SINGUR MODI

দেশজুড়ে অরাজকতার পাণ্ডা ‘মহাজঙ্গলরাজ’ হটানোর স্লোগান তুললেন সিঙ্গুরে

রাজ্য জেলা

ছবি- সিঙ্গুরে কারখানা ধ্বংসের সময় মমতা ব্যানার্জীর পাশে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং

বাংলার সব মানুষই এখন তৃণমূলের 'মহাজঙ্গল রাজের’ বদল চাইছে, সিঙ্গুরের জনসভা থেকে এমনি দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিজেপি এনডিএ-কে সঙ্গে নিয়ে যেমন বিহারের 'জঙ্গলরাজ' শেষ করা হয়েছে তেমনভাবেই তৃণমূলকে হারিয়ে বাংলায় চলা 'মহাজঙ্গলরাজ' ধ্বংস করার কথা বলেন তিনি। 
রাজ্যে তৃণমূলের অরাজক শাসনের বিরুদ্ধে সরব জনতা আগেই ‘জঙ্গলরাজ’ আখ্যা দিয়েছে এই শাসনকে। কিন্তু দেশে মোদী কেমন ‘সুশাসন’ চালান, উঠেছে সে প্রশ্নও। একদিকে একশো দিনের কাজের আইন বাতিল হয়েছে। চালু হয়েছে শ্রমকোড, শ্রমজীবী-কৃষিজীবির আপত্তি উপেক্ষা করে। বেকারি এবং কম মজুরি অর্থনীতির চিহ্ন হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি বলে বাংলাভাষী নির্যাতন-হত্যায় নীরব থেকেছেন এই প্রধানমন্ত্রীই। 
নরেন্দ্র মোদী এদিনের সিঙ্গুরের সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গে 'ডবল ইঞ্জিন' সরকার গড়ার বার্তা দেন। 
মোদী বলেন, ত্রিপুরায় বাম সরকারের আমলে ১০০টির মধ্যে চারটি বাড়িতে পানীয় জল সঠিক ভাবে পৌঁছাতো না। বিজেপি সরকার ত্রিপুরায় না আসলে একই অবস্থা থেকে যেত। বাংলায় যদি বিজেপি সরকার আসে তাহলে বাংলার পরিস্থিতিও বদলাবে বলে দাবি করেন তিনি। 
মোদী স্লোগান দিয়েছেন, ‘পালটানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’। বলেছেন তৃণমূল না হটলে বিনিয়োগ আসবে না। ঘটনা হলো সিঙ্গুরে শিল্প সম্ভাবনাকে ধ্বংস করতে তৃণমূলের সঙ্গে পুরোদমে শামিল ছিল বিজেপি। বামপন্থীরা বলেছেন, সেদিন রাজনাথ সিং-মমতা ব্যানার্জির পাশাপাশি বসে আলোচনার ছবি দেখে নিন মোদী। ওই কারখানাই চলে গিয়েছিল গুজরাটে, সেখানে তখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদীই। 
উল্লেখ্য, ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকারের সাফল্য কেন্দ্রীয় স্তরেই স্বীকৃত। বিজেপি সেখানে গুন্ডারাজ কেবল চালাচ্ছে না, বন্ধ করেছে সরকারি চাকরিতে নিয়মিত নিয়োগও। 
বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে কেন্দ্রীয় প্রকল্প " জল জীৱন মিশন'-এর মাধ্যমে জল যতটুকু পিঁছেছে তা-ই এখন বিষ হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের জন্য। 
২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি ‘ফাংশনালিটি অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’ অনুযায়ী জানা যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশের প্রায় ৩৬.৭% জলই অসুরক্ষিত। এমনকি মধ্যপ্রদেশের হাসপাতালগুলিতে যে পানীয়জল সরবরাহ হচ্ছে তার প্রায় ৮৮% বিষাক্ত।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের কলেজ ধর্ষণ ও হিংসার মতো ঘটনায় লাগাম আনতেও বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা দরকার। তিনি দাবি করেন যে, বাংলাকার মানুষের বিজেপিকে দেওয়া ভোটই নিশ্চিত করবে যে এই রাজ্যে সন্দেশখালির মতো ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে 'উন্নাও রেপ কেস' র মূল অভিযুক্ত কুলদীপ সিং সেঙ্গার কে জামিন পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় প্রশাসনই। পাশাপাশি গুজরাটের মতো রাজ্যেও বিলকিস বানু গণধর্ষণ কাণ্ডে  মূল অভিযুক্তদের মুক্তি দিয়ে তাদের গলায় মালা পরায় এই বিজেপি-ই।
রাজ্যে আরজি কর কাণ্ডে রাজ্যের পুলিশের মতই আসল অপরাধীদের ধরার বিষয়ে চোখ বুঁজে থেকেছে কেন্দ্রের সিবিআই।  
এদিনের সভা থেকেও মোদী অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও সুর চড়ান।তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। যারা ভুয়ো পরিচয় নিয়ে এদেশে এসে ভিড়ে মিশে রয়েছেন, তাদের খুঁজে বার করে নিজের দেশে পাঠানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এসআইআর প্রসঙ্গেও অনুপ্রবেশকেই বারবার হাতিয়ার করেছে এই বিজেপি। তবে বিহার নির্বাচনে ভুয়ো, মৃত ভোটারের বিষয়টি সামনে এলেও অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা সামনে আনতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তবে এই অনুপ্রবেশের জিগির এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপে আক্রান্ত হয়েছেন বহু বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিক  সহ প্রান্তিক মানুষরা। বাংলা বলার অপরাধে একাধিক গরিব মানুষকে তুলে নিয়ে তাদের বিভিন্নভাবে অত্যাচার হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment