শিল্পের দাবিতে, কাজের দাবিতে ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতায় সমাবেশ করবে ডিওয়াইএফআই। বৃহস্পতিবার ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সদর দপ্তর দীনেশ মজুমদার ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা বলেন, ‘এই বছর নওজাওয়ান ভারত সভার ১০০ বছর শেষ হবে। ভগৎ সিং-রা যখন এই সংগঠন তৈরি করেন তখন তাদের স্বপ্ন ছিল একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ তৈরি হবে। এরাজ্যে ১৯৬৮ দীনেশ মজুমদার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা করেছিলেন ডিওয়াইএফ। ১৯৮০ ডিওয়াইএফ সহ বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে তৈরি হয়েছিল ডিওয়াইএফআই। সেই প্রথম সম্মেলনে ছিলেন নওজাওয়ান ভারত সভার দুজন সদস্য কিশোরী লাল এবং শিব বর্মা তারা জানিয়েছিলেন আমরাই তাদের উত্তরাধিকার।’
নওজাওয়ান ভারত সভার ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানকে সামনে রেখেই হবে এই ‘ইনকিলাব সমাবেশ’। ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বের কথায়, ৯৭ বছর আগে ভগৎ সিং বটুকেশ্বর দত্তকে যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন তাদের মুখে ছিল ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান। ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ সালে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি ছিল। রাওলাট আইনের মাধ্যমে মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল। এই রাজ্যেও গুন্ডা দমন আইন করে সরকার মুখ বন্ধ করে রাখতে চাইছে।
ধ্রুবজ্যোতি সাহা বলেন, ‘আমাদের স্লোগান শিল্প চাই, শিক্ষা চাই, বাম পথে বাংলা চাই। সব অংশের মানুষের কাছে আহ্বান এই লড়াই একসাথে লড়ার। আমাদের সংগঠন জন্মলগ্ন থেকেই কাজের দাবিতে লড়াই করে আসছে। দেশের সরকার এবং রাজ্যের সরকার কর্মসংস্থান মুখি কোন দীশা দেখা পারছে না। কোন সমীক্ষা প্রকাশ হচ্ছে না কর্মসংস্থানের। বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে শূণ্য পদের সংখ্যা বিজেপি সরকারের আমলে ৫ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষের বেশি হয়েছে। যা নিয়োগ হয়েছে সবটাই চুক্তি ভিত্তিক, কাজের কোন স্থায়ীত্ব নেই। রেলে তিন লক্ষের বেশি শূন্য পদ। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রেলের কোন বাজেট হচ্ছে না, স্বরাষ্ট্র দপ্তর, প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতো একাধিক দপ্তরে লক্ষাধিক পদ খালি।’
তিনি বলেন, ‘রাজ্যে নতুন কোন কর্মসংস্থান নেই। পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ছে। কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছে না, কিট নাশকের দাম বাড়ছে। শ্রমিকের নূন্যতম বেতন নেই, যার ফলে সঙ্কট বাড়ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। এসএসসি, টেট পরীক্ষা নেই। চাকরি প্রার্থীদের নিয়ে নতুন সরকার কোন কথা বলছে না।’
ধ্রুবজ্যোতি সাহা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ২ কোটি চাকরি দেশে, এরাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিল গ্যাসের দাম, পেট্রোলের দাম কমবে। এখন সেই দাম প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। অন্নপূর্ণা ভান্ডার সবাই পাচ্ছে না, তরুণ প্রজন্ম বেকার ভাতা পাচ্ছে না। নতুন সরকার নতুন কোন স্কুল খোলেনি এমনকি আট হাজার বন্ধ হতে চলা স্কুল গুলোকে বাঁচানোর কোন চেষ্টা নেই। রাতের অন্ধকারে যাদবপুরে হামলা, শিক্ষা সংস্কৃতিকে শেষ করছে। বৈধ ভোটারদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বর এই দাবিও আমরা তুলবো। প্রগতিশীল যুক্তিবাদ বাংলার সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ করছে। এই সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে। রক্ষা করতে হবে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।’
ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব জানায়, জুনে নেতাজি ইন্ডোরে সভা করার জন্য আবেদন করা হয় রাজ্য সরকারের কাছে। কিন্তু কোন উত্তর সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। টাকাও জমা নেওয়া হয়নি। তাই রাস্তায় হবে ইনকিলাব সমাবেশ। নতুন প্রজন্ম রাস্তায় তৈরি করবে নেতাজী ইন্ডোর। যুব সমাজের কাছে আবেদন থাকবে দেশ বাঁচানোর লড়াইয়ে সামিল হওয়ার জন্য।
রাজ্য সভাপতি অয়নাংশু সরকার বলেন, ‘এখন ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভারতে প্রথম পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি করেছিলেন বামপন্থীরা। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম স্লোগান ছিল ইনকিলাব জিন্দাবাদ। এই স্লোগান এবং নওজাওয়ান ভারত সভার যেই বার্তা তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। এই লক্ষ্যে ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতায় ইনকিলাব সমাবেশ।’
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফআই নেতা সপ্তর্ষি দেব, দেবজ্যোতি চক্রবর্তী, শ্রীজীব গোস্বামী, চন্দন সোম, যুবশক্তি পত্রিকার সম্পাদক সরোজ দাস।
DYFI Press Conference
শিল্প, কাজের দাবিতে ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইনকিলাব সমাবেশ’ করবে ডিওয়াইএফআই
×
Comments :0