Abhas Roy Choudhury

বাংলাকে বাঁচানোর লড়াইয়ে বিকল্প বামপন্থীরাই, মগরাহাটে আভাস রায়চৌধুরী

রাজ্য জেলা

রবিবার মগরাহাটে বলছেন আভাস রায়চৌধুরী।

অনিল কুণ্ডু : মগরাহাট
এ রাজ্যের ভোট বাংলাকে বাঁচানোর লড়াই। এই ভোটে আরএসএস, বিজেপি, তৃণমূলকে পরাস্ত করতে হবে। রবিবার মগরাহাটে এক সাধারণ সভায় একথা বলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী। তিনি বলেন, গোটা দেশে লুটের অর্থনীতি চলছে। এসআইআর ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ৬২ লক্ষ মানুষের নাম ঝুলিয়ে রেখেছে, ভোট লুট অগণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে চলছে। খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরি করছে। আসলে লড়াই খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে লুটে খাওয়া মানুষের। শূন্য কাটানোর জন্য সিপিআই(এম) এই নির্বাচনে লড়ছে না। পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে রাজনীতি বদলের জন্য এই লড়াই। বিদ্বেষ, বিভাজনের রাজনীতি বিধানসভা দখল করেছে। এ লড়াইয়ে আরও অনেক বেশি মানুষকে শামিল করতে হবে। আরএসএস, বিজেপি, তৃণমূলকে হারাতে হবে। 
সিপিআই(এম) মগরাহাট এরিয়া কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় তিনি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক রতন বাগচী, পার্টি নেতা দীপক দাস, এরিয়া কমিটির সম্পাদক চন্দন সাহা। সভা পরিচালনা করেন পার্টি নেতা আব্দুল কায়ুম গায়েন। 
আভাস রায়চৌধুরী বলেন, তৃণমূল খারাপ। বিজেপি তার থেকেও খারাপ। ১৯৯৮সালে আরএসএস’র পরিকল্পনায় কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল, বিজেপি একই। ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের বিপুল দুর্নীতি হয়েছে। এতো ইডি, সিবিআই হলো। ভোট হয়ে গেলে আর তাদের দেখা যায় না। তৃণমূলের অন্ধ ভক্তও জানে তৃণমূল দুর্নীতিতে ডুবেছে। বিজেপি পরিবর্তন যাত্রার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে সংবাদপত্র, সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রোগ্রামের পর পরিবর্তন যাত্রার আর কোন খবর নেই। আসলে লোক হচ্ছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জানেন। নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রাজনৈতিক লাইন আছে। ওরা পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়া দেখায়। এ রাজ্যের সাধারণ মানুষ সেটা বুঝতে পারছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে জেল খাটিয়েছে। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভাইপোকে মোদী, অমিত শাহর কাছে জমা দিয়েছেন তৃণমূল, বিজেপির সেটিং মানুষ বুঝতে পারছেন। তৃণমূল জন্মের পর থেকে বিজেপির সঙ্গে ঘর করছে। তৃণমূলের জন্মের আগে রাজ্যে জাত, ধর্ম, বর্ণ নিয়ে রাজনীতি হয়নি। তৃণমূলের বিকল্প বিজেপি নয়। বিকল্প বামপন্থা। 
রতন বাগচী বলেন, কেন্দ্রে বিজেপি, রাজ্যে তৃণমূল সরকার থাকায় হিন্দু, মুসলিমরা লাভবান হচ্ছে না। লড়াই জাতের নয় ভাতের। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দামের জন্য বামপন্থীরা লড়াই করছে। হিন্দু, মুসলিম বিপদে নয়। আসলে খেটে খাওয়া মানুষ বিপদে। তৃণমূল চুরি দুর্নীতির টাকা বিলোচ্ছে। ভোটের আগে মানুষ কেনার চেষ্টা করছে। সতর্ক থাকতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় মানুষ বলছেন আপনারা আসুন। বাংলাকে, বাংলার মানুষকে রক্ষা করুন। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে নিবীড় যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। লাল ঝান্ডায় সাজিয়ে তুলতে হবে গ্রাম। প্রচার মাধ্যম তৃণমূল, বিজেপির সমর্থনে মিথ্যা প্রচার করছে। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেই ভোটে লুটেরাদের সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment