medinipur

দুই স্কুলের সময়ের বিবাদ, বিক্ষোভ-অবরোধে মেদিনীপুর শহরে

জেলা

মেদিনীপুর শহরে কলেজিয়েট স্কুলের গেটে প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়া সহ অভিভাবকদের বিক্ষোভ-অবরোধ। ছবি: চিন্ময় কর।

সকালের প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের ঢুকতে না দিয়ে শুরু হয় হাইস্কুলের ক্লাস। ক্লাসরুমে ঢুকতে না দেওয়ায় স্কুলের গেটে পড়ুয়া সহ অভিভাবকদের তুমুল বিক্ষোভ সহ অবরোধে উত্তাল হলো মেদিনীপুর শহরের কলেজ রোড। মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনায় তাজ্জব অভিভাবক সহ শহরের মানুষ। গরমের কারনে সকাল স্কুল চালু হওয়ায় কলেজিয়েট স্কুলে এমন ঘটনা।
১৯৫৪ সাল থেকে প্রাইমারী ও হাইস্কুল একই বিল্ডিং-এ ক্লাস হয়ে আসছে,  সকালে প্রাইমারি এবং তার পর সাড়ে দশটা থেকে হাইস্কুল। বৃহস্পতিবার থেকে সকালে হাইস্কুল শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে প্রাইমারি স্কুলের ক্লাসরুম পাওয়া যায়নি এবং হাইস্কুলের কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকের পড়ুয়াদের গেটে আটকে দেয়। বিদ্যালয়ের পঠন পাঠনের সময় নিয়ে বিবাদ। তা থেকে স্কুল গেটে প্রাথমিক পড়ুয়া সহ অভিভাবক এবং শিক্ষকদের বিক্ষোভ সহ পথ অবরোধ চলে।

মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল চত্বরে দুটি প্রাথমিক স্কুল চলে। একটি মেদিনীপুর জিএসএফপি স্কুল এবং আরেকটি মেদিনীপুর কলেজিয়েট প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ বছর ধরে দুটি স্কুল কলেজিয়েট স্কুল ক্যাম্পাসের মধ্যে সকাল বিভাগে পরিচালিত হয়ে আসছে। দুই প্রাইমারির পড়ুয়ার সংখ্যা ৮০০ অধিক। হাইস্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা ১২০০ অধিক। তিনটি স্কুল সকালে হওয়ায় শ্রেণীকক্ষের সমস্যা তৈরি হয়।
এবিষয়ে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিমানী পরিয়া বলেন, "দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আগেই চিঠি দিয়ে পুরনো বিল্ডিং এ ক্লাস করার কথা বলা হয়েছে।
প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের বক্তব্য, পুরানো বিল্ডিং ক্যাম্পাসের বাইরে এবং সড়ক রাস্তার ধারে খোলা জায়গায়। সেখানকার পরিকাঠামো বিপদজনক এবং অহরহ যানবাহন ঐ বিল্ডিংয়ের গা ঘেঁষে চলাচল করে। ছোটো শিশুদের ওখানে নিরাপত্তাহীনতায় ও বিপদজনক পরিবেশে স্কুল করা সম্ভব নয়। হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজেদের পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রাথমিকের ছোটো ছোটো শিশুদের ওখানে ক্লাস করতে চাপ দেন কী করে।
কলেজিয়েট জিএসএফপি স্কুলের শিক্ষিকা সহেলি ভৌমিক বলেন, "কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা প্রাইমারি স্কুলের অফিস রুম, ক্লাস রুমে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। উনি বাচ্চাদের পুরনো ভবনে পাঠাতে বলছেন। সেই ভবনের স্ট্রাকচার খুব খারাপ। যে কোনও মুহূর্তে ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়তে পারে। সরু কাঠের সিঁড়ি দিয়ে পড়ুয়াদের উপরে উঠতে নামতে সমস্যা হবে। আমরা বলেছিলাম ইলেভেন টুয়েলভ এর পড়ুয়াদের ওই ভবনে পঠন-পাঠন হোক মর্নিং সেকশনে।"
অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, “বেহাল ওই বিল্ডিং এ পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে এলে তাদেরকে স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিক্ষক শিক্ষিকারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্কুলের সামনের সড়ক রাস্তায়। তারা তাদের সমস্যার কথা জানিয়ে এবং সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে চিঠিও দিয়েছেন।”

Comments :0

Login to leave a comment