মণ্ডা মিঠাই
নতুনপাতা
পৃথিবী আজ ধ্বংসের পথে?
আকাশ বিশ্বাস
২০২৬ এপ্রিল ২৬
পৃথিবী আজ ধ্বংসের পথে। এই সুন্দর পৃথিবী কে বাঁচিয়ে রাখার জন্য পালিত হয় বসুন্ধরা দিবস। এ কোনো সাধারণ দিবস নয়, পৃথিবীর রক্ষার অঙ্গীকার করার দিন।
১৯৭০ সালের ২২শে এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো এই দিবসটি পালিত হয়েছিল। মার্কিন সেনেটর গেলর্ড নেলসনের উদ্যোগে এবং পরিবেশ কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। মূলত শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং মানুষের যথেচ্ছাচারে পরিবেশের যে ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছিল, তার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই দিনটি নির্দিষ্ট করা হয়। বর্তমানে 'আর্থ ডে নেটওয়ার্ক'-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ১৯৩টিরও বেশি দেশে এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালিত হয়।
পৃথিবীতে দিনকে দিন জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই খাদ্য,বস্ত্র ও বাসস্থান তৈরির তাগিদে প্রচুর পরিমাণে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে । কিন্তু সেই পরিমাণে গাছ লাগানো হচ্ছে না। আসলে মানুষ ধ্বংসই করতে পারে , কিন্তু তা নতুন করে গড়ার স্বপ্ন দেখে এমন লোক কম। শুধুমাত্র বসুন্ধরা দিবসের দিন নয়, আমাদের নিয়মিত একটি করে গাছ লাগানো উচিত। এটাই এই দিবসের প্রয়োজনীয়তা।আমাদের প্রত্যেকটা স্কুলে স্কুলে, পাড়ায় পাড়ায় এই বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। যাতে কেউ একটা বৃক্ষ ছেদন করলে দুটো বৃক্ষরোপণ করে। এই দিনে প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উচিত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ‘ গাছ লাগাও প্রাণ বাঁচাও’, ‘ একটি গাছ একটি প্রাণ ’ এরকম নানা স্লোগানের মধ্যে দিয়ে র্যালি বের করা। ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে গাছ সম্পর্কে ভালোবাসা জন্মাতে পারে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন জানাতে হবে যে গাছ কাটার বিষয়ে যেন কঠিন আইন প্রণয়ন করা হয়। কেউ যেন চুরি করে গাছ কেটে নিয়ে যেতে না পারে তার জন্য কঠোর পাহারা বসাতে হবে সমস্ত জায়গায়। আমরা যদি পৃথিবীকে আবার সবুজ করে তুলতে পারি তাহলে আমাদের বসুন্ধরা দিবস পালনের সার্থকতা সম্পূর্ণ হবে। না হলে প্রত্যেক বছরে বসুন্ধরা দিবস পালনের কোন মানে থাকে না। এখনো সময় আছে নতুন পৃথিবী গড়ায়। পৃথিবী কি আবার বাসযোগ্য করে তোলার। আমি আহবান করছি সমস্ত তরুণ বরুণদের ‘ এসো, এগিয়ে এসো এবং তোমাদের হাতে শুরু হোক নতুন পৃথিবী গড়ে ওঠা
বসুন্ধরা বা পৃথিবী আমাদের মাতা। তাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, ২২শে এপ্রিলের এই সচেতনতাকে বছরের প্রতিটি দিনে ছড়িয়ে দিই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, সবুজ ও সুস্থ পৃথিবী উপহার দিই। আমরা যেমন আমাদের মাকে সেরা বস্ত্র পড়ে থাকতে দিই না নতুন করে সাজাতে চেষ্টা করি তেমনি পৃথিবীর রুপী মাকেও আবার নতুন করে সাজাতে হবে আমাদেরকে। নতুন বস্ত্র পরিধান করাতে হবে। আর সেই বস্ত্র হল সুনির্মল পৃথিবী যেটা কোনো কাপড়ের তৈরি নয়।
দশম শ্রেণী, কল্যাণনগর বিদ্যাপীঠ খড়দহ, উত্তর ২৪ পরগনা
Comments :0