শঙ্কর ঘোষাল: মেমারি
বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪ – ১৬ টাকা। তবে। রাজ্যের বেশিরভাগ জেলায় আলু চাষ করে এখন কৃষক আলু চাষ করে দেউলিয়া। মাত্র ১০০ টাকা ফ্রি বন্ড। চাষি ৫০০ কেজি আলু বিক্রি করলে দাম ১০০ টাকা। মাত্র ২টাকা কেজি। ডবল ইঞ্জিন সরকার কোথায়? মেমারির গন্তার গ্রামের বড় কৃষক বিশ্বরূপ মন্ডল বলেছেন, মাঠ থেকে হিমঘর পর্যন্ত আলু বস্তা সহ পৌঁছাতে খরচ ৬০ টাকা। তাহলে বস্তা পিছু আলুর দাম মাত্র ৪০ টাকা। ৩০ টাকা বস্তা, মাঠ থেকে গাড়ি ভাড়া ২০ টাকা ও মুটে সহ অন্যান্য খরচ ধরলে কৃষক আলু চাষ করে দেউলিয়া।
আলু চাষি তপন পাল বলেছেন, আর আলু চাষ করবো না। চাষ করে কি অপরাধ করেছি যে এমনভাবে ঋণের ফাঁসে ডুবে মরতে হবে? বিকল্প কাজ পেলে চাষ ছেড়ে দিতাম। এই সময় আমন ধানের চাষ চলছে জোর কদমে চাষির টাকার প্রয়োজন কিন্তু চাষির আলু হিমঘরে মজুত থাকলেও বিক্রি নেই। মঙ্গলবার মেমারি থানার দেহুড়া গ্রামের কৃষক তাপস ঘোষ এই কথাই শুনিয়েছেন। হিমঘরে চাষি পাচ্ছে কেজি প্রতি ২টাকা দর সেই আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ টাকা। চাষিরা বলছেন, ফড়েদের রাজ চলছে। অসহায় কৃষক চোখের জল ফেলছেন। ভোটের আগে সরকারি সহায়ক মূল্যে আলু কেনার ধাপ্পা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আলু মাঠে নেমে কেনার ক্ষেত্রে সরকারের দেখা মেলেনি। পূর্ব বর্ধমানে কোথাও আলু কেনার ছবি চোখে পড়েনি। ভোটের আগে ও পরে ডবল ইঞ্জিন সরকার আলু নিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু একটাও পালন করতে চোখে পড়ছে না। চাষি আলু হিমঘরে রেখে কাঁদছেন। কৃষক’রা বলছেন, সরকার বদলেছে কিন্তু সরকারের কৃষকের প্রতি সহায়ক নীতি থাকা উচিত তা মোটেই চোখে পড়ছে না। একটা
আলুর দাম তলানিতে চলে যাওয়ায় দর এতটাই কম যে চাষের খরচটুকু উঠবে না। কৃষি প্রধান পূর্ব বর্ধমানে এই ঘটনাকে ঘিরে কৃষকের ক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। চাষির এই চরম সর্বনাশের চিত্র দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বামপন্থী কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষকসভা। আলু সরকার যাতে সহায়ক মূল্যে কিনে নেয় তার জন্য জেলাজুড়ে আন্দোলনে ছিল বামেরা, জাতীয় সড়ক অবরোধও করেছে। তারপর সরকার বদলেছে কিন্তু নীতি বদলায়নি।
চাষিদের দাবি, বিঘা প্রতি আলু চাষের খরচ ৩২ হাজার টাকা, সারের কালোবাজারী, বীজের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারের কোন হেলদোল ছিল না। উৎপাদন খরচ এতটাই বেড়েছে যে, অভাবী দামে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতোর লোকসানে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে কৃষক। কৃষি বিপণন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলায় আলু চাষ অনেকটাই বেশি হয়। প্রায় ৭০-৭২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়ে থাকে। যেখান থেকে আলুর উৎপাদন হয় প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টনের মতো। তবে, এবার চাষের এলাকা কমেছে। আলুতে গত কয়েক বছর ধরে টানা লোকসানের পর আলু চাষ কমে ৬৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছিল। কিন্তু উৎপাদন প্রায় দেড়গুন বাড়ার ফলে চাষি পড়েছে গভীর সংকটে।
চাষিরা অভিযোগ করেছেন গত চাষের মরসুমে এক বস্তা ইউরিয়ার দাম ছিল ২৬৬ টাকা। কিন্তু বাজার থেকে চাষের সময় চড়া দরে কালোবাজারে কিনতে হয়েছিল ৪৭০ টাকায়। তেমনই ১০:২৬:২৬ সার এক বস্তার প্রিন্টেড দাম ১৭৭০ টাকা। কিন্তু চাষের সময় কালো বাজারে বিক্রি হয়েছে ২০৫০ টাকা। এবার নাকি সারের দাম আরও বাড়বে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। সরকার বদলের পরও কৃষককে কালো বাজারেই চড়া দরে সার কিনে চাষ করতে হচ্ছে। বর্তমানে যা আলুর দাম তাতে বিঘে প্রতি ৭০০০ টাকা ফসলের দাম পাচ্ছেন কৃষক। কিন্তু এক বিঘে আলু চাষ করতে খরচ হয়েছে ৩২-৩৪ হাজার টাকা। কতটা লোকসান তাহলে? তাই চাষের এই ভরা মরসুমে কৃষকের মন খারাপ। আলু বিক্রি করতে না পেরে চাষের খরচ তুলতে হাত পাততে হচ্ছে ফের মহাজনের কাছে। কিন্তু সরকারের কোন হেলদোল আছে? ভালো তৃণমূল, কালীঘাট তৃণমূলের সাথে ডবল ইঞ্জিন সরকারের নীতির কোন ফারাক খুঁজে পাচ্ছেন না সংকটের মুখে পড়া কৃষকরা।
Potato Bonds
দাম কমল আলুর বন্ডের, চোখের জল ফেলছেন অসহায় কৃষকরা
×
Comments :0