Assembly 2026 Jagaddal

মজে রয়েছে বিল, নাকাল কৃষকের জমি হাতাচ্ছে তৃণমূলের হাঙররা

জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত ফঃবঃ প্রার্থী পারভেজ আহমেদ খান কে নিয়ে শ্যামনগরে প্রচার মিছিল।

বিশ্বজিৎ রায়: জগদ্দল

পাঁচ বছর আগে জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বর্তির বিল সংস্কার হবে। আবার সামনে আরেকটি বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যে তৃণমূলের সরকার আসার পর থেকে আজ অবধি বর্তির বিল সংস্কার হয়নি। 
কয়েকশো বছরের পুরোনো এই বিল। কয়েক পুরুষ ধরে কৃষকরা চাষবাস করছিলেন। বামফ্রন্ট সরকারের সময় এই বিলের নিকাশি নালা প্রতি বছর সংস্কার হতো। সেই বিল এখন মজে গেছে। চাষবাস বন্ধ। কিছু মানুষ ভেরি তৈরি করে মাছ চাষ করছেন। কৃষক এখন দিনমজুরের কাজ করে রুটি রুজির সংস্থান করছেন। 
বর্তির বিলের জমিতে এখন হাঁটু সমান পাক হয়ে আছে। সেখানে ধান ও সবজি চাষ বন্ধ হয়ে গেছে। চাষের জমি সারা বছর জলের তলায় থাকে। ভাটপাড়া সহ সংলগ্ন এলাকার নোংরা জল সেখানে গিয়ে জমা হচ্ছে। নিকাশি নালা সংস্কার না হওয়ার ফলে সেই জল বেরোতে পারে না। জমা জল পচে গিয়ে পাক হয়ে গেছে। ধান ও সবজির চারা বসালে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 
হাজার হাজার বিঘের জমিতে চাষবাস বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। অভাবের তাড়নায় কৃষকরা কম দামে জমি বিক্রি করে দিচ্ছে। তৃণমূলের জমি হাঙররা সেই জমি অল্প দামে কিনছে। বর্তির বিলের কৃষকদের সেই জমি ইট ও মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। বারাকপুর-কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারে সেই জমিতেই গড়ে উঠেছে কল্যাণী এনক্লেভ। 
চারটি পঞ্চায়েত ও ভাটপাড়া পৌরসভার ১৮ থেকে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে জগদ্দল বিধানসভা এলাকা। এই কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনিত ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী পারভেজ আহমেদ খানের প্রচার চলছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবন যন্ত্রনার কথা প্রার্থীর কাছে তুলে ধরছেন। 
কাউগাছি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অবাধে পুকুর ভরাট হয়েছে। তৃণমূলের লোকজন যুক্ত। আবাস যোজনায় গরিব মানুষ ঠিকমতো ঘর পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি হচ্ছে। 
এই বিধানসভা এলাকার শহরাঞ্চলের ভাটপাড়া পৌরসভায়  রাস্তাঘাটের একেবারে ভগ্নদশা। আরেকদিকে বন্ধ হয়ে আছে কাকিনাড়া টায়ার করোপোরেশন, এনপিটি, রোলিং নিক্কো কেবিল ও সিইএসসি। এই বন্ধ কারখানার জমিতে জমি হাঙরদের চোখ পড়েছে। 
ছাত্রের অভাবে বেশ কয়েকটি স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ওয়েভারলি জুট মিলের অবস্থা খুব খারাপ। ধানচাষি ও পাটচাষির অবস্থা খুব খারাপ। সেচের জল,বীজ ও সার এর দাম অত্যাধিক বেড়েছে। রাজ্য সরকার যে সহায়ক মূল্য দেয় তাতে কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পান না। কৃষক মান্ডি কাজ করে না। কৃষক অভাবী বিক্রিতে বাধ্য হন।

Comments :0

Login to leave a comment