Md Salim on Kakababu

কালা কানুন দিয়ে ইতিহাসকে বদলানো যায় না, বললেন সেলিম

রাজ্য কলকাতা

বুধবার মহাজাতি সদনে মুজফ্‌ফর আহমদের জন্মদিবসের অনুষ্ঠানে মহম্মদ সেলিম।

শাসকরা ভুলে যায় কালা কানুন দিয়ে, নিষেধাজ্ঞা জারি করে করে ইতিহাসকে বদলে দেওয়া যায় না। শাসক শিক্ষা নেয় না, আমাদের শিক্ষা নিতে হয়। বুধবার মহাজাতি সদনে ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা স্বাধীনতা সংগ্রামী মুজফ্‌ফর আহমদকে স্মরণ করে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সেলিম বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর এরাজ্যে সরাসরি বামপন্থা এবং দক্ষিণপন্থার লড়াই চলছে। তার জন্য প্রস্তত হওয়া জরুরি। শ্রেণির দাবিকে তুলে ধরে, গণআন্দোলন গড়ে তুলে দক্ষিণপন্থার মোকাবিলা করতে হবে। দিল্লির আন্দোলন প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকে দমাতে পারেনি সরকার। কাশ্মীরে পেলেট গান ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিল বামপন্থীরা। সেটা ২০১৬ সাল। এবার দিল্লিতে ব্যবহার হলো। দিল্লিতে এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি কিভাবে দেওয়া হলো? কারণ ওরা মনে করেছিল জলকামান, পেরেক লাঠি দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে না। আর এখানে গুন্ডাদমন আইন দিয়ে শায়েস্তা করার কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ এই আইন এখনও চালুই হয়নি। আসলে এরা ভয় পাইয়ে দিতে চায়। জনতা ভয় না পেলেই এরা বিপদে পড়ে।
সেলিম বলেন, আমাদের নিজেদের সংগঠনের ওপর, লক্ষ্যের ওপর ভরসা রাখতে হবে। সবচেয়ে কঠিন সময়ে তা করে দেখিয়েছিলেন কাকাবাবু।  সেলিম বলেন, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইতিহাসকে রক্ষার লড়াই চলবে। শাসক ইতিহাসকে বিকৃত করতে চায়। কমিউনিস্ট পার্টি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই নেতাদের নামে একের পর এক ষড়যন্ত্র মামলা করেছে। মহাজাতি সদনে একটি টিফোতে লেখা ছিল: ‘কমরেড মুজফ্‌ফর আহমদ: টর্চ বিয়ারার অব আজাদি।’ তার উল্লেখ করে সেলিম বলেন, আজাদি কথাটা শুনলেই ফ্যাসিস্টরা রেগে যায়। এরা মুক্তি, স্বাধীনতার কথা শুনলেই রেগে যায়। 
সংগ্রামের প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, আক্রান্ত মানুষ মানুষ লড়াই করছেন। কিছুদিন আগে কৃষকদের বলেছিল খালিস্তানি। এবার ছাত্রছাত্রীদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে। সেলিম বলেন, আরএসএস-বিজেপি ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে মন বিষিয়ে দিতে চাইছে। নতুন প্রজন্ম বিকল্প দেখিয়েছে। বিষ প্রচারের প্রতিষেধক হচ্ছে আন্দোলন।
সেলিম আরএসএস-বিজেপি প্রসঙ্গে বলেন,  এরা মানুষকে তার অধিকার থেকে বাদ দেবে। এসআইআর’র সময় বলা হয়েছিল মুসলমানদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এরপর হকার উচ্ছেদ হচ্ছে। সেখানেও বাদ দেওয়ার রাজনীতি। তিনি বলেন, লেনিনের মূর্তি যদি না বাঁচে গান্ধীর মূর্তি বাঁচবে না। গান্ধীর মূর্তি ভাঙা হলে সুভাষের মূর্তিও অক্ষত থাকবে না। বীরাপ্পনের জঙ্গলে গিয়েও দেখেছি সবাই নিষিদ্ধ, কিন্তু নেতাজীর ছবিকে নিষিদ্ধ করা যায়নি। 
সেলিম বলেন, ওরা জেলে পাঠিয়ে আটকাতে পারেনি। ভেটাগুড়ির পার্টি অফিস ভেঙেও আটকাতে পারবে না। একেবারে তৃণমূলের কায়দায় চলছে বিজেপি।

Comments :0

Login to leave a comment