বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণায় চিহ্নিত হলো অগ্ন্যাশয় ক্যানসার কোষের নতুন এক আণবিক অক্ষ। এই আণবিক অক্ষকে লক্ষ্য রেখেই ভবিষ্যতে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন পথ চলা শুরু হবে। বর্তমান সময়ে এই ক্যানসার চিকিৎসা বিজ্ঞানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেক সময় লেগে যায় রোগ শনাক্ত করতেই ফলে চিকিৎসার জন্য আর সময় পাওয়া যায়না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৫ থেকে ৫.৫ লক্ষ নতুন অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার রোগী শনাক্ত হয় এবং প্রায় সমসংখ্যক মানুষেরই মৃত্যু হয় এই রোগে।
ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োমেডিক্যাল জেনোমিক্সের জিন বিজ্ঞানী শ্রীকান্ত গোস্বামী ও তাঁর গবেষক ছাত্রী ড.মৌমিতা মুখার্জি গবেষণায় দেখিয়েছেন, অগ্ন্যাশয় ক্যানসার টিস্যুতে ‘সিএএসসি ১৯’ প্রোটিন টি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এটি একটি লং নন- কোডিং আরএনএ। সেটা কি? আসলে জিন থেকে প্রথমে আরএনএ তৈরি হয় তার পর সেটা থেকে তৈরি হয় প্রোটিন। কিন্তু যে আরএনএ'গুলি প্রোটিন তৈরি করে না সেগুলিকে নন কোডিং আরএনএ বলা হয়। এই ‘সিএএসসি ১৯’ একটি বড় সাইজের নন কোডিং আরএনএ। এই নন কোডিং আরএনএ গুলি আগ্ন্যাশয় ক্যানসার কোষ বেড়ে ওঠায় বড় ভূমিকা পালন করে। শ্রীকান্ত গোস্বামী তাঁর কোষভিত্তিক একাধিক পরীক্ষায় দেখেছেন এই ‘সিএএসসি ১৯’ ক্যানসার কোষের দ্রুত বৃদ্ধি ও বিভাজনকে উৎসাহিত করে এবং শরীরে অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা কে বাড়িয়ে তোলে। শুধু তাই নয় এরা ক্যানসার কোষগুলির মৃত্যুকে বিলম্বিত করে। শরীরে ক্যানসার আক্রান্ত কোষ বেঁচে থাকলে তা আরও আক্রমণাত্বকভাবে শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আরও গভীরভাবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই ‘সিএএসসি ১৯’ ক্যানসার কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। সেখানেই এটি ‘পিএসপিসি ১’ নামে একটি প্রোটিনের সাথে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া করে। যার ফলে ‘পিএসপিসি ১’ এর মৃত্যু প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। ফলে, প্রোটিনটির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই বাড়তি ‘পিএসপিসি ১’ পরোক্ষভাবে ‘বিটা ক্যাটেনিন’ নামক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনকে নিউক্লিয়াসে ধরে রাখতে সাহায্য করে। ‘বিটা ক্যাটেনিন’ যখন নিউক্লিয়াসে জমা হয়, তখন এটি একাধিক ক্যানসার উদ্দীপক জিনকে সক্রিয় করে যা শেষপর্যন্ত অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করে। আদতে ‘সিএএসসি ১৯’ -‘পিএসপিসি ১’ – ‘বিটা ক্যাটেনিন’ এই আণবিক ধারাবাহিকতা ক্যানসার বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। গবেষকদের মতে, এই ‘সিএএসসি ১৯’ ‘পিএসপিসি ’ ‘বিটা ক্যাটেনিন’ কে নিয়ে গঠিত এই নতুন আণবিক অক্ষ ভবিষ্যতে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার চিকিৎসায় লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এই অক্ষকে লক্ষ্য করে নতুন ও নির্ভুল চিকিৎসা পদ্বতি উদ্ভাবন করা গেলে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার মোকাবিলায় তা এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
pathway of pancreatic cancer
অগ্ন্যাশয় ক্যানসার রোগের এ অজানা পথ আবিষ্কার করলেন ভারতীয় জিন বিজ্ঞানীরা
×
Comments :0