সিপিআই(এম)’র প্রয়াত নেত্রী কমরেড তানিয়া চক্রবর্তীর স্মরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে পার্টির পতাকা লাগানোর সময়েও পানিহাটিতে বিজেপি’র হামলার শিকার হয়েছেন সিপিআই(এম)’র কর্মীরা। রবিবার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে স্মরণসভার শেষে এই হামলার প্রতিবাদে প্রতিবাদে মিছিলে অংশ নিয়েছেন সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক পলাশ দাশ সহ পার্টি নেতৃবৃন্দ। স্মরণ সভায় মহম্মদ সেলিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী সহ বিজেপি নেতারা ‘দিমাগি নকশাল’ সহ নানা শব্দ প্রয়োগ করে প্রতিবাদীদের বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে জনগণের থেকে। তাদের উসকানিতেই গুন্ডাবাহিনীর হামলা ঘটছে শিক্ষাঙ্গন সহ সর্বত্র। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেই এর প্রতিরোধের লড়াই করতে হবে।
গত ১১ জুলাই জীবনাবসান হয় মহিলা আন্দোলনের ও সিপিআই(এম)’র প্রবীণ নেত্রী এবং প্রাক্তন বিধায়ক তানিয়া চক্রবর্তী। রবিবার তাঁর স্মরণসভা উপলক্ষে শনিবার রাতে পার্টির পতাকা লাগানোর সময় অতর্কিতেই পার্টি কর্মীদের ওপর হামলা করে বিজেপি’র একটি বাহিনী। জখম হন বেশ কয়েকজন পার্টি কর্মী। এরমধ্যে পাটিকর্মী নির্মল জানা এবং ইন্দ্রনীল সেন গুরুতরভাবে জখম হন। নির্মল জানার হাত ভেঙে যায়। এদিন স্মরণসভার শেষে এই ঘটনার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ মিছিল লোকসংস্কৃতি ভবন থেকে বেরিয়ে বিটি রোড ট্রাফিক মোড় হয়ে সোদপুর স্টেশনের সামনে শেষ হয়। ধিক্কার জানানো হয় হামলাকারীদের।
লোকসংস্কৃতি ভবনে স্মরণসভায় মহম্মদ সেলিম বলেছেন, বিজেপি’র শাসনে সারা দেশে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, প্রতিবাদের আওয়াজ তুলছে গোটা দেশ। কমরেড তানিয়া চক্রবর্তীর সৃজনশীল কাজ ও রাজনৈতিক জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে এই প্রতিবাদকে জোরদার করতে মানুষকে একজোট করতে হবে, বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে যাতে আরও অনেক ধরনের প্রতিবাদী মানুষ, ব্যক্তিত্ব, গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ মানুষকে এই লড়াইতে শামিল করা যায়।
সেলিম বলেন, কখনো হার্মাদ, কখনো আর্বান নকশাল, কখনো দিমাগি নকশাল, ইত্যাদি তকমা দিয়ে প্রতিবাদকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হচ্ছে। এগুলো নিছক কয়েকটা শব্দ নয়, যারা প্রতিবাদ আন্দোলন করছেন তাঁদের কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে শাসকদল দেখাতে চাইছে তারই ইঙ্গিত। এসব ক্ষেত্রে শব্দগুলিকে কোনও সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে চলবে না, এগুলি ব্যবহারের পিছনে শাসকদলের বৃহত্তর উদ্দেশ্যকে বুঝতে হবে। এর মাধ্যমে ওরা প্রতিবাদী মানুষের ঐক্য ভেঙে বিচ্ছিন্ন বিভক্ত করতে চাইছে। দেশে এবং এ রাজ্যে মুক্ত ভাবনার যে বিস্তার ছিল সেখান থেকে একটা সঙ্কীর্ণ জায়গায় মানুষকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে এখন। উগ্র জাতীয়তাবাদের জয়গান করতে গিয়ে আরএসএস বিজেপি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে ছোট করে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে বড় করে দেখাতে চেষ্টা করছে। পোশাক খাদ্য সবকিছু নিয়ে মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি করতে চাইছে। দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা ও সমস্যা নিয়ে সবাই জর্জরিত, অথচ সেই মানুষকেই পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
মহম্মদ সেলিম বলেন, গোটা বিশ্বে বিশ্বায়নের নাম করে উগ্র দক্ষিণপন্থীরা এখন শোষিতদের ভাগ করে দুর্বল করে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যকে টিকিয়ে রাখতে চাইছে। অপরদিকে দুনিয়া জুড়ে কমিউনিস্টরা সকলকে একজোট করতে চায়। আমাদের প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। জাত ভাষা ধর্ম এইসবের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে সংগ্রামে শামিল করাটাই আমাদের কাজ।
এদিন সভার শুরুতে কমরেড তানিয়া চক্রবর্তীর প্রতিকৃতিতে ফুল মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সিপিআই(এম)’র রাজ্য ও জেলা নেতৃবৃন্দ, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপি’র নেতৃবৃন্দ, সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেত্রীবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করেন দুলাল চক্রবর্তী। মহম্মদ সেলিম ছাড়াও সভায় শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন পার্টির উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটি সম্পাদক পলাশ দাশ, পার্টি নেত্রী রেখা গোস্বামী, পার্টির জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মানস মুখার্জি, জেলা কমিটির সদস্য শুভব্রত চক্রবর্তী, অনির্বাণ ভট্টাচার্য। কমরেড তানিয়া চক্রবর্তীর স্মরণে প্রস্তাব পাঠ করেন ঝন্টু মজুমদার। প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে মতাদর্শে শাণিত হয়ে প্রতিরোধের সংগ্রামকে দৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
পলাশ দাশ বলেন, কমরেড তানিয়া চক্রবর্তী শুধুমাত্র মহিলা আন্দোলনের নয়, তিনি ছিলেন পার্টির নেত্রী। বর্তমানে আরএসএস বিজেপি যে বিষাক্ত ক্লেদাক্ত পরিবেশ নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও সংগঠিত হচ্ছে সর্বত্রই। আরও যোগ্যতার সঙ্গে মানুষের সাথে মিশে তাঁদের এই লড়াইতে শামিল করতে উদ্যোগী হতে হবে আমাদের।
cpim md salim
বিজেপি শাসনে ক্ষোভ বাড়ছে, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিবাদ জোরালো করুন, পানিহাটিতে মহম্মদ সেলিম
×
Comments :0