অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বাড়ার ফলেই মুর্শিদাবাদ ও মালদায় দাঙ্গা বেড়েছে। শনিবার মালদহে এই সুরেই ফের বিভাজন উসকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদী বললেন, ‘‘ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশের জন্য বাংলার জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে।’’ যার সোজা অর্থ, বাংলাদেশ থেকে মুসলিমরা এসে ভিড় জমাচ্ছে এরাজ্যে।
দেশজুড়ে বাংলাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশি বলে আক্রমণ চালাচ্ছে বিজেপি-আরএসএস’র অনুগামীরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নোটিশ হাতে নিয়ে অভিযান চলেছে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে। মালদহ, মুর্শিদাবাদের শ্রমিকরা বাইরের রাজ্য থেকে ফিরছেন লাশ হয়ে। ধর্মীয় মেরুকরণের পক্ষে বিদ্বেষকে আরও জোরালো করেছেন মোদী। এদিন মালদহে এসআইআর উদ্বেগকে প্রশমিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। মোদী বলেছেন, ‘‘মতুয়াদের মতো উদ্বাস্তুদের কোনও বিপদ হবে না।’’
সেই সঙ্গে মোদীর দাবি, তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপি-কে রাজ্যের সরকারে বসালে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট রাজ খতম হবে। তিনি বলেছেন, ‘‘তৃণমূলের মদতেই বেআইনি অনুপ্রবেশ ছড়িয়ে গিয়েছে।’’
রাজ্যে বা দেশে বিজেপি বা নির্বাচন কমিশন এসআইআর পর্বে ‘ব্যাপক অনুপ্রবেশের’ প্রমাণ দিতে পারেনি।
এসআইআর’র খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে রাজ্যে। তালিকায়‘লক্ষ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা’র খোঁজ এখনও পায়নি কমিশন।
আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি সমর্থন করে মোদী বলেন, ধনবান বহু দেশো অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়লেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’
মুর্শিদাবাদে নতুন করে বিক্ষোভ অশান্তির চেহারা নেয় গত শুক্রবার। বেলডাঙার যুবক আলাউদ্দিন শেখ ঝাড়খন্ডে কাজে গিয়েছিলেন। তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। কেবল মুর্শিদাবাদে অন্তত ৫জনকে হত্যা করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বাংলাদেশি বলে বাংলাভাষীদের ওপর হামলা চলছে। প্রধানমন্ত্রীকে কোনও ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূর, উদ্বেগ জানাতেও দেখা যায়নি। সেই ক্ষোভ তীব্র হতে দেখা গিয়েছে ডোমকলে।
মোদী বলেছেন, ওডিশা, ত্রিপুরা, আসাম ও বিহারে বিজেপির সুশাসনের সরকার চলছে। বাংলাতেও সুশাসনের সরকার হবে। বিকাশের গঙ্গা বইবে।
উল্লেখ্য, এই ওডিশা, আসাম বা ত্রিপুরা নিয়মিত অশান্তি এবং বিদ্বেষের নতুন কেন্দ্র হয়েছে বিজেপি সরকারের মেয়াদে।
মোদী ‘শরণার্থী’দের প্রসঙ্গও তুলেছেন। মোদী বলেছেন, ‘‘যাঁরা আমাদের নিজেদের লোক, যাঁরা নির্যাতিত, যাঁরা শরণার্থী, সিএএ’র মাধ্যমে আমরা সেই শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিচ্ছি। তিনি বলেন, 'মতুয়াদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। যাঁরা অন্যান্য দেশে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারের শিকার হয়ে ভারতে এসেছেন, তাঁদেরও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’’
ঘটনা হলো মতুয়া প্রধান বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে এসআইআর পর্বে। শুনানি পর্বে হেনস্তার শিকার বয়স্ক, অসুস্থরা।
উল্লেখ্য, রাজ্যে নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন প্রচারে এসে তৃণমূলের দুর্নীতি ধরার বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই বা ইডি’র হানা হয়েছে। কিন্তু কোনও ঘটনায় অপরাধীরা শাস্তি পায়নি। এবার ভোটের মুখে অনুপ্রবেশের জিগির তুলছেন মোদী। ঘটনা হলো, পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার হারে উল্লেখযোগ্য কোনও বৃদ্ধি দেখাতে পারছে না কেন্দ্রের তথ্যও। রবিবার সিঙ্গুরে সভা করবেন মোদী।
Modi Infiltration
অনুপ্রবেশের জিগির মোদীর, মালদহের ভাষণে ছড়ালেন বিদ্বেষ
×
Comments :0