Flood Situation East Medinipur

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি পটাশপুরে

রাজ্য জেলা

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে পটাশপুরে। বাগুই নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে পটাশপুর ১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা গোকুলপুর, নৈপুর, গোপালপুর, ব্রজলালপুর, অমর্ষি ১ ও ২ এবং শ্রীরামপুর অঞ্চলের। পশ্চিমের বাগুই নদীর জল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার গোকুলপুর অঞ্চলের বিশ্বনাথপুর, তাপিন্দা, গোকুলপুর, টাকাবেড়িয়া সহ একাধিক মৌজার উপর দিয়ে বয়ে শিয়ালদায় পড়ে কেলেঘাই নদীতে। কিন্তু চরম বিপদ সীমার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কেলেঘাইর গতি মন্থর থাকায় বাগুইর জল বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ভাসিয়ে দিচ্ছে পটাশপুরকে। শুধু তাই নয়,  ভববানপুরের লাঙলকাটা থেকে গুড়গ্রাম পর্যন্ত কেলেঘাই নদীর কোলে অসংখ্য ইটভাটা ও ফিসারি থাকায় জল নিষ্কাশন সুষ্ঠু ভাবে হচ্ছে না।
রবিবার ভোর থেকে ফের বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাস্তাঘাট সহ ঘরবাড়িতে জল ঢোকায় সাধারণ মানুষ গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন। বিস্তীর্ণ অংশের আমন ধানের কৃষিজমি ও বীজতলা জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষককেরা। পটাশপুর - বালিচক রাজ্য সড়ক নৈপুর - লক্ষীবাজারের কাছে সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাটির উপর দিয়ে প্রবল বেগে জলের স্রোত থাকায় ছোট গাড়ির চলাচল বন্ধ এবং বড় গাড়িগুলি যাতায়াত করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। গোপালপুর অঞ্চলের টেপরপাড়া - গোপালপুর প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার রাস্তার উপর দিয়ে তীব্র বেগে বইছে বাগুইর জলস্রোত। পাথরঘাটা, কুঞ্জবেড়িয়া, মাধবচক, রামচক, গোপালপুর, সেলমাবাদ, তালাডিহা গ্রামগুলি প্লাবিত। রাস্তাঘাট, সাঁকো, সেতু, পুকুর, ফিসারি, স্কুল সব জলমগ্ন। আগেই জানানো হয়েছে গোকুলপুর ও নৈপুর অঞ্চলের বিশ্বনাথপুর, তাপিন্দা, কানাইডাঙর, কনকপুর, খড়িগেড়িয়া, শুকেশ্বর, পুষা, অমরপুর, নৈপুর, মির্জাপুর, আয়মানচক, সাঞা বেলদা, বেলদা, মধুপুর প্রভৃতি গ্রাম প্লাবিত।
ফুঁসছে কেলেঘাই। তীব্র জলের চাপ। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে নদী তীরবর্তী লোকজনের। আমগাছিয়া, তালাডিহা সহ আরও দুটি জায়গায় দুর্বল নদীবাঁধের ভাঙন রুখতে স্থানীয় লোকজন দিন-রাত এক করে বস্তা ফেলে বাঁধ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। সেচ দপ্তর অনেক দেরিতে কাজ শুরু করেছে বলে খবর । প্রশ্ন উঠেছে, পটাশপুরের জল- যন্ত্রণা কবে ঘুচবে ? জলবন্দি মানুষ দুষছেন আগের তৃণমূল ও বর্তমান বিজেপি প্রশাসনকে। বন্যা রুখতে প্রশাসনের সুষ্ঠু কোনো পরিকল্পনা না থাকায় পটাশপুরকে বন্যার কবলে পড়তে হচ্ছে বারবার। ২০০৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের গঙ্গা এ্যাকশন প্ল্যানে কেলেঘাই-কপালেশ্বরী-বাগুই (কেকেবি) সংস্কারের পরিকল্পনা হয়।  ব্যায় বরাদ্দ হয় ৬৫০.৩৮ কোটি টাকা। ২০১০ সালে বামফ্রন্ট সরকারের শেষ পর্যায়ে এই টাকা বরাদ্দ হয়। ২০১১ তৃণমূল সরকার দেহাটি থেকে লাঙলকাটা পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার নদী সংস্কার করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কালিপদ মহাপাত্র জানান, যথাযথ পরিকল্পনা ও তা রূপায়নের অভাবে পটাশপুর, সবং ও ভগবানপুরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তৃণমূল প্রশাসন। তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষকে। তিনি আরও বলেন, প্রথম থেকেই সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে বামপন্থী দলগুলোর অভিযোগ ছিল। কিন্তু তৎকালীন প্রশাসন, সেচ দপ্তর শোনেনি। পটাশপুরের বন্যাও আটকানো যায়নি। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজনের অভিযোগ, নদী সংস্কারের নামে তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের পকেটে ঢুকেছে বরাদ্দ টাকার একটা বড় অংশ। বন্যা আটকাবার চেয়ে স্বজন-পোষণকেই তারা গুরুত্ব দিয়েছে বেশি। আর বিজেপি প্রশাসনের কথা যত কম বলা যায় তত ভালো। 

Comments :0

Login to leave a comment