ঘরে বাইরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই ইরানের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়ুন না কেন, এক রাতের মধ্যে ইরানকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার বা প্রস্তর যুগে পৌঁছাবার হুমকি দিন না কেন বাস্তবে যুদ্ধ বিরতির আশু কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইরানের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পশ্চিম এশিয়া থেকে সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তুলে না নিলে এবং ইরানে ফের হামলা না করার গ্যারান্টি না দিলে ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। তেমনি ইরানের দাবি হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জল পথ নয়। এখানে ইরানেরই সার্বভৌম অধিকার। ইরান এবং ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করবে। তেমনি এটাও ইরান স্পষ্ট করেছে ইরানের বন্ধু দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালী পারাপার করতে বাধা নেই। আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলির জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না।
এই অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহের যে সঙ্কট তা সহজে কাটবার নয়। তাছাড়া পশ্চিম এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের তেল ও গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে যুদ্ধ থামলে তেল-গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ অদূর ভবিষ্যতে স্বাভাবিক হবার সুযোগ নেই। একদিকে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা অন্যদিকে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হবার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তার জেরে তেলের উচ্চ মূল্য দেশে দেশে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পশ্চিম এশিয়ার তেলের ওপর বেশি পরিমাণে নির্ভর এশিয়ার দেশগুলি। তার মধ্যে ভারতের দুশ্চিন্তা তুলনামূলকভাবে বেশি। মধ্য আয়ের বড় অর্থনীতি হিসাবে ভারত জ্বালানির জন্য প্রায় পুরোপুরি আমদানি নির্ভর। চমকের রাজনীতি আর দূরদর্শিতার অভাবে ভারত গত দু’দশকে তেলের কোনও মজুত ভাণ্ডার গড়ে তোলেনি। অথচ চীন সেটা করে এখন নিশ্চিন্তে আছে। তাছাড়া কয়েক বছর আগে পাইপ লাইন তৈরি করে সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে। ভারতের সামনেও তেমন দু’টি প্রস্তাব ছিল। একটি পাকিস্তান ইরানের মধ্যে দিয়ে। অন্যটি আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তানের মধ্য দিয়ে। কিন্তু হিন্দুত্ববাদী উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতির চাপে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার পরিহার করায় সেসব প্রকল্প বাতিল হয়ে যায়। ভারত জলপথেই সব তেল, গ্যাস আমদানি করতে হয়। তাই অন্য অনেক দেশের থেকে ভারত অনেক বেশি বিপদে।
পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের মুখে সরকার মরিয়া হয়ে সঙ্কটকে চাপা দেবার বা আড়াল করার চেষ্টা করছে। বারবার বলছে চিন্তার কারণ নেই, যথেষ্ট তেল আছে। মৌখিক আশ্বাস মিললেও তথ্য পরিসংখ্যান মেলে না। বলা হচ্ছে রান্নার গ্যাসের সমস্যা নেই। কিন্তু সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি করছে । গ্যাসের অভাব না থাকলে বুকিং হয় না কেন? ডেলিভারি হতে দীর্ঘ সময় লাগে কেন? দেশে অসংখ্য পণ্য উৎপাদন হয় যার কাঁচামাল আসে পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস থেকে। সেখানে কাঁচামালের দাম যেমন বাড়ছে তেমনি পর্যাপ্ত জোগান নেই। রান্নার গ্যাসের অভাবে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক কর্মস্থল থেকে নিজের রাজ্যে ফিরে আসছে। কর্মীর অভাবে অগণিত ছোট-মাঝারি শিল্প সঙ্কটে পড়েছে। এদিকে জোগানের অভাবে ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যের দাম বাড়ছে। রপ্তানি মার খাচ্ছে। টাকার মূল্য কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে। মোদীরা নিজেদের ব্যর্থতা যতই আড়াল করার চেষ্টা করুন ভারত বিপদের মুখে। তার দুর্ভোগ কিন্তু সইতে হবে সাধারণ মানুষকেই।
Iran Trump
দুর্দিন আসন্ন
×
Comments :0