মুক্তধারা
গল্প
ফুটপাতের দিনলিপি
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
২৩ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। রামিয়া সারাদিন রাস্তায কাজ করে। কখনো বাচ্চাটাকে নিয়ে যায়, কখনো কেউ থাকলে তার কাছে রেখে যায়। আজ ট্যাঁকে করে বাচ্চাটাকে নিয়ে গিয়েছিল।ঐ রাস্তা ঝেঁটিয়ে বড়ো ক্লান্ত লাগে তার। যেটুকু পয়সা ছিল তাই দিয়ে দুধ কিনে ফিরে আসে।ফুটপাতের এককোনে সব রেখে এক মগ জল মাথায় ঢালে,খোঁচাটা খুলে দেয়,তারপর দেওয়ালে হেলান দিয়ে দিয়ে বসে।
আজ বাচ্চাটা বড়ো বিরক্ত করছে। গায়ে গায়ে ঘুরছে আর কাঁদছে। খিদে পেয়েছে বোধহয়।রামিয়া দু-বার মেরেও সরাতে পারে নি ছেলেটাকে।
রামিয়া উঠে পড়ে। খুব ক্লান্ত লাগে। ভাদ্দুরে গরম। মাথাটা বড্ড ঘুরছিল তার। তবু আগুন জ্বালিয়ে দুধ গরমে বসায়। ছেলেটাকে দিতে হবে।
দুধ আগুনে বসিয়ে মাথায় দুটো হাত দিয়ে বসে। একটু একটু করে দুধ ফুলতে থাকে।উথলে পড়ার আগে আঁচল দিয়ে নামাতে যায়।সে সময় কারা যেন কথা বলে ওঠে -' এ্যাঁ এসব হটাও। রাস্তায় এসব কি?'
তাকিয়ে দেখে কয়েকজন লোক।তারা এসেছে রাস্তা ঘাট, ফুটপাত পরিস্কার করতে। তাদের দিকে তাকিয়ে মা রামিয়া একটু জোরেই বলে-'দেখছো না ,বাচ্চার দুধ গরম করছি'-
তারপরও এককথা দু-কথা হয়। লামিয়া কোনক্রমে উথলে পড়ে যাওয়া দুধ আঁচ থেকে নামিয়ে নেয়। বাচ্চাটাকে কোলে তুলে সোজা তাকিয়ে থাকে লোকগুলোর দিকে।
-'শোন মেয়ে এসব বন্ধ করতে হবে, এখানে থাকা চলবে না।যেখান থেকে এসেছো, সেখানে যাও, তাড়াতাড়ি '
লোকগুলো এসব বলে তার পুঁটলি বাঁধা জিনিসপত্র দেখিয়ে কাকে যেন কি সব বলতে বলতে এগিয়ে যায়।
রামিয়া ফুটপাতের কোনটায় বসে পড়ে যেটুকু দুধ বেঁচেছিল সেটুকু বাচ্চাটার মুখে তুলে দেয়।
Comments :0