MUKTADHARA | ANAYKATHA | JADAVPUR | MANISH DEB | 14 SEPTEMBER 2026 | 4th YEAR

মুক্তধারা | অন্যকথা | যাদবপুর | মনীষ দেব | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

নতুনপাতা/মুক্তধারা

MUKTADHARA  ANAYKATHA  JADAVPUR  MANISH DEB  14 SEPTEMBER 2026  4th YEAR

মুক্তধারা

অন্যকথা 

যাদবপুর

মনীষ দেব

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

যাদবপুর একটি গ্রামের নাম।

       হোগলার বনে ঘেরা, নীচু জলায় ভরা চাষ আবাদের একটি গ্রাম। যা জনশ্রুতিতে সোনারপুরের যাদব নারায়ণ সরকার-এর জমিদারীর অংশ। না আগে-পরে যাদবপুর নিয়ে কোনও বিতর্ক এই জনপদকে স্পর্শ করেনি। পরাধীন ভারতে ১৮৬২ সালে কলকাতা-ক্যানিং রেলপথের পর — যাদবপুর একটি গ্রামের রেলস্টেশন। যার ফলে গ্রাম থেকে মফস্বলের অভিমুখে যাত্রা।

      ১৯০৫ বঙ্গভঙ্গ রবীন্দ্রনাথ স্বদেশী আন্দোলনের নবজোয়ারে এক জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তায় — The NCE was a result of the anti-Partition Swadeshi movement. aiming to provide - Education on National Lines, ১৯০৬ সালের ১১ মার্চ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার বিকল্প হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ, রাসবিহারী ঘোষ NCE — National Council of Education প্রতিষ্ঠা করেন। যা আজকের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সেদিন রাজা সুবোধ চন্দ্র মল্লিক, ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী, মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী পরবর্তীতে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন না দাঁড়ালে যাদবপুর শিক্ষার মাইল ফলক হতো না।

     যাদবপুর শিক্ষার আরেক নাম। ১৯৩৪ যাদবপুরের মুকটে আরও পালক — স্বদেশী কালি — গান্ধীজি সেই কালির নামকরণ করেন 'সুলেখা' 'রবীন্দ্রনাথ সেই কালির বিজ্ঞাপনে লেখেন — সুলেখা কালি কলঙ্কের থেকেও কালো। কিন্তু কলঙ্কের থেকেও কলঙ্কিত কলঙ্কিনীরা যাদবপুর জুড়ে কিসের তান্ডব করবেন নির্দিষ্ট, করুন — ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার, বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, রবীন্দ্রনাথ, গান্ধীজির আলোকে আলোকিত যাদবপুরে আপনারা কারা?

যে জনমতের কথা গুন্ডামীর ভাষায় ম্যানডেড বলছেন। তার থেকে চারশো গুণ জনমত — নিউটনের গতিসূত্র পড়ে। তাই — 
   যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে — নিউটনের গতিসূত্র না চন্ডীপাঠ
                                        ডারউনের বিবর্তন না গীতাপাঠ
                                        গ্যালিলিওর জ্যোতির্বিজ্ঞান না হনুমান চালিশা
                                        ভারতের মুক্তি সংগ্রাম না মুচেলেকা লেখা
কী পড়ানো হবে তা পঠন পাঠনের মানুষরা, ঠিক করবে — গুন্ডারা নয়। রাষ্ট্র-শাসকরা যাদবপুরকে এই ভাবে দাগিয়ে দিচ্ছেন যেন যাদবপুর দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় নয় গাঁজার কারখানা, তাই নজরদারীর জন্য ড্রোন ওড়ানো হবে। কষ্ট করে ড্রোন ওড়াতে হবেনা — "বলে বোমের".... রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকুন গাজার গন্ধে ম-ম করছে বাংলার "বলে বোমের"... যাত্রা পথ, আর মেনডেড সরকার তাদের মাথায় পুষ্প বৃষ্টি করছে। যেন গাজারু "বলে বোম"দের মাথায় পুষ্পবৃষ্টি আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইটবৃষ্টি করার জন্য জনগণ ভোটের লাইনে দাড়িয়ে ভোট দিয়েছে? আসলে বিদ্বান যেখানে পা রাখতে ভয় পায়, সেখানে মুর্খেরা লাফাইয়া পড়ে। এ এক দুঃসময় যখন রাষ্ট্রযন্ত্রের চৌকিদার থেকে দফাদার সবাই গন্ডমুর্খ গাধা নিজ পাপের বোঝা বইছে। যাদবপুরেও সেই  যন্ত্রণা থেকে মুক্তি নেই। অতএব যাদের যাদবপুরের গেটে পৌছোটোর যোগ্যতা নেই তারা যাদবপুর বিশ্ববিদালয়ে গিয়ে সরকারী ব্যবস্থাপনায় খোল করটাল সহ মস্তানি করবে। এটাই নাকি বাংলার সনাতনী মেনডেড! জানি না এমন শব্দ আছে কিনা!

তবুও — আলোর যাদবপুরে — সুলেখার কালি নয় — সনাতনী কলঙ্কের কালি লাগবে — অশিক্ষার কালি লাগবে কিন্তু সনাতনীরা থাকবে না। 
আলোর যাদবপুর — আলো হয়েই থাকবে।
যাদবপুর — সুলেখা-য় লেখা নাম।
যাদবপুর — একটি গ্রামের নাম।
যাদবপুর — একটি আলোর নাম।
 

Comments :0

Login to leave a comment