Biswakarma Jalpaiguri

বাজার মন্দা, ছোট বিশ্বকর্মায় ভরসা জলপাইগুড়ির মৃৎশিল্পীদের

জেলা

দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
হাতেগোনা আর মাত্র কদিন দিন বাকি বিশ্বকর্মা পুজো। বিশ্বকর্মা পুজো ১৮ সেপ্টেম্বর, সেই উপলক্ষে অর্থ দপ্তর ছুটির নির্দেশিকা জারি করেছে। হাতে মাত্রে ৩ দিন। অথচ প্রতি বছরের মতো এবারও জলপাইগুড়ি শহরের মৃৎশিল্পীদের পাড়ায় নেই সেই চেনা ব্যস্ততা। বিশ্বকর্মার বায়নার অভাবে বড় প্রতিমার বদলে অধিকাংশ কারখানাতেই তৈরি হচ্ছে ছোট ছোট বিশ্বকর্মা প্রতিমা।
জলপাইগুড়ি শহরের মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, শুধু অর্ডার কমে যাওয়াই নয়, প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল মাটি, বাঁশ, খড়, রং-সহ বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বেড়েছে। অথচ সেই অনুপাতে প্রতিমার দাম বাড়তি দিতে রাজি নন ক্রেতারা। ফলে প্রতিমা তৈরি করে লাভ করা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ তুলতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এই মন্দার পিছনে জলপাইগুড়ির স্থানীয় কর্মসংস্থান ও শিল্প পরিকাঠামোর দুর্বলতাকেও দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বক্তব্য শহর ও জেলায় নতুন করে ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি-নির্ভর শিল্প বা গ্যারেজ গড়ে ওঠার প্রবণতা নেই। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা থেকে শুরু করে পূর্ত দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ফিটার ও মেকানিকের প্রয়োজন থাকলেও স্থানীয়ভাবে সেই কাজের সুযোগ ক্রমশ কমছে। ফলে রাজমিস্ত্রির মতো দক্ষ হাতে যন্ত্রপাতির কাজ জানা বহু মৃৎশিল্পী কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন।
একসময় জলপাইগুড়ির নামী-দামি পুরনো গ্যারেজ গুলিতেও বিশ্বকর্মা পুজোয় থাকতো উপচে পড়া ভিড়। এখন সেই ছবিও বদলেছে। গাড়ির বড় অংশের সার্ভিসিং চলে যাচ্ছে শিলিগুড়ির বিভিন্ন নামী গাড়ি সংস্থার সার্ভিস সেন্টারে। ফলে স্থানীয় গ্যারেজগুলির কাজ কমছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজনেও। শহরের গ্যারেজ মালিক রতন সাহা, বিমল সরকার, নিতাই দে ও সঞ্জয় ঘোষ জানালেন, ‘‘আগের তুলনায় গাড়ি মেরামতির কাজ প্রায় অর্ধেক কমেছে। পুজোর আগে কর্মীদের নতুন পোশাক দেওয়া বা বড় করে পুজোর আয়োজন করার মতো পরিস্থিতি আর নেই।’’
মৃৎশিল্পী হরিপদ পাল, গোপাল সূত্রধর, কার্তিক রায় ও মদন চক্রবর্তীও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আগে গ্যারেজ মালিকদের কাছ থেকে বড় প্রতিমার অর্ডার মিলত, এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছোট প্রতিমা বা ঘট পুজোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে প্রতিমার আকার ছোট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীদের আয়ও কমে যাচ্ছে। তাদের কথায়, কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত হলে বিশ্বকর্মা পুজোর বাজারও স্বাভাবিকভাবেই ছোট হয়। তাই এবছর ছোট প্রতিমা তৈরি করেই কোনোরকমে জীবিকা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাদের অভিযোগ, এই শিল্পকে বাঁচাতে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগ নেই। তাঁদের আশঙ্কা, সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া না হলে হয়তো চিরতরে হারিয়ে যাবে কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই শিল্প। তাদের আবেদন, এই শিল্পকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে পদক্ষেপ নিক সরকার।

Comments :0

Login to leave a comment