Kolkata High Court

মিথ্যা মামলা, হাই কোর্টে বেকোসুর খালাস প্রাক্তন বিধায়ক সহ ২সিপিআই(এম) নেতা

রাজ্য জেলা

মিথ্যা খুনের মামলায় তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক সিপিআই(এম) বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য মনোরঞ্জন পাত্র, তাঁর ভাই সিপিআই(এম) নেতা জীতেন পাত্র ও পার্টির রাজপুর শাখার সম্পাদক আজবাহার খানকে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিলেন। 
তৃণমূল কর্মী খুনে আদালত প্রাক্তন বিধায়ক তথা সিপিআই(এম)বাঁকুড়া জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর প্রাক্তন সদস্য মনোরঞ্জন পাত্রকে যাবজ্জীবন সাজা শুনিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক ও অন্য দুই সাজাপ্রাপ্ত সিপিআই(এম) নেতা। শেষপর্যন্ত হাইকোর্ট তিনজনকে ওই খুনের মামলায় বেকসুর খালাস করল। প্রাক্তন বিধায়ক মনোরঞ্জন পাত্র, নেতা জিতেন পাত্র ও আজবাহার খানকে শুক্রবার মুক্ত করা হল। ন্যায়বিচার মিলল বলে জানিয়েছেন মনোরঞ্জন।
ঘটনা ২০১০ সালের ৩০জুন তালডাংরা থানার রাজপুর গ্রামে একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বচসা হয়। সেই সময় তৃণমূলের লোকজন জেলার বাইরে থেকে বেশ কিছু অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষজনকে রাজপুর গ্রামে নিয়ে এসেছিল। ফুটবল খেলার শেষেই গ্রামের মানুষজনের সঙ্গে বিবাদ থেকে হাতাহাতি হয়। চলে গুলি ও বোমা। সেই মারপিটের সময় ওই গ্রামের এক যুবক গুলির আঘাতে প্রাণ হারান। সেদিন মনোরঞ্জন পাত্র বিধানসভাতেই ছিলেন। কিন্তু ঘটনার পরই তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের সেই সময়কার বাঁকুড়া জেলার সভাপতি পরে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপদ মুখার্জি পুলিশকে প্রভাবিত করে মনোরঞ্জন পাত্র, তাঁর ভাই জীতেন পাত্র, আজবাহার খান সহ ২১ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়েব করান বলে অভিযোগ। এঁরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিন পান। পরে মামলা চলে। সেই মামলায় ১৮জনকে নিম্ন আদালত মুক্তি দিলেও মনোরঞ্জন পাত্র, জীতেন পাত্র, আজবাহার খানের বিচার হয় বিধাননগরে এমএলএমপি আদালতে। সেখানে ২০২২সালে এই তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় দেওয়া হয়। পরে আইনী লড়ায়ের মধ্যে দিয়ে মনোরঞ্জন পাত্র জামিন পেলেও বাকি দুজনের জামিন হয়নি। তিনজনেরই মুক্তির জন্য আদালতে আইনের লড়াই চলতে থাকে। তালডাংরা সহ বাঁকুড়া জেলার বহু মানুষ পার্টির এই নেতাদের আইনী লড়ায়ে পাশে সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে পাশে ছিলেন। শুক্রবার এই তিন নেতার মুক্তির কথা ছড়িয়ে পড়ার পরই মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। এদিন এই ঘটনা প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) নেতা অমিয় পাত্র বলেন, এটি সম্পূর্ণ সাজানো মামলা ছিল এঁদের বিরুদ্ধে। তৃণমূল কংগ্রেস ও পুলিশ যোগসাজস করে এটি করে। যা সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল নেই। অমিয় পাত্র জানান, শুক্রবার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতিরা জানান, এই ঘটনাটি যেভাবে আদালতের সামনে হাজির করা হয়েছিল তা সঠিক ছিলনা। তাই তিনজনকে বেকসুর খালাসের রায় দেওয়া হল। এই মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মিলন মুখার্জি ও উদয় শংকর চ্যাটার্জি।

Comments :0

Login to leave a comment