বীরভূমে পাথরের রাজস্ব আদায়ে চালু হতে চলেছে বারকোড যুক্ত অনলাইন ডিসিআর ব্যবস্থা। এই ডিসিআরকে কেন্দ্র করে লাগাম ছাড়া দুর্নীতি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চলকে বদনাম করেছে। এতদিন ছাপানো ডিসিআরের মাধ্যমেই আদায় করা হত রাজস্ব। সেই সূযোগে দেদার নকল ডিসিআর, নকল সিল ছাপিয়ে স্রেফ লুটে নেওয়া হয়েছে রাজস্বের সিংভাগ। যারই পান্ডা ছিল টুলু মন্ডল। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন আর টুলুর অন্তর্ধানের পর ভূমি দপ্তর নিজে রাজস্ব আদায় শুরু করেছে। আগে তৃতীয় পক্ষকে বরাত দিয়ে এই আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বলার অপেক্ষা রাখে না, এখনও নকল ডিসিআরের কারবারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা গেলেও পুরোপুরি বন্ধ করা যায় নি জালিয়াতির কারবার। দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি ছিল অনলাইন ডিসিআর প্রথা চালুর। জেলা ভূমি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাতটায় পাঁচামী পাথর বলয়ের অন্যতম রাজস্ব আদায় কেন্দ্র রায়পুর চেকগেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইন ডিসিআর প্রদানের ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থায় গেটের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকবে। রাজস্ব আদায়ের ধার্য মূল্য টন প্রতি ২৫০ টাকা। পাথর পরিবহনকারী লরি বোঝাই করা পাথরের ওজনের স্লিপ দেখাতে হবে চেক গেটে। সেই অনুযায়ী সেই নতুন এই অনলাইন সিস্টেমে রসিদ প্রিন্ট হয়ে বেরোবে।
ভূমি দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, "জেলায় নয় টি চেকগেট রয়েছে। রায়পুর চেকগেট থেকে অনআইন ডিসিআর ইস্যু শুরু হচ্ছে। শীঘ্রই সর্বত্র এই ব্যবস্থা চালু হবে।" বীরভূম জেলা জুড়ে অবৈধ খাদানের রমরমা কারবার দীর্ঘদিনের। এই অবৈধ খাদান থেকে যে পাথর উত্তোলন করা হয়, সরকার পাথর পরিবহণকারী লরিগুলিতে জরিমানা করে সেই পাথরকে আইনি বৈধতা দেয়। খাতায়-কলমে এই জরিমানার রসিদই হলো ডিসিআর।
Online DCR
কাল থেকেই অনলাইন ডিসিআর পাঁচামীতে
×
Comments :0