শ্রুতিনাথ প্রহরাজ
দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া এদেশের যৌবনের নাছোড়বান্দা আন্দোলন নিঃসন্দেহে ঐক্যবদ্ধ কৃষক আন্দোলনের মতো আরও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। কৃষক আন্দোলনের চাপে সরকার বাধ্য হয়েছিল কৃষক বিরোধী কৃষি আইন ফিরিয়ে নিতে। প্রায় একইভাবে এই আন্দোলনেও ছাত্র-ছাত্রীদের চাপে পড়ে সরকার তথা শাসক দল বাধ্য হয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরাতে। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হলো কি? পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল গোটা দেশের ছাত্র-যুব সমাজ। যার জেরেই ছিল এই পদত্যাগ। কিন্তু দুরবস্থা কাটেনি সর্বভারতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা এনটিএ-র। ফের তারা পরীক্ষা বাতিল করল। প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুলের জেরে তারা জুন মাসে নেওয়া ইউজিসি-নেট পরীক্ষা বাতিল করে রিটেস্ট (পুনরায় পরীক্ষা)-র দিন ঘোষণা করল। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা।
এই আন্দোলনের আরও কিছু দাবি ছিল-- যেমন অসহায়ভাবে হারিয়ে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া ইত্যাদি। সরকার যে সবটা মেনেছে এমন দাবি করা যাবে না। এখনো ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হয়নি। শুধু তাই নয়, ফ্যাসিস্ট কায়দায় চলা এই সরকার এতটাই প্রতিহিংসাপরায়ণ যে, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে থাকা পুরানো মিথ্যা অভিযোগগুলোকেও হাতিয়ার করে হেনস্তা করার চেষ্টা চলছে। দিল্লিতে সিপিআই (এম)’র সদর দপ্তরে হানা দিয়ে শাসকদলেরই ছাত্র সংগঠনের করা পুরানো এক মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে, এই আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেপ্তার করতে যাওয়া তারই নিকৃষ্ট উদাহরণ।
এই আন্দোলনের দাবিগুলির মধ্যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ থাকার যৌক্তিকতা কতখানি তা আলোচনায় আসেনি। অথচ এই যাবতীয় সমস্যার শিকড় এখানেই লুকিয়ে। ২০১৭ সাল থেকে গত প্রায় এক দশক জুড়ে এই এনটিএ’র সামগ্রিক কাজের তো একটা মূল্যায়ন থাকা জরুরি। কারণ এর সাথে জড়িয়ে আছে এদেশের ছাত্র-যৌবনের ভবিষ্যৎ। আন্দোলনের চাপে পড়ে রাতারাতি টাস্কফোর্স তৈরি করে এনটিএ’র মাথায় বসানো হয়েছে ইনফোসিস -এর কর্তা নন্দন নীলকানিকে। এর আগে পরপর বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়ার কারণে সরকার ইসরোর অধিকর্তা কে রাধাকৃষ্ণনকে দায়িত্ব দিয়েছিল। এই রাধাকৃষ্ণন ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সরকারের কাছে বেশ কিছু (১০১ দফা) মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই পরামর্শগুলি কি বা তার কতটুকু কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে তা আজও আমরা জানতে পারলাম না। অথচ একের পর এক পরীক্ষায় বিপর্যয় ঘটে চলেছে।
প্রথমত এনটিএ এ ধরনের ভর্তির পরীক্ষার পাশাপাশি চাকরির পরীক্ষাও নেবে কিনা তা নিয়ে ওঠা বিতর্কের আজও মীমাংসা হয়নি। রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছিল এনটিএ থেকে চাকরির পরীক্ষাগুলিকে আলাদা করার। সরকার সে বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো এখানেও সঙ্ঘ পরিবার তার নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত রাখতে মরিয়া। বারণ করা সত্ত্বেও বিচারক, শিক্ষক ও অন্যান্য আধিকারিক নিয়োগের পরীক্ষা নিয়মিত এনটিএ-কে নিতে হচ্ছে। এনটিএ প্রথম থেকেই পরিকাঠামোগতভাবে দুর্বল। যে পরিমাণ পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব এর ঘাড়ে চাপানো হয়েছে তার সিকি ভাগ যথাযথভাবে বহন করার ক্ষমতা এই সংস্থার নেই। একটা বড় অংশের কাজ হয় আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে। সব মিলিয়ে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়া বা পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার বিষয়গুলি নিত্যনৈমিত্তিক অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে। যেহেতু জবাবদিহি করার দায় কারোর নেই, এনটিএ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতির আখড়া।
প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে নিট ইউজির ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর আবার সেই পরীক্ষা হলো ২১ জুন। এই পরীক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ২২ লক্ষেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ। একমাস ধরে নাছোড়বান্দা আন্দোলনের জেরে সরকার ৪৭ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। বলা হয়েছে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে ২১ জন ছাত্র-ছাত্রী অসহায়ভাবে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল। এদের একাংশ পরীক্ষা বাতিল হওয়ার কারণে চরম হতাশায় আত্মহানের পথ বেছে নিল। বাকি অংশ হারিয়ে গেল নতুনভাবে নেওয়া এই পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর। ওদের বদ্ধ ধারণা ছিল আগের পরীক্ষাতেই ওরা পাশ করে যেত এবার যা হলো না। প্রশ্ন এখানেই-- কে দায় নেবে এই অপূরণীয় ক্ষতির। এহেন অপরাধ এখানে প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিয়েছে। একা ধর্মেন্দ্র প্রধান সরে গেলে যার মীমাংসা প্রায় অসম্ভব।
এই আন্দোলন না হলে তো উপরোক্ত ৪৭ জন দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকের গায়ে এতটুকু আঁচড় পড়তো না। এখন বলা হচ্ছে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে ১০ বছরের জেল হবে, ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কে করবে এই কাজ? এই সরকার? তারা চাইলে তো অনেক আগেই এই সমস্যার শিকড়ে টান মারতে পারতো। বছরের পর বছর এইসব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় ডুবে যেতে বা হারিয়ে যেতে হতো না। নিট-ইউ জি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারিতো এই প্রথমবার নয়। ২০২৪ সালেও একই ঘটনা ঘটেছে। সেই বছর ৬৭ জন ছাত্র-ছাত্রী মোট ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় ৭২০ নম্বর পেয়েছিল। যা দেখে চোখ কপালে উঠেছিল অনেকেরই। শুধু তাই নয়, সেই বছর ১৫৬৩ জন ছাত্র-ছাত্রীকে একতরফা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অপ্রত্যাশিত গ্রেস মার্কস্ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, যা পরবর্তীকালে দেশজুড়ে ওঠা প্রতিবাদের কারণে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। ডাক্তারি বা এ ধরনের যেকোনো এন্টান্স পরীক্ষার ক্ষেত্রে এইসব সিদ্ধান্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মনে কতটা চাপ সৃষ্টি করে, তাদের ভরসার জায়গা কিভাবে নষ্ট হয়-- তা কি কখনো ভেবে দেখার চেষ্টা করেছে সরকার?
এই আন্দোলনের চাপে সরকার ভয় পেয়ে কিছুটা পিছু হটলেও আসল সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকীকরণের পাশাপাশি বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের বিপদ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। প্রথম অংশের বিপদের আলোচনা এই পরিসরে করার সুযোগ নেই। কিন্তু দ্বিতীয় অংশ অর্থাৎ শিক্ষায় কর্পোরেট মাতব্বরির বিপদ এই সমস্যার সঙ্গে অনেকটা জড়িয়ে। এনটিএ যে ধরনের পরীক্ষাগুলি নেয় সারাদেশে তার ফলাফল মূলত নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি টিউটোরিয়াল হোম বা কোচিং সেন্টারগুলি। এদের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ তো দূর অস্ত, কার্যত এরাই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। এদের মিলিত পুঁজির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটিরও বেশি। অনুমান করা হচ্ছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় খামতি না হলে এদের পুঁজি আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এক লক্ষ কোটি টাকা ছাপিয়ে যাবে। এখন প্রশ্ন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কিভাবে এই পুঁজির এতটা রমরমা সম্ভব? ওদের হাজার হাজার কোটি টাকার মুনাফা এই পরীক্ষা ব্যবস্থার ফলাফলের উপর নির্ভর করে আছে। সরকার যদি এই কোচিং সেন্টার গুলির উপর নিয়ন্ত্রণ না জারি করে, উলটে এদের দেওয়া তহবিল যদি শাসক দলের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার অন্যতম উৎস হয়, সরকার বা শাসক দল ভাবের ঘরে চুরি করে লোক ঠকানোর চেষ্টা করবে।
দ্বিতীয় যে প্রশ্নটি এই প্রসঙ্গে আলোচনায় আসা দরকার তা হলো, এ ধরনের পরীক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ কতটা জরুরি? ইতিমধ্যে নিট-ইউ জি চালু হওয়ার পর তামিলনাড়ু, কর্নাটক, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কিছু রাজ্য এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভাষা ও সংস্কৃতিগত বৈচিত্রের এই দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা তার প্রভাব থেকে মুক্ত হবে এমনটা দাবি করা মূর্খামি। তাই রাজ্যগুলির আওতায় থাকা স্বতন্ত্র জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডগুলিকে শক্তিশালী করে এ ধরনের পরীক্ষা নিলে ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করে, প্রশ্ন ফাঁস বা পরীক্ষার অব্যবস্থাজনিত বিপদের আশঙ্কাও অনেকটা কমে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মান্যতা দিয়ে এবং সংবিধানে শিক্ষার যুগ্ম তালিকায় অবস্থানকে গুরুত্বে রেখে এ বিষয়ে রাজ্যগুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা না কমিয়ে গুরুত্ব সহকারে অক্ষত রাখাটাই জরুরি কাজ। তার জায়গায় ন্যাশনাল মেডিক্যা ল কমিশন শ্যা ক্ট ২০১৯-এর মতো আইন প্রণয়ন করে নিট-ইউ জি পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্যগুলির হাত থেকে সরিয়ে কুক্ষিগত করলে পরিণতি যে ভালো হয় না তা তো দেখাই যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ইউজি এবং পিজি কোর্সের ভর্তির পরীক্ষাও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের উচ্চ শিক্ষাসংসদের দায়িত্বে নেওয়ার ব্যবস্থা করা অনেক বেশি সমীচীন। রাজ্যভিত্তিক সরকারি চাকরির নিয়োগ সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে শক্তিশালী করে নিয়মিত নেওয়া সম্ভব। সবটাকে একসাথে জোর করে এনটিএ নামক একটি খোলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলে অভিজ্ঞতা যে সুখকর হয় না বরং বিষময় হয়, এনটিএ’র গত এক দশকের অভিজ্ঞতাই তার প্রমাণ।
তৃতীয় বিষয় যেটি অত্যন্ত জরুরি তা হলো, এনটি এ’র আওতাধীন সমস্ত পরীক্ষাকে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তরিত করা যায় কি না তা দেখা দরকার। এতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং রাজ্য বোর্ডগুলির মধ্যে সমন্বয়ের সাধন করে অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজনে বছরে একাধিকবার এই পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মডেল প্রশ্ন ও উত্তর ডিজিটাল মোডে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে যাতে তাদের প্রাইভেট কোচিং সেন্টার বা টিউটোরিয়াল হোম নির্ভরতা কমে।
সর্বোপরি এ ধরনের কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি সম্পূর্ণ স্বশাসিত সংস্থা হিসাবে গড়ে তোলা দরকার। যার মাথায় থাকবেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ। কেবলমাত্র সঙ্ঘ প্রচারক বা শাসক দলের সমর্থক এই পরিচিতিতে যেন এই সংস্থায় নিযুক্তি না হয়। রাজ্যগুলির প্রতিনিধি এই কেন্দ্রীয় সংস্থায় পরিচালন পর্ষদে রাখতে হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভাবনাকে অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব। দেশের অগণিত ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে।
পরিশেষে বলি, দিল্লির যন্তর মন্তরের এই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার, সরকার এবং শাসক দল ভুলে গিয়েছিল যে এদেশে এখন গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর। অর্থাৎ এই যৌবন-ই এখন এদেশের চালিকাশক্তি। সরকার জল মাপ ছিল তাই আন্দোলনের মেয়াদ এক মাস গড়িয়ে গেছে। ফ্যাসিস্ত কায়দায় নৃশংস আক্রমণ নামিয়ে এনে এই আন্দোলনকে ভাঙার চেষ্টা হয়েছে। উলটে দিল্লি ছাড়িয়ে এই আন্দোলনের ঢেউ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
এই রাজ্যের ডবল ইঞ্জিনের এক চালক এই আন্দোলনের মধ্যে শুক্রবারীদের ভূত দেখেছেন।শুক্রবারে শুধু জুম্মার নামাজ হয়না, এ রাজ্যের অনেক হিন্দু বাড়ির মা ঠাকুমা সন্তোষী মা-এর ব্রতও করেন। মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে গিয়ে আপনি তাদেরকেও আঘাত করলেন। সেই অর্থে নিজেকেই ছোট করলেন। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে এ ধরনের কথা বলা যায় না। এখনো সময় আছে। নিজেকে সংযত করুন। আরেক চালক বা গার্ড জাতীয় পতাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনে সঙ্গত কারণে দেওয়া এইসব যন্ত্রণা থেকে আজাদি-র স্লোগানকে কে ভয় পেয়ে আন্দোলনকারীদের পেটানোর নিদান দিয়েছেন। এঁদের একটাই কথা বলার, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। এদেশে এই মুহূর্তে সর্বাধিক অংশের প্রতিনিধিত্বকারী এই ছাত্র যৌবনকে এভাবে অস্বীকার করবেন না, অসম্মান করবেন না। ভয় পেয়ে ভয় দেখানোর পথ থেকে সরে এসে সমস্যার সমাধানে এদের সাথে বসুন। এরাই আগামী দিনের সমাজ গড়ার কারিগর।
Highlights
আন্দোলনের চাপে সরকার ভয় পেয়ে কিছুটা পিছু হটলেও আসল সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকীকরণের পাশাপাশি বেসরকারিকরুন ও বাণিজ্যিকীকরণের বিপদ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। শিক্ষায় কর্পোরেট মাতব্বরির বিপদ এই সমস্যার সঙ্গে অনেকটাই জড়িয়ে আছে।
Comments :0