাবেক্ষণে। অর্থাৎ, নগর নবায়নের নামে নাগরিকদের অর্থনৈতিক ভিত্তিই দুর্বল হচ্ছে। যে পুরানো বাড়িগুলো ভাঙা হচ্ছে, সেগুলোর অনেকগুলোই ছিল স্বনির্মিত, যেখানে কোনও ভাড়ার বোঝা ছিল না। আজ সেই পরিবারগুলিকে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘোরাফেরা করতে হচ্ছে। এটা কি ‘উন্নয়ন’-এর যুক্তিগ্রাহ্যস্বরূপ?
নয়া উদারবসদী প্রেক্ষাপটে শহরের ‘জমি’ আর বসবাসের জায়গা নয়—তা হয়ে ওঠে স্টক মার্কেটের কমোডিটি, একটি লাভজনক পণ্য। পুরানো বসতিগুলোকে ‘অনুৎপাদনশীল সম্পদ’ হিসাবে চিহ্নিত করে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে গগনচুম্বী অট্টালিকা, মল ও ক্যাফেটেরিয়া। কেন? কারণ প্রতি বর্গফুটে টাওয়ারের বার্ষিক আয় বস্তি বা পুরানো বাড়ির আয়ের তুলনায় ২০০ গুণ বেশি। এই ‘মুনাফার অঙ্ক’-ই আজ শহরের ভূগোল পুনর্লিখন করছে। পরিকল্পনার মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মুখ, স্থান পাচ্ছে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ।
উচ্ছেদের পক্ষে জনমত তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছে তিনটি অস্ত্র—‘আধুনিকতা’, ‘পরিচ্ছন্নতা’, ও ‘বিনিয়োগবান্ধবতা’। গণমাধ্যমে দেখানো হয়, সরু গলি, ঝুলন্ত তার ও পুরানো ইমারত শহরকে 'অপরিচ্ছন্ন’ করে; আর কাঁচের গগনচুম্বী অট্টালিকা শহরকে ‘গ্লোবাল’ বানায়।
কিন্তু এখানেই যৌক্তিক প্রতিযুক্তিগুলি যেদিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে:
প্রথম প্রতিযুক্তি (পরিসংখ্যানে): ভারতের শীর্ষ ৭ শহরে প্রায় ১০ লক্ষের বেশি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট খালি পড়ে আছে (আরবিআই প্রতিবেদন)। অন্যদিকে, উচ্ছেদের ফলে পুনর্বাসনে যাওয়া ৮০% পরিবারের নতুন বাড়িতে মৌলিক পানীয় জলের সঙ্কট থাকছে। উচ্ছেদ শহরকে ‘সুন্দর’ নয়, বরং ‘অভিজাত’ ও কোথাও কোথাও ‘ জন-শূন্য’ ও করে তুলছে—যেখানে গড় মধ্য আয়ের মানুষ আর থাকতেই পারে না। শহরের মাঝখানে যে ‘ভূতুড়ে টাওয়ার’ গড়ে ওঠে, তা সৌন্দর্যায়ন নয়, তা শহরের অন্তরের মরুকরণের রূপও পাচ্ছে বহু এলাকায়।
দ্বিতীয় প্রতিযুক্তি (অর্থনৈতিক): রিয়েল এস্টেট জায়ান্টরা যে কর দেয়, তার থেকেও বেশি কর দেয় রাস্তার-পাশের অগণিত ছোট ব্যবসায়ীরা (অর্থনীতিবিদ অরুণ মৈত্রর সমীক্ষা এই বাস্তবতাকে তথ্য সমেত তুলে ধরেছে)। একটি পুরানো পাড়ার মুদিখানা, চায়ের দোকান, সবজি-ওয়ালা—এরা পরস্পর নির্ভরশীল একটি ‘স্থানীয় অর্থনীতি’ তৈরি করে। উচ্ছেদে সেই চক্র ভেঙে যায়, শহরের আর্থিক সঞ্চালন কমে যায় এবং দারিদ্র বাড়ে। হাই-রাইজে উঠে আসা ‘মল’ স্থানীয় বাজারের এই প্রাণশক্তির বিনাশ ঘটায়।
তৃতীয় প্রতিযুক্তি (পরিবেশগত): হাই-রাইজের কাচের দেয়াল তাপদ্বীপ তৈরি করে, যা শহরের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ায়। পুরানো ইমারতের ছাদ ও গাছের ছাউনি যে ‘প্রাকৃতিক শীতলীকরণ’ করত, তা উচ্ছেদে নষ্ট হয়। সুন্দরায়নের নামে যে কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি হয়, তা আসলে শহরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। পরিবেশের এই অযৌক্তিক ধ্বংসের হিসাব কখনও রাখে না পরিকল্পনাকারীরা।
সমাজবিজ্ঞানী শ্যারন জুকিন বলেছেন, ‘ভূপৃষ্ঠের স্থান যখন পণ্যে পরিণত হয়, তখন সেখানকার মানুষের আবেগের ভূগোল মুছে যায়।’ পুরানো পাড়ার সরু গলি, দুপুরের আড্ডার বারান্দা, বারোয়ারি পুজোর কমিটি—এইগুলো শুধু অবকাঠামো নয়, এগুলো বাঙালি মধ্যবিত্তের ‘সাংস্কৃতিক ইকোসিস্টেম’। হাই-রাইজ কমপ্লেক্সে প্রতিবেশী পরিচিতি লিফটের ভেতর ‘হাই’ বলায় সীমিত; আড্ডা হয় মলের ফুড কোর্টে, পাড়ার মোড়ে নয়। এর ফলে ‘সর্বজনীনতা’ বিলুপ্ত হয়ে ‘ব্যক্তিগত প্রাইভেসি’-র উৎকর্ষ ঘটে, যা শহরের সামাজিক ভূগোলকে খণ্ডিত করে।
আরও গভীর সঙ্কট হলো নারী ও বয়স্কদের নিরাপত্তা। পুরানো পাড়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারতেন, কারণ প্রতিবেশীরা একে অপরকে চিনতেন। হাই-রাইজের ‘গেটেড কমিউনিটিতে’ এই সামাজিক নজরদারি নেই; ফলে নারী ও বয়স্কদের চলাচল আরও অসুরক্ষিত হয়ে পড়ে। সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশাল সায়েন্সেস-এর প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্ছেদের ৩ বছরের মধ্যে বয়স্ক বাসিন্দাদের মধ্যে একাকিত্ব ও বিষণ্ণতার হার ৪৫% বেড়েছে। বারান্দার সেই প্রতিবেশী, সকালের আড্ডার বেঞ্চি—যা ছিল তাঁদের মানসিক সাপোর্ট সিস্টেম—তা চিরতরে হারিয়ে যায়। শহরটি তাদের জন্য ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’-এ পরিণত হয়, যদিও তারা সারাজীবন সেই শহরের কর দিয়েছেন।
তাই বিকল্প পথ ‘উচ্ছেদ’ নয়, ‘সমন্বয়’ হতে হবে নগরায়নের মূলমন্ত্র। শহর স্থবির হতে পারে না, উন্নয়ন হবে— সেটা অনস্বীকার্য। কিন্তু আগের অংশেই আমরা দেখেছি, গবেষণার এই অভাব ও জনমতের কারসাজি কীভাবে উচ্ছেদকে একমাত্র পথ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। অথচ বাস্তবতা হলো, উন্নয়নের এই একমুখী পথকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে সফল বিকল্প মডেল বিদ্যমান। যুক্তি ও তথ্যের নিরিখে সেই বিকল্প পথগুলোকেই এখন খতিয়ে দেখা জরুরি।
প্রথম বিকল্প: এটি হলো পুরানো বাসিন্দাদের তাদের নিজ এলাকা থেকে না সরিয়ে, সেখানেই নতুন করে উন্নয়ন করা—যেখানে পুরানো কাঠামোর ছাদ বাড়িয়ে, মাঝে মাঝে উন্মুক্ত স্থান রেখে উঁচু ভবন তৈরি করা যায়। শুধু তত্ত্ব নয়, ভারতের শহরগুলোতেই এর সাফল্যের দৃষ্টান্ত আছে। আহমেদাবাদ শহরের ‘ইন-সিটু স্লাম রিডেভেলপমেন্ট পলিসি’-এর আওতায় ইতিমধ্যে ২৩,৭০৪টি পরিবারকে তাদের পুরানো জায়গায় নতুন বাসস্থান দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও উচ্ছেদ ছাড়াই পুনর্বিকাশ সম্ভব। একইভাবে, মুম্বইয়ের স্লাম রিহ্যাবিলিটেশন স্কিম এ ১.৫ লক্ষের বেশি পরিবারকে ভূমি স্বত্ব ও নিরাপত্তা প্রদান করে ইন-সিটু মডেলে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। কোলহাপুরে পিএমওয়াই-এর বেনিফিশিয়ারি-লেড কনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ৭৭টি পরিবার তাদের নিজেদের জায়গাতেই নতুন বাড়ি পেয়েছে—ক্ষুদ্র হলেও এটি একটি কার্যকরী মডেলের ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভিয়েনার ‘গ্রুনবক্স’ প্রকল্পটি অনন্য, যেখানে একটি পরিত্যক্ত শিল্পভবনকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নীতি অনুসরণ করে আবাসনে রূপান্তরিত করা হয়েছে; এতে প্রায় ২৫% জল সাশ্রয় এবং কার্বন নিঃসরণে প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ১ টন হ্রাস পেয়েছে। এই মডেল শুধু সামাজিক বন্ধন রক্ষা করে না, পরিবেশের ওপর চাপও কমায়।
দ্বিতীয় বিকল্প: কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট। উচ্ছেদের মূল কারণ হলো জমির মালিকানা বড় বিল্ডারদের হাতে চলে যাওয়া। এর বিকল্প হলো ‘কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট’—যেখানে জমির মালিকানা কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের না হয়ে স্থানীয় একটি অলাভজনক ট্রাস্ট বা সমিতির কাছে থাকে। বাসিন্দারা বাড়ির মালিক হন, কিন্তু জমি ট্রাস্টের কাছেই লিজ নেন; ফলে জমি দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী মূল্যের থাকে এবং উচ্ছেদের সম্ভাবনা থাকে না। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে মুম্বইয়ের ‘টেন্যান্ট ওনারশিপ হাউজিং সোসাইটি’ মডেলটি এর কাছাকাছি, যেখানে সহকারী সমিতি যৌথভাবে জমির মালিক এবং সদস্যরা বাড়ি লিজ নেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের বিদ্যমান সরকারি আবাসন কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে এই মডেলটি সহজেই প্রসারিত করা সম্ভব। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে—কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে—এই মডেল ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নিশ্চিত করছে এবং জমিকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ হিসাবে সংরক্ষণ করছে।
তৃতীয় বিকল্প: অংশগ্রহণমূলক নগর পরিকল্পনা। উচ্ছেদ বা পুনর্বিকাশের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরাসরি বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া এবং পরিকল্পনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। লন্ডনের অ্যালটন এস্টেটের ‘পিপলস প্ল্যান’ একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই তাদের আবাসন পুনর্নির্মাণের নকশা তৈরি করেছিলেন, যা শুধু বাড়ি নয়, পুরো পাড়ার সামাজিক কাঠামোকে রক্ষা করেছিল। ভারতের প্রেক্ষাপটেও, পিএমওয়াই-এর মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে বেনিফিশিয়ারিদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে, যা সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী এখনও প্রায় ৬০% ক্ষেত্রেই যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না।
এই বিকল্প পথগুলো শুধু অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সমাধান নয়; এগুলো শহরের মানুষের প্রতি একটি নৈতিক অঙ্গীকার। তবে এই পথগুলিকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। আমরা যদি ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ হিসাবে হাই-রাইজকে গ্রহণ করি, তবে আমরা নিজেরাই আমাদের সংস্কৃতির শেকড় উৎপাটন করি। শহরের পুনরুজ্জীবনের কাজ তার ইতিহাসকে গ্রাস না করে কী করে এগোতে পারে, তার জন্যই এই বিকল্প মডেলগুলো নিয়ে আরও গভীর ও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা হোক।
শেষ পর্যম্ত বলতে হয়, শহর কাদের জন্য?
একবিংশ শতাব্দীতে উচ্ছেদ শুধু পরিকল্পনার প্রশ্ন নয়, এটি নৈতিকতার প্রশ্ন। যতক্ষণ আমরা ‘পাড়া’-কে শুধু ‘অবকাঠামো’ হিসাবে দেখব, ততক্ষণ উচ্ছেদ যৌক্তিক মনে হবে। কিন্তু যখন দেখব, উচ্ছেদের সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে এক শিশুর স্কুল যাতায়াতের পথ, এক বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের সকালের আড্ডার বেঞ্চি, এক গৃহবধূর বিকেলের গল্পের জানলা—তখন বুঝব, এই ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন’ আসলে এক সংস্কৃতির লাশের ওপর দাঁড়িয়ে।
পুরানো বাড়িগুলো আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে, সেগুলো শুধু ইট-কাঠ নয়; সেগুলো ছিল কয়েক প্রজন্মের স্বপ্ন, অশ্রু, হাসি আর অভিজ্ঞতার সাক্ষী। নয়া উদারবাদের এই রিয়েল এস্টেট দানব যদি এভাবে শহরকে গ্রাস করে, তবে আগামী দিনের শহর হবে ‘জীবন্ত মানুষের মরুভূমি’—যেখানে থাকবে শুধু ফাঁকা দালান, কিন্তু থাকবে না কোনও ‘প্রতিবেশী’। শহরের পুনরুজ্জীবনের কাজ তার ইতিহাসকে গ্রাস না করে কি করে এগোতে পারে তা নিয়ে গবেষণা হোক,পরিকল্পনা হোক। নগরায়ন হবে ‘জীবন্ত’, ‘যান্ত্রিক’ নয়—তবেই শহর বাঁচবে, বাঁচবে তার বারান্দার গল্প।
Comments :0