সাহিদা ভারতীয় নয়। সে প্রকৃতই বাংলাদেশী। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি। বিজেপি নেতা বৃন্দাবন মণ্ডলের এহেন বক্তব্য সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দারা। সেই সাথে সাহিদা ফকিরকে বিজেপি নেতার বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান সিপিআই (এম)'র প্রবীণ নেতা হামালউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার তিনি এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে জানান, সাহিদার পূর্ব পুরুষেরা এদেশেরই বাসিন্দা। তারা গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৬নং বুথের বাসিন্দা। এসব জেনেও বিজেপি নেতৃত্ব যদি এইভাবে বাংলাভাষী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিদেশি আখ্যা দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তোলেন তা খুবই দুঃখজনক।
উত্তর ২৪পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুরের বাসিন্দা সাহিদা ফকির। অভিযোগ, গত দু সপ্তাহ আগে তাঁকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠায় মুম্বাই পুলিশ। সাহিদা বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়া উপ-জেলার ভাটিয়ালি গ্রামের গরীব কৃষক আবুল বাসারের বাড়িতে। সেখান থেকেই সাহিদা ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন তাঁর উপর হওয়া অত্যাচারের ঘটনা।যদিও সেই ভিডিও বার্তার সত্যতা যাচাই করেনি গণশক্তি ডিজিটাল। তিনি বলেছেন, গোবিন্দপুরে বাড়িতে আমার সবাই আছে , শধু বাবা নেই। তাঁর মৃত্যুর শংসাপত্রও আমাদের কাছে আছে। নেই শুধু পাসপোর্ট, বাদবাকি সব ভারতীয় নথিপত্র আমাদের কাছে আছে। গত দু সপ্তাহ আগে বাজার করতে গেলে তাঁকে মুম্বাই পুলিশ পথ আটকায়। সিআইডি পরিচয় দিয়ে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তারপরে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখে। ২৩ জুলাই মুম্বাইয়ের নাবি পুলিশ আসাম সীমান্ত দিয়ে আরও পাঁচ জনের সঙ্গে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেখানেই মুম্বাই পুলিশ তাঁর কাছে থাকা সমস্ত প্রয়োজনীয় নথী তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে তাদের পকেটে পুরে নেয়। সাহিদা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর গলায় চেন এবং হাতে আংটি ছিলো সেগুলি মুম্বাই পুলিশ ফেরত দেয়নি। বেনাপোল থেকে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বাড়িতে আশ্রয় দেন আবুল।
এহেন সাহিদাকে নিয়ে গভীর উৎকন্ঠায় দিন কাটছে তার পরিবারের। সাহিদাকে ঘরে ফেরাতে অকূল আর্তি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তার স্বামী জুম্মান ফকির। স্ত্রীকে ঘরে ফেরাতে জানকবুল লড়াই চালিয়ে যাবেন জুম্মান। মঙ্গলবার তেমনি তিনি জানান। সেই সাথে বলেন, আমার স্ত্রী সাহিদা ফকির ভারতের বৈধ নাগরিক। তাঁকে এভাবে অবৈধ ঘোষণা করে ভিনদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে না মুম্বাই পুলিশ। প্রথমে হোল্ডিং সেন্টার ও পরে আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সাহিদাকে। পরিবার তেমনি জানায়। দীর্ঘ কুড়ি বছর মুম্বাইয়ে পরিচারিকার কাজ করেছেন সাহিদা। গ্রামে কাজের তীব্র হাহাকার। মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো অভাবের তাড়নায় ছুটে বেড়াতে বেড়াতে একসময় নবি মুম্বাইতে স্বামী জুম্মানের সাথে গাড়ি ধোয়ার কাজে সাহিদা চলে যায়। এরপর কাজ নেয় গৃহ পরিচারিকার। মুম্বাইয়ে বাজার করতে গিয়ে মুম্বাই পুলিশ গত ১৯ জুলাই তাঁকে আটক করে ধরে নিয়ে যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তারপরে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখে। তাঁর স্বামী ও পরিজনেরা জানতে পারলে তারা জানান যে, তিনি ভারতীয় বাসিন্দা। ভোটের আই কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড সহ একাধিক নথিপত্র নিয়ে হাজির হলে জানতে পারেন যে, তাঁকে ২৩ জুলাই মুম্বাইয়ের নাবি পুলিশ আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশী বলে।
Shahida Fakir
বিজেপি নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ সাহিদার গ্রামে
×
Comments :0