সুরক্ষা দিতে হবে ইন্দাসের আবদুল হাফিজের পরিবারকে। প্রায় ১৫-২০ জন হামলা করেছিল। মৃত্যু হয়েছে আবদুলের বাবার। দোষী প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করতে হবে। পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি সময় মতো। দোষী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
মঙ্গলবার কলকাতায় প্রেস ক্লাবের বাইরে সাংবাদিকদের একথা বলেছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি জানান, এদিন কলকাতার ভারতসভা হলে সভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। বিজেপি’র চাপে তা বাতিল হয়েছে।
রাঙ্কা বলেন, রাজ্য সরকার দশ দিনের মধ্যে ৪ দফা দাবি মেনে না নিলে আমরা বাঁকুড়ার এসডিও অফিস ঘেরাও করব। আবদুলের জন্য একটি তহবিল গড়া হবে। আবদুল সরকারকে বলেছে যে ক্ষতিপূরণের কোনও টাকা সে চায় না। চায় তার বাবার নামে একটি স্কুল তৈরি করা হোক।
গত ১৩ আগস্ট ইন্দাসের আবদুল হাফিজের বাড়িতে হামলা চালায় দুষ্কৃতী বাহিনী। হাফিজ যন্তর মন্তরে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। ফিরে এসে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে ‘স্কুল ঠিক কর’ আন্দোলনে নামেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন বাবা শেখ মহম্মদ রফিক। গত ১৫ আগস্ট মারা যান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন ঘটনার সঙ্গে বিজেপি’র কেউ জড়িত নয়।
রাঙ্কা বলেন, ভয় দেখিয়ে বা গুন্ডামি করে আন্দোলনকে দমানো যাবে না। সরকারি স্কুলের সংস্কারের জন্য লড়াইকে থামানো যাবে না। তিনি বলেন, ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধাড়া ‘সন্ত্রাসবাদী’, ‘পাকিস্তানি’ বলে হুমকি দিয়েছিল আবদুল হাফিজকে। নিজের গ্রামের স্কুল দেখতে গিয়েছিল। এরপরই বিজেপি’র গুন্ডারা তাঁকে মারধর করে। তাঁকে বাঁচাতে যাওয়ায় বাবাকে মারধর করে। আবদুল জানিয়েছে যে কয়েকজনের হাতে ছুরি এবং বন্দুক ছিল। আবদুলের বাবা নেই। তিনি আহত হয়ে মারা যান। কিন্তু মৃত্যুর আগে তিনি লড়াই চালানোর কথাই বলেছিলেন। আবদুল এবং তাঁর পরিবার সাচ্চা দেশভক্ত।
রাঙ্কা বলেন, আমরা শুনেছি এ রাজ্যে ৮ হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। রাজ্যে নতুন স্কুল খুলতে হবে। শিক্ষার জন্য কেউ লড়াই করে তাদের উপর হিংসা নামিয়ে আনা যায় না।
রাঙ্কা জানান যে গতকাল, সোমবার,
ভারত সভা হল বুক করা হয়েছিল। আজ তাঁরা সেখানে যান সাংবাদিক সম্মেলন করতে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানায় যে বিজেপি’র স্থানীয় নেতারা চাপ সৃষ্টি করেছে। গতকাল বুকিং নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই কর্তৃপক্ষ জানাতে থাকে যে সভা করা যাবে না।
রাজ্যের শিক্ষার প্রশ্নে রাঙ্কা বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন একটি বড় ব্যাপার। অনেকদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না। এটা কোনও রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়। ছাত্রদের গণতন্ত্রের প্রশ্ন।
রাঙ্কা বলেন, বাংলায় সিজেপি’র প্রধান লক্ষ্য শিক্ষাব্যবস্থা ঠিক করার আন্দোলন। শেষ কয়েক বছরে বাংলায় শিক্ষার অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বলব যে ছাত্রদের আন্দোলনকে ছোট করে দেখবেন না। তিনি বলেন, আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য সরকারি স্কুলগুলিকে ঠিক করা। দেশের যে কোনো রাজনৈতিক দল যদি আমাদের আন্দোলনের পাশে এসে দাঁড়ায়, তা যদি বিজেপি-ও হয় তাহলে আমরা তাদের সমর্থন করছি। আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সাংসদরা আমাদের প্রতিবাদকে সমর্থন করেছেন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে পাল্টাতে যদি আমাদের সমর্থন করে তাহলে তাঁদের স্বাগত জানাচ্ছি।
রাঙ্কা বলেন, মানুষের মধ্যে থেকে দমনের ভয় চলে গিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখানে ভোট চাইতে আসিনি। না কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করতে এসেছি। আমরা এসেছি স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচাতে। বাংলার নতুন সরকারের কাছে সুযোগ রয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচান।
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, এনটিএ অপদার্থ একটি প্রতিষ্ঠান। তারা শুধু দুর্নীতি করে গেছে এবং যা পরীক্ষা নিয়েছে সবেতেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে বলব আপনারা নতুন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করুন যেখানে দুর্নীতি হবে না।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঝাড়খন্ডের আন্দোলন জয়ী হয়েছে। তার জন্য আমরা খুশি। তাঁদের বিধানসভা অভিযানের সময় যেভাবে পুলিশী আক্রমণ হয়েছে তার দরকার ছিল না।
CJP Ashutosh Ranka Kolkata
বিজেপি’র চাপে বাতিল বুকিং, ইন্দাসের এসডিও অফিসে ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি সিজেপি’র
মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে সিজেপি’র সংগঠকরা। ছবি: অমিত কর
×
Comments :0