দলিত নেতাকে বন্দি করে রেখে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধেই। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির কাঞ্জাওয়ালার বিজেপি’র মণ্ডল সভাপতি সুনীল কুমার অভিযোগ করেছেন, বিধায়ক গজেন্দ্র দারাল নিজে এবং তার গুন্ডারা এই কাজ করেছেন। সুনীল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিধায়ক তাকে ডেকে পাঠান কথা বলার জন্য। সুনীল সেখানে পৌঁছালে তাঁকে আটক করে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার দিনভর তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। সুনীল অভিযোগ করেছেন, বিজেপি বিধায়ক গুন্ডাদের ডেকে পাঠান। তারা তাঁকে পাইপ, লাঠি এবং বেল্ট দিয়ে নৃশংসভাবে মারধর করে। সিসিটিভি অফ করে দেওয়া হয়, যাতে এই অপরাধের ঘটনা সেখানে দেখা না যায়। সোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি, ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে সুনীল কুমারের শরীরের পুরো পিছনের অংশে কালসিটে পড়ে গেছে। রক্ত জমাট বেঁধে আছে। ছবিগুলি শিউরে ওঠার মতো। এইরকম নৃশংস অত্যাচার অভাবনীয়। সুনীল কুমার তফসিলি জাতিভুক্ত বাল্মীকি সম্প্রদায়ের।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সুনীল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখানে সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণ রয়েছে। সুনীল লিখেছেন, তিনি চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে যেতে পারছেন না, কারণ তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কাও করছেন। সুনীল অভিযোগে জানিয়েছেন, অন্তত ১২ জন তাকে মেরেছে। তাদের মধ্যে একজন বিজেপি বিধায়ক গজেন্দ্রসিং দারাল। এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। এরপরেও লাগাতার আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, টিভি চ্যানেলে বলেছেন সুনীল কুমার। এদিকে রবিবার পর্যন্ত পুলিশ এই নিয়ে এফআইআর দায়ের না করায় প্রশ্ন উঠেছে। সুনীলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে এসসি/এসটি ধারায় মামলা দায়ের করতে হবে। দেশে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি আইনের অপব্যবহার নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্ক রয়েছে, তবে এটি অস্বীকার করা যায় না যে প্রকৃত মামলার ক্ষেত্রে এই আইনগুলির সঠিক প্রয়োগ অনেক সময়ই অনুপস্থিত থাকে।
আম আদমি পার্টি দলের দলিত মণ্ডলের সভাপতি সুনীল কুমারকে মারধরের ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক গজেন্দ্র দারালের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না করায় দিল্লি পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেছে। আপ বিধায়ক কুলদীপ কুমার সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন যে, একটি অভিযোগ দায়ের করার জন্য ওই দলিত পরিবারটি তিন দিন ধরে থানায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি’র ভেতরকার একজন দলিত পদাধিকারীই যদি নিরাপদ না হন, তবে সাধারণ দলিত কর্মীরা কীভাবে নিরাপদ বোধ করতে পারেন? তিনি অবিলম্বে এসসি/এসটি আইনের অধীনে এফআইআর দায়ের করার এবং বিজেপিকে তাদের বিধায়ককে বরখাস্ত করার দাবি জানান। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে কুলদীপ কুমার বলেন, দেশের রাজধানী দিল্লিতে বিজেপি’র দলিত-বিরোধী সরকার দলিতদের জন্য এক অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। মুণ্ডকা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি’র বিধায়ক গজেন্দ্র দারাল দলিত ও বাল্মীকি সম্প্রদায়ের সুনীল কুমারকে রাতে অপহরণ করেন, তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান, সারারাত বন্দি করে রাখেন এবং বেধড়ক মারধর করেন। সুনীল কুমার বর্তমানে খোদ বিজেপিরই মণ্ডলের সভাপতি, কিন্তু তাঁকে কেবল এই কারণেই মারধর করা হয়েছে যে তিনি বাল্মীকি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তিনি জানান, ডিসিপি-কে আমি ফোন করেছি এবং শত শত টুইট করেছি কিন্তু ডিসিপি তাঁর ফোন পর্যন্ত ধরেননি। তিনি বলেন, ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ হয়েই বিজেপি বিধায়ক বাল্মীকি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে এইভাবে মারধর করেছেন।
আপ বিধায়ক বলেন যে, দিল্লিতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলিত ও বাল্মীকি সম্প্রদায় ক্রমাগত শোষণের শিকার হয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, খুব সম্প্রতি একজন সাফাই কর্মীকে খুন করা হয়েছে, একজন বাল্মীকি যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং ত্রিলোকপুরীতেও বিজেপি’র এক প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি বাল্মীকি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছিলেন। কুলদীপ কুমার জানান যে, তিনি সুনীল কুমারের সঙ্গে দেখা করতে রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে দেখা করতে বাধা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, কোনও আক্রান্তের সঙ্গে দেখা করা কি এখন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে?
BJP Dalit Leader Tortured by Party's MLA
দিল্লিতে দলের দলিত নেতাকে নৃশংস মার বিজেপি বিধায়কের
×
Comments :0