মাঝরাতে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে বহিরাগত বিজেপির গুন্ডা বাহিনী তান্ডব চালায়। এবিভিপি, এনএসএফ সহ বহিরাগত বিজেপির যুব মোর্চার বাহিনী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনের সামনে এসএফআই সহ বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। সেই মুহূর্তে কোনও ক্রমে অরবিন্দ ভবনের ভিতরে গিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করে বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা। তখন বাইরে থেকেই এবিভিপি সহ বহিরাগত বিজেপির যুব মোর্চার বাহিনী বাইরে থেকে ভেতরে থাকা ছাত্রদের ওপর পাথর ছুঁড়তে থাকে। পাশাপাশি এসএফআইয়ের পতাকায় আগুন ধরিয়ে তাও ভেতরের দিকে ছুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। রাত ২ টো অবধি সাইন্স, আর্টস সহ ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির প্রায় 70 জন অরবিন্দ ভবনের ভেতরে আটকে রয়েছেন। এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন এসএফআই সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সকাল ১১ টায় নাগরিক জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং ফেকাল্টির ছাত্রসংগঠন ফেটসু (FETSU) -র জেনারেল বডি মিটিং চলাকালীন এই ঘটনার সুত্রপাত হয় বলেই জানা যাচ্ছে। সেই মিটিং এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক পড়ুয়াকে এবিভিপি মারধর করে বলেও জানা যাচ্ছে। বর্তমানে সেই ছাত্র কেপিসি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এসএফআই- র অভিযোগ, এনএসএফ ও এবিভিপি'র নিখিল দাস ও সোমসূর্য ব্যানার্জি নামে দুই কর্মী জেনারেল বডি মিটিং চলাকালীন 'দেশদ্রোহী' বলে ছাত্রদের উপর চড়াও হয়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অল্প বিস্তার বচসা হলেও পরে তা মিটে যায়। এরপর, যাদবপুরের বিজেপি বিধায়িকা শর্বরী মুখার্জির মদতে রাত বারোটা নাগাদ এবিভিপি সহ বহিরাগত যুব মোর্চার একটি দল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসে এই হামলার ঘটনাটি ঘটায়। গোটা ঘটনাটি যখন ঘটছে তখন বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত নিরাপত্তা কর্মীদের গোটা ঘটনায় নিশ্চুপ থাকেন। যাদবপুর থানায় জানানো হলেও সেখান থেকে এখনও অবধি কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ উপাচার্যকে ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। এমনকি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হোস্টেলের সামনে ছাত্রদের লক্ষ্য করে গালিগালাজ বিজেপির যুব মোর্চার গুন্ডারা। মেন গেট ভাঙার চেষ্টা হয়। নিরাপত্তা রক্ষীরা দাঁড়িয়ে দেখেন সেই ঘটনা। মেন হোস্টেলের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে যাদবপুর থানা। সেখানেও পুলিশ আসেনি বলে অভিযোগ।
এসএফআই সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, "ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির কিছু ছাত্র তারা নিজেদের মধ্যে সভা করছিল সেখানে এবিভিপির গুন্ডারা ঢুকে পড়ে প্রোভোকেশন তৈরি করার চেষ্টা করে অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করে। দুই পক্ষের মধ্যে বচসা হয়। তারপর শুনছি বিজেপির গুন্ডারা নাকি ঢুকে পড়েছে এবং তারা গিয়ে নাকি ভাঙচুর চালাচ্ছে ক্যাম্পাসের ভিতরে।"
সৃজন বলেন, "যাদবপুরকে যদি এত অপছন্দ হয় তাহলে ছাত্র ভোট ঘোষণা করুন না। এসএফআই সহ বাকি ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে এবিভিপি ছাত্র ভোটে লড়াই করুক না গণতান্ত্রিকভাবে। যদি তারা ঠিক হয় তাহলে যাদবপুরের ছাত্ররা বেছে নেবে তাদের।"
এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, "যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আরএসএস, এবিভিপি সহ বিজেপি বিধায়িকার নৃশংস আক্রমণ , অরবিন্দ ভবনে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এমনকি গুন্ডা দিয়ে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মারধরও করা হয়েছে। এই আক্রমণ আসলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মুক্তমনা গণতান্ত্রিক পরিবেশ তার ওপরে আক্রমণের চেষ্টা। এভাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সাংবিধানিক কালচার তাকে আরএসএস বিজেপি ধ্বংস করতে পারবে না। কোনও আগুনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে পড়ানো যায়নি, যাবে না।"
Comments :0