নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন স্টেট এডেড বিশ্ববিদ্যালয়গুলির তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। মোদীর শিক্ষামন্ত্রকের মন্ত্রীসভার র্যাঙ্কিং-এ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। তারপরেও নির্বাচনী প্রচারসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী এদিন যেভাবে এই প্রথিতযশা শিক্ষাঙ্গনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চালালেন, তার নিন্দায় সোচ্চার শিক্ষামহল।
‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হুমকির রাজনীতি হয়, ওখানে দেওয়ালে দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা থাকে।’’ শুক্রবার বারুইপুরে প্রচার সভা থেকে এই মন্তব্য করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গায়ে কালি ছেটানোর চেষ্টা চালান বিজেপি নেতা মোদী। ঐতিহ্যমণ্ডিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিবেশকে এককথায় অরাজক এবং দেশবিরোধী আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
ঠিক কোন ধরনের অভ্যাস এবং আচরণকে ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী? বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাস, সচেতন বিজ্ঞানমনস্কতার চর্চার অভ্যাস, শাসকের অগণতান্ত্রিক ও সংবিধানবিরোধী আচরণকে প্রশ্ন করার অভ্যাস, নাকি নিম্নমধ্যবিত্ত মেধাবী পড়ুয়াদের ন্যূনতম খরচে পড়াশোনা করতে পারার, গবেষণা করতে পারার সুযোগ করে দেওয়ার অভ্যাস? প্রশ্ন তুলেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি (জুটা)’র সভাপতি ড.পার্থপ্রতিম বিশ্বাস।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি (জুটা) বিবৃতিতে জানিয়েছে," ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম।স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য।প্রভূত আর্থিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ছাত্র-শিক্ষক -গবেষক -শিক্ষাকর্মী-আধিকারিক -প্রাক্তনীদের নিরলস পরিশ্রম ও চেষ্টায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আজ উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে দেশ-বিদেশে স্বীকৃত।শিক্ষা,গবেষণার পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়ের লড়াইয়েও বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে 'ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স'-এর যাবতীয় শর্ত পূরণ করে যোগ্যতা অর্জন করেও এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বঞ্চিত করা হয়েছে। প্রতিশ্রুত রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযানের টাকাও পাওয়া যায়নি।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, " জনগণের প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখার এই দায়িত্ব সরকার অস্বীকার করতে পারেনা।যাদবপুরের ঐতিহ্য ও সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।স্বদেশী যুগে দেশপ্রেমের যে আদর্শে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম তা কখনোই দেশদ্রোহিতার সঙ্গে আপোষ করেনি বরং গবেষণা, পঠন-পাঠন, জ্ঞান ও মুক্তচিন্তার পীঠস্থান হিসেবে জগৎসভায় দেশের গৌরব অর্জনেই নিবেদিত।"
এসএফআই’র সর্বভারতীয় সম্পাদক এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘নিজের বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যে চন্দ্রযানকে উনি হাতিয়ার করতে চেয়েছিলেন, সেই চন্দ্রযান তৈরির পেছনেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন গবেষকের অবদান রয়েছে। যাদবপুর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের আঁতুড়ঘর। সুতরাং ব্রিটিশের কাছে মুচলেকা দেওয়ার ইতিহাস যাদের রয়েছে তারা যাদবপুরকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিলে আমরা বুঝবো যাদবপুর ঠিক জায়গাতেই আছে।’’
এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ এসএফআই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটির পক্ষ্ থেকে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, " নরেন্দ্র মোদির এইরূপ দায়িত্ত্বজ্ঞানহীন সম্পূর্ণ মিথ্যা বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা জানাই এবং সমগ্র ছাত্র সমাজ ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ কে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্য বোধয় হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
Modi says 'anti-national' Jadavpur univrsity
মোদীর ‘দেশবিরোধী’ যাদবপুরই আজ দেশের ১ নং বিশ্ববিদ্যালয়
×
Comments :0